করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৪

আগের সংবাদ

কুমিল্লা-কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই

পরের সংবাদ

উপনির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি

মনোনয়ন পেতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

রুমানা জামান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ , ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ

 ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর এবার জাতীয় সংসদের ৫টি আসনের উপনির্বাচনেও অংশ নিচ্ছে বিএনপি। সরকারের বিরুদ্ধে ইভিএমে ভোট চুরিসহ নানা অভিযোগের পরে এই কমিশনের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না দলের মধ্যে এমন আলোচনা ছিল। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিনিয়র নেতারা।

ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ আসনে আগামী ২১ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ তিন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ ফেব্রুয়ারি ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ ফেব্রুয়ারি। বাকি দুই আসন বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে নানা তৎপরতা শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে নির্বাচনে অংশ নেয়া না নেয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত উঠে আসে। কেউ সিটি ভোটের চিত্র তুলে ধরে নির্বাচনে অংশ নেয়াটা অনর্থক হবে বলে মত দেন। তারা বলেন, সংগঠন শক্তিশালী না করে ভোটে গেলে লাভের চেয়ে ক্ষতির পাল্লাই ভারি হবে। এভাবে ভোটে অংশ নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বৈধতা দেয়ার কোনো মানে হয় না।

তবে স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্যই নির্বাচন বর্জনের বিপক্ষে মত দেন। তাদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকা মানে আরো পিছিয়ে থাকা। ভোটে অংশ না নিলে সরকারই শূন্য আসনগুলো ফের দখল করবে। ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেয়াটা বোকামি হবে। নির্বাচনের মধ্যে থাকলে নেতাকর্মীরাও চাঙ্গা হবে। গতি পাবে সংগঠনও। সবার মতামত শুনে বৈঠকে স্কাইপিতে সংযুক্ত থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখান।
সূত্র জানায়, শূন্য আসনগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটের প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে দলটির পক্ষ থেকে মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে। হাইকমান্ডের গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সিনিয়র নেতাদের কাছ ঘেঁষে থাকছেন। নেতাদের চোখে পড়তে দলীয় কার্যালয় ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শোডাউন করছেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের ছেড়ে দেয়া শূন্য আসনে (ঢাকা-১০) উপনির্বাচনের বিএনপির প্রার্থী হতে চান দলটির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ধানমন্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলম ও আবদুল মান্নানের মেয়ের জামাই দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে অসীমের ভালো সম্পর্ক রয়েছে বলেও দলীয় সূত্র দাবি করে। উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী কিনা জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম বলেন, দল আমাকে উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান। বর্তমানে আবদুল মান্নান বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। তিনি ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না। তাই উপনির্বাচনে তাকে আর প্রার্থী করা হবে না এটা নিশ্চিত।

গাইবান্ধা-৩ আসনে একাদশ নির্বাচনে জোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) ছেড়ে দেয়া হয়। এবার এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন- জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলা বিএনপির সদস্য ড. মিজানুর রহমান মাসুম ও সাদুল্যাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম স্বপন।

বাগেরহাট-৪ আসনটি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেয়া হয়। ওই নির্বাচনে জেলা জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবদুল আলিম ধানের শীষের হয়ে নির্বাচন করেন। এ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেতে আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জেলা নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন ও জাতীয়তাবাদী মৎস্য দলের কেন্দ্রীয় নেতা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির।

বগুড়া-১ আসনে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম। এবারো তিনি মনোনয়ন চান। এ ছাড়া জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন চৌধুরী ও সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকিরও ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী।
যশোর-৬ আসনে একাদশ সংসদে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন দলটির কেশবপুর উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। এবারও তিনি ভোটে লড়তে চান। এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু ও কেশবপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুস সামাদ বিশ্বাসও প্রার্থী হতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মত দিয়েছেন। তবে প্রার্থী কারা হবেন সে ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এসআর