স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া, গলায় ফাঁস দিলেন স্ত্রী

আগের সংবাদ

শিশু প্রহরে শিশুদের ঢল

পরের সংবাদ

খালেদার মুক্তি রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২০ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক মামলায় জেলে নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক কারণে সরকার যদি খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করতো, তাহলে রাজনৈতিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার প্রশ্ন আসতো। যেহেতু রাজনৈতিক কারণে এই মামলা হয়নি সেহেতু রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদে। শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে নবনির্বাচিত মেয়রদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট জালিয়াতির কোনও সুযোগ ছিল না। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ছোট খাটো ভুল ত্রুটি বাদ দিলে নির্বাচনটি একটি ভালো নির্বাচন হয়েছে। যারা পর্যবেক্ষক ছিল তারাও কিন্তু বিরূপ মন্তব্য করেনি একমাত্র বিএনপি ছাড়া। বিএনপি বিষোদগার করছে কারণ তারা হেরে গেছে। তাদের বিষোদগার এতো বেড়ে গেছে যে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছে। তাদের আন্দোলনের হুমকি দেখে আমরা অভ্যস্ত । এগুলা আমরা বারবার শুনে আসি।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আন্দোলন করে মুক্ত করবে তারা। আন্দোলন তারা করুক। কিন্তু আন্দোলন করছে কার বিরুদ্ধে, আন্দোলন করছে আদালতের বিরুদ্ধে। খালেদা জিয়াকে তো এই সরকার মামলাও দেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েছে এই মামলা। এখানে সরকার যদি রাজনৈতিক কারণে তাকে জেলে নিতো, এটা রাজনৈতিক মামলা নয়। রাজনৈতিক কারণে সরকার যদি খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করতো, তাহলে রাজনৈতিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার প্রশ্ন আসতো। যেহেতু রাজনৈতিক কারণে এই মামলা হয়নি সেহেতু রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই। যদি তারা মনে করে আন্দোলন করে সরকারকে বাধ্য করবে, বাধ্য তো সরকারকে তারা করতে পারে না, বাধ্য করতে পারে আদালতকে। সেটা কতটা সমীচীন, কতটা যুক্তিযুক্ত, আদালতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, তারা কেন করছে, এটা কোন গণতন্ত্র – আমি ড কামাল হোসেন সাহেবকে জিজ্ঞেস করতে চাই।

আন্দোলনের নামে সহিংসতা করলে দাঁত ভাঙা জবাব দেয়ার কথা উল্লেখ করে কাদের বলেন, তারা যেই আন্দোলনই করুক, তারা আন্দোলন ডাক দিতে পারেন, তারা আন্দোলন করতে চাইলে করবেন। সরকার হিসেবে জনগণের জানমালের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। কোন আন্দোলন যদি রাজনৈতিক হয়, আমরা সেটা রাজনৈতিক ভাবেই মোকাবিলা করবো। কিন্তু আন্দোলনের নামে যদি সহিংসতা হয়, যেটা তারা বারবার করে আসছে, সেরকম আন্দোলন তারা করতে চাইলে মোকাবিলা করা হবে, আমরা দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবো।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশের অনুমতি প্রাপ্তি সরকারের সহনশীলতার পরিচয় উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার সহশীলতার সঙ্গে বিষয়টা দেখছে। তাদের আন্দোলন আদালতের বিরুদ্ধে, প্রতিবাদ সমাবেশ আদালতের বিরুদ্ধে, সরকার এটি ধৈর্য সহকারে দেখছে। বিরোধীদের সমাবেশ করার অধিকার আছে, সেটা তারা বাস্তবায়ন করবে। সভা সমাবেশ বাধা নিষেধ শেখ হাসিনার সরকার কখনো করেনি, করবেও না।

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, তাদের ভোটার কোথায় ছিল নির্বাচনের দিন? নির্বাচনের আগে দুই সিটির মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে যে জমায়েত, মিছিল আপনারা করেছেন, তাদের এজেন্ট পর্যন্ত কেন্দ্রে আসেনি। তাহলে ভোটকেন্দ্র পাহারা দিল কিভাবে? ভোট পাহারার লোকজন কই? তাদের যে ভোট সেটা কেন পড়লো না? সেই ভোট কেন তারা দিল না, বাধা কোথায় পেয়েছে? আমি তো মনে করি যে নির্বাচন হয়েছে এটা অনেক স্বস্তিদায়ক।

১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিএনপির ডাকা বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, শান্তিপূর্ণ কোনও সমাবেশে আমরা বাধা দিবো না। যদি সেখানে সহিংসতার উপাদান যুক্ত হয়, তাহলে সেটার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে। এর আগে ঢাকার দুই সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ও ঢাকা মহানগরীর সংসদ সদস্যদের নিয়ে মতবিনিময় সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে কাদের বলেন, ঢাকা মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা জমা দেওয়ার পর তাদের পরবর্তী কাজ হবে, তৃণমূল এর মূল পর্যায় থেকে সংগঠন গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য আমাদের রাজনৈতিক ভাবে সংগঠনকে শক্তিশালী করা দরকার। সংগঠনের বিরুদ্ধে, দলের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে আজকে যে ষড়যন্ত্র সেটাও প্রতিরোধ করতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এই ব্যপারে আমরা সবাই একমত। এই লক্ষ্যেই আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেখান থেকে কিছু সিদ্ধান্ত আমরা কার্যনির্বাহী সভায় রিকমেন্ডেশন আকারে পাঠাবো।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটার কম আসা প্রসঙ্গে কাদের বলেন, এখানে একটা বিষয় হলো ছুটির কারণে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। পরিবহনের একটি বিষয় আছে। আর আমাদের সংগঠনেও দুর্বলতা আছে, যার কারণে ভোটার নিয়ে আসার বিষয়টা যতটা গুরুত্ব দেওয়ার দরকার ছিল তা দেওয়া হয়নি। সবাই ভাবছে ভোটাররা তো আসবেই, তাদের যে নিয়ে আসতে হবে সেখানে কিছুটা কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক ব্যরিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্নাফি, উপ দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কার্যনিবাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন, শাহাবুদ্দিন ফরা, ইকবাল হোসেন অপু প্রমুখ।

এসএইচ