কুমিল্লা-কক্সবাজারে বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই

আগের সংবাদ

সার্সকে টপকে গেল করোনা

পরের সংবাদ

উদ্যানে সৃজনশীল সম্ভার পিছিয়ে নেই প্রাঙ্গণ

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২০ , ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

পাঠক আর বইপ্রেমীদের ভিড়ে একটু বেশিই ঠাসা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ। উন্মুক্ত চত্বরের ওপাশে জলের হাতছানি, আড্ডায় মেতে ওঠার টান। সঙ্গে খাবার দাবারের যথেচ্ছ জোগান। তাছাড়া উদ্যান অংশে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলোর সৃজনশীল বইয়ের বিশাল সম্ভার। মন যেমন টানে, প্রাণেও দোলা দেয়। হঠাৎ আসা কোনো পাঠক ধরেই নেয়, মেলা বুঝি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরেই।

তবে পশ্চিম পাশের রাস্তা ডিঙিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে পা দিয়েই মনে হতে পারে বিচিত্র বইয়ের সম্ভার অজানাই থেকে যেত বুঝি। উদ্যান অংশের চেয়ে কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই একাডেমি প্রাঙ্গণ। এখানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছে স্টল আর প্যাভিলিয়ন। নান্দনিকতার কোনো কমতি নেই কোথাও। একাডেমির পুকুরপাড়েও রয়েছে ম্যারাথন আড্ডার সুযোগ।

একাডেমি প্রাঙ্গণে সরকারি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের বিচিত্র বইয়ের আয়োজন। শিশু একাডেমিতে মিলবে শিশুদের জন্য অনেক বই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’, ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর গল্প’, ‘ছোটদের বিজ্ঞান কোষ’, ‘শিশু বিশ্বকোষ’, ‘বাংলা অভিধান’ আরো কত বই। বেচাবিক্রিও কিন্তু বেশ। সেটা জমে উঠেছে আগের দিন থেকে। এখন শুধু বাড়ছে।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে আছে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক নানা বই। সেন্টার ফর রিচার্স এন্ড ইনফরমেশন প্রকাশ করেছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গ্রাফিক নভেল ‘মুজিব’ এর সপ্তম খণ্ড। এবারের গ্রাফিক নভেলটির নাম ‘অ্যাকশন ডে’। জাতীয় জাদুঘর থেকে প্রকাশিত হয়েছে বেশকিছু উল্লেখযোগ্য বই। এর মধ্যে রয়েছে ‘আলোকচিত্রে সেকালের ঢাকা’, ‘বাংলাদেশের দারুশিল্প’, ‘ট্র্যাডিশনাল জামদানি’। কাটতিও বেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা সংস্থায় রয়েছে মূলত গবেষণাবিষয়ক অনেকগুলো বই। গুরুত্বপূর্ণ সব বই পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিতেও। এর মধ্যে বাংলা পিডিয়া, জুনিয়র বাংলা পিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস বিক্রির তালিকায় উপরের দিকে।

মূলমঞ্চের আয়োজন : বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লিখিত উপন্যাসগুলোকে শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক দুটি দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখার অবকাশ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস সমার্থক। তিনি হলেন, সেই মহামানব যার মধ্যদিয়ে আমরা স্বদেশকে উপলব্ধি করতে পারি।

বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত মিল্টন বিশ্বাস রচিত উপন্যাসে বঙ্গবন্ধু শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা এভাবেই মূল্যায়ন করলেন জাতির পিতাকে। এসময় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রশান্ত মৃধা। আলোচনা করেন পাপড়ি রহমান ও মোজাফ্ফর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। সন্ধ্যায় ছিল কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি হালিম আজাদ, শাকিরা পারভীন, বায়তুল্লাহ কাদেরী ও নাজমুল হুসাইন বিদ্যুৎ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী রফিকুল ইসলাম, ডালিয়া আহমেদ, শুচিতা সপর্যা। সংগীত পরিবেশন করেন ফকির আজমল শাহ, মো. আনোয়ার হোসেন, কাঙালিনি সুফিয়া, আমজাদ দেওয়ান, মমতা দাসী বাউল এবং প্রশান্ত সরকার।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন পারভেজ হোসেন, ওবায়েদ আকাশ, মোস্তফা হোসেইন এবং খায়রুল বাবুই।

এসআর