রাজারবাগে নির্মানাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

আগের সংবাদ

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ: অর্থমন্ত্রী

পরের সংবাদ

 ট্রাম্পের ভাষণ ছিঁড়লেন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২০ , ৪:২৪ অপরাহ্ণ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে টানা এক ঘণ্টা ১৭মিনিট ‘স্টেট অফ দি ইউনিয়ন’ ভাষণ দেন। নির্বাচনী বছরে যা হয়, ভাষণটি চমৎকার ও আবেদনপূর্ণ। শুরুতে সচরাচর প্রেসিডেন্ট মঞ্চে উপবিষ্ট স্পিকার ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের সঙ্গে করমর্দন করে থাকেন। তবে ট্রাম্প হ্যান্ডশেক করেননি। প্রথা অনুযায়ী তিনি ভাষণের দুটি হার্ড কপি দু’জন-কে দেন।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শেষ হলে দেখা যায় স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাকে প্রদত্ত কপিটি দু’ভাগে ছিড়ে ফেলেন। ট্রাম্প তার ভাষণে ইম্পিচমেন্ট ভোট নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। বরং তিনি বাই-পার্টিজান কর্মকান্ডের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কালো ভোটারদের জন্যে এবারকার ভাষণে যথেষ্ট উপঢৌকন ছিলো। রেডিও হোস্ট রাস লিম্বোকে তিনি সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত করেন এবং ফার্স্টলেডিকে দিয়ে মেডেলটি পরিয়ে দেন। আফগানিস্তানে পোস্টিং এক সেনা কর্মকর্তাকে সরাসরি হাউসে এনে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের চমকে দেন! একশ বছর বয়সী বিশ্বযুদ্ধের হিরোকে ব্যাপকভাবে সম্মানিত করেন।

ইরানের জেনারেল কাসেম সুলেমানিকে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আমেরিকার গায়ে হাত দিলে মৃত্যু’র জন্যে প্রস্তুত থাকতে হবে। ইরানকে সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চয়েস ইরানের’। ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে তিনি আল বাগদাদীর মৃত্যু’র দৃষ্টান্ত দেন। মধ্যপ্রাচ্য শান্তি’র প্রসঙ্গে তাঁর আনীত প্রস্তাব, নাফটা চুক্তি, দক্ষিণের ওয়াল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা, ওপিএড, ইমিগ্রেশন সবই ছিলো তার ভাষণে।

ট্রাম্পের ভাষণ শেষ, ঠিক এই সময়ে দেখা যায়, তার পেছনে বসা স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাকে প্রদত্ত ভাষণের কপিটি দু’ভাগে ছিড়ে টেবিলের ওপর রেখে দেন। ভাইস-প্রেসিডেন্ট আড়চোখে তা লক্ষ্য করেন, কিন্তু কোন কথা বলেননি। প্রেসিডেন্ট তা লক্ষ্য করেননি। এরপর তিনি নেমে বেরিয়ে যান।

সাংবাদিকরা পেলোসি প্রশ্ন করেন, আপনি ভাষণের কপি ছিঁড়লেন কেন? স্পিকার উত্তরে বলেন, এরচেয়ে ভালো কি করার ছিলো? ফক্স নিউজকে তিনি আরো বলেন, পাতার পর পাতা উল্টে কোন সত্য পাইনি, তাই ছিড়েছি। এদিকে ভাষণ ছেঁড়ার ভিডিও বেরিয়ে যেতে একটুও সময় নেয়নি। পুরো অনুষ্ঠানে স্পিকার রাগান্বিত ছিলেন, তা স্পষ্ট, তারই বহি:প্রকাশ ঘটেছে ভাষণ ছেঁড়ার মধ্য দিয়ে।

পুরো আমেরিকা এনিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যের ছড়াছড়ি। সাবেক স্পিকার নিউট জিনরিচ বলেছেন, পেলোসি আমেরিকানদের অপমানিত করেছেন, আমি বিরক্ত, পেলোসিকে সেন্সর করা উচিত। ফক্স নিউজে জন হেনেটি বলেছেন, স্পিকারের পদত্যাগ করা উচিত।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি’র একজন মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছেন, ক’মাস যাবৎ ট্রাম্প- পেলোসি কথা বন্ধ। গত ১৬-অক্টবর সিরিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহার নিয়ে এক বৈঠকে ট্রাম্প পেলোসি-কে ‘থার্ড গ্রেড পলিটিশিয়ান’ বলার পর এই ঘটনা।

সূত্র বলছে, দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ না থাকাও ‘ইম্পিচমেন্টের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে, গ্যালোপ জরিপ মতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে, ৪৯%, যা রেকর্ড। শুধুমাত্র রিপাবলিকানদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা ৯৪%।

ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, তিনি ভাষণ ছিড়েছেন নাকি সংবিধান ছিড়েছেন বোঝা যাচ্ছেনা। তিনি যোগ দেন, ধারণা করি এই স্পিকার বেশিদিন থাকছেন না?

এমএইচ