রোহিঙ্গাদের কারণে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর খুনিকে হস্তান্তরের আহ্বান

পরের সংবাদ

জনসম্মুখে বৃত্তান্ত: আসামি ধরতে আর গড়িমসি নয়

কামরুজ্জামান খান

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ , ৭:১৬ অপরাহ্ণ

অপরাধীদের ধরতে আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) তামিল করতে গিয়ে পুলিশের লুকোচুরির অভিযোগ বহু পুরানো। সেইসঙ্গে আদালত ও থানার নথির মধ্যেও দেখা যায় ব্যাপক গড়মিল। আর পরোয়ানা তামিল করা নিয়ে ‘বাণিজ্যিক’ রাখঢাক তো রয়েছেই। দীর্ঘদিনের এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে এবার জনসম্মুখে তাদের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

আসামিদের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত পরিচিতি তার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল স্থানে টাঙ্গিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা জেলা পুলিশ এ কার্যক্রম শুরু করলেও এখন তা ঢাকা রেঞ্জের অধিভুক্ত ১৩ জেলার ৯৬ থানাতে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে এর সুফল মিলতে শুরু করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের প্রত্যেকটি থানায় শত শত ওয়ারেন্ট পড়ে থাকলেও আসামি ধরার ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। নানা অজুহাতে ওয়ারেন্ট গোপন করে হাতে গোনা কিছু পুলিশ ‘লাভবান’ হওয়ার পথ খোঁজেন। এতে থানায় জমতে থাকে একের পর এক ওয়ারেন্ট। পাশাপাশি পুলিশ ‘লাভবান’ হওয়ার কারণে থানা ও আদালতের রেজিস্ট্রারের সঙ্গে পরোয়ানার সংখ্যাতে ব্যাপক গড়মিল হয়ে যায়। এমন ‘পরোয়ানজট’ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে পুলিশ বিভাগ নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে থানা পুলিশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের পাশাপাশি আসামিদের সংশ্লিষ্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে পরিচিতিসহ তালিকা টাঙ্গানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও চৌকিদারের কাছে আসামিদের তালিকা পৌঁছানো ও ইউপির নোটিশ বোর্ড, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তা সাঁটানো হচ্ছে। এতে ওয়ারেন্টের বিষয়ে সাধারণ মানুষ যেমন জানতে পারছেন, তেমনি পরোয়ানি তামিল নিয়ে পুলিশের গড়িমসির কোনো সুযোগও থাকছে না।

জানতে চাইলে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, ওয়ারেন্ট গুরুত্বপূর্ণস্থানে সাঁটানোর কারণে সর্বত্র এ খবর ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পরোয়ানাভুক্তরা হয় এলাকা ছাড়ছে না হয় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হচ্ছে। ইতোমধ্যে এর সুফল মিলতে শুরু করেছে।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান জানান, গেল বছরের জুন থেকে এ উদ্যোগ নেয়ার পর থেকে ঢাকা রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত থানায় ওয়ারেন্টের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমে আসতে শুরু করেছে।

ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান জানালেন নতুন উদ্যোগ নেয়ার কারণে পরোয়ানা তামিল (কার্যকর) করার হার যেমন বেড়েছে তেমনি আসামিদের আদালতে আত্মসমর্পণ করার প্রবণতাও বেড়েছে। তাছাড়া আসামিদের তালিকা সাঁটানোর ফলে অনেক এলাকার মানুষ গোপনে ওই ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তাও করছে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান আরো বলেন, জিআর (জেনারেল রেজিস্ট্রার), সিআর (কোর্ট রেজিস্ট্রার) ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পরোয়ানা নিয়ে আদালত ও থানা পুলিশের মধ্যে হিসেবের যে গড়মিল ছিল তা কমে আসতে শুরু করেছে।

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে ঢাকা রেঞ্জের এ উদ্যোগ পুলিশের অন্য ইউনিটের কাছে অনুকরণীয় বলে মনে করছেন অনেকেই।

এনএম