গৎবাঁধা অভিযোগ ছেড়ে বাস্তবতা মেনে নিন

আগের সংবাদ

তৌকীরের বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী বিপাশা

পরের সংবাদ

সিটি নির্বাচন এবং বড় দুই দলের অবস্থান

শেখর দত্ত

রাজনীতিক ও কলাম লেখক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

বিএনপি কেবল আন্দোলনে নয়, আর তাই বিএনপি নেতৃত্ব কেবল আন্দোলনেই নয় নির্বাচনেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে কর্মীদের মাঠে নামতে পারেনি, এটা কেন হলো তা বিবেচনায় না নিয়ে ঘরে বসে হরতাল দিয়ে ঘরেই বসে থাকল। ভোটে আস্থাহীনতার কথা উঠছে, কিন্তু বিএনপির তৃণমূলের আস্থাহীনতা নেতায়। এই বিষয়গুলো যদি বিএনপি বিবেচনায় না নেয় তবে নির্বাচনে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে না। যদি তা না জমে তবে মানুষ ভোট দিতে যাবে কেন?

বিএনপি কেবল আন্দোলনে নয়, আর তাই বিএনপি নেতৃত্ব কেবল আন্দোলনেই নয় নির্বাচনেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে কর্মীদের মাঠে নামতে পারেনি, এটা কেন হলো তা বিবেচনায় না নিয়ে ঘরে বসে হরতাল দিয়ে ঘরেই বসে থাকল। ভোটে আস্থাহীনতার কথা উঠছে, কিন্তু বিএনপির তৃণমূলের আস্থাহীনতা নেতায়। এই বিষয়গুলো যদি বিএনপি বিবেচনায় না নেয় তবে নির্বাচনে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে না। যদি তা না জমে তবে মানুষ ভোট দিতে যাবে কেন?

এবারে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর গণমাধ্যমে যেসব খবর, রাজনৈতিক দলগুলো ও নির্বাচন কমিশনের যেসব মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে, এর সঙ্গে অতীতের নির্বাচনের পর সংবাদ মাধ্যমের খবর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনের মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়াগুলো যদি তুলনা করা যায়, তবে সাধারণভাবে মিল পরিদৃষ্ট হবে। এটাই রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যে দল জিতবে সেই দল বলবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও যথাযথ হয়েছে আর যে হারবে সেই দল বলবে নির্বাচন প্রহসন বা তামাশা হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশন বলবে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও যথাযথ হয়েছে। প্রসঙ্গত গণতন্ত্রের আরো আরো দিক থাকলেও ভোট প্রক্রিয়া থেকেই এর সূচনা হয়। এই প্রক্রিয়াতে একমত না হয়ে যদি সম্পূর্ণ বিপরীত মতামত প্রকাশিত কিংবা বিতর্কিত হয়, তবে গণতন্ত্রের ষোলোআনাই আসলে মাটি হয়ে যায়। এই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে জাতিকে আজ এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, কবে এ ধরনের বিপরীতধর্মী প্রতিক্রিয়া থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারব, কবে নির্বাচনকে অবিতর্কিত করতে পারব, কবে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফল তথা পরাজয় মেনে নেয়ার সংস্কৃতি দাঁড়াবে, কবে সাংবিধানিক-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্ব›দ্বী দলগুলো একসঙ্গে দাঁড়াতে পারবে ইত্যাদি। তবে এটা যে জাতীয় ধারা হিসেবে কষ্টকর এবং বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে গণতন্ত্রের বিপরীতে যখন স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তখন যে আরো কষ্টকর তা কিন্তু বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভোট ব্যবস্থা তথা গণতন্ত্র নিয়ে চিন্তা ও উদ্বেগের জায়গাটা আসলে এখানেই। কেননা গণতন্ত্র আমাদের জাতীয় পছন্দ, জাতি জন্মের উৎসমুখে আমরা যে জাতীয় চার নীতি গ্রহণ করেছিলাম তার একটি হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের জন্য আমরা সেই পাকিস্তানি আমল থেকে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি। পাকিস্তানি আমলে অগণতান্ত্রিক সামরিক কর্তাদের স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। আমাদের জাতীয় স্বাধিকারের আন্দোলন জাতীয় স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছিল নির্বাচন বিজয়ী মেজরিটি পার্টির নেতা বঙ্গবন্ধু মুজিবকে ক্ষমতায় বসতে দেয়া হয়নি বলে। স্বাধীন বাংলাদেশেও ভোট ও ভাতের সংগ্রামে শহীদদের আত্মদান ও আওয়ামী লীগের অবদান এক্ষেত্রে স্মরণীয়। শহীদ নূর হোসেন বুকের রক্ত দিয়ে লিখে রেখে গেছেন, ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক।’ এটা আমরা ভুলি কি করে! প্রসঙ্গত গণতন্ত্রের এই গৌরবমণ্ডিত আন্দোলনে সব সময়ই আওয়ামী লীগ ছিল নেতৃত্বের ভূমিকায়।
সেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে যদি মানুষের কাছে বিবেচিত হতে থাকে নির্বাচন বিতর্কিত, তবে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বেড়ে যায়। প্রসঙ্গত সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীই ছিল বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে যোগ্যতম। বিএনপির সংগঠন রয়েছে অকার্যকর কিংবা বিধ্বস্ত অবস্থায়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে হারালেও ক্ষমতার কোনো পরিবর্তন হতো না। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। উন্নয়ন হচ্ছে এবং তা মানুষ ভোগ করছে। এমনিতেও বুঝা যায় আর জরিপেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি অনেক অগ্রগামী বলে জানা যাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের কাছে সুযোগ অবারিত ছিল, যাতে নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র বিতর্ক সৃষ্টি না হয়, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা যাতে নিজের জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করে নেয়া যায়। প্রসঙ্গত নির্বাচনের দিন সকালে সংবাদ মাধ্যমে কিংবা ভোট ফেরত পড়শিদের কাছ থেকে মানুষ যদি জানতে পারত ভোট কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মী-সমর্থকরা রয়েছেন, তবে ভোটে দুই দলের সমর্থকসহ সাধারণ মানুষ প্রতিদ্ব›িদ্বতার কথা চিন্তা করে ভোট দিতে অবশ্যই যেত। নির্বাচনী প্রচারের সময় বিশেষত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ‘হারলেও সরকারের পরাজয় হবে না’ বলার পর মনে হয়েছিল নির্বাচনে সব পক্ষ নামবে। কিন্তু তেমনটা হলো না।
সিটি নির্বাচনেও যাহা বায়ান্ন তাহা তেপ্পান্নই রয়ে গেল। বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে ২০০২ সালে প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন বয়কট করেছিল। তা সত্তে¡ও ওই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি হয় এবং সংবাদ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। ঢাকায় ভোট কেন্দ্র দখল ও ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে ৫২ জন গ্রেপ্তার হয়। তখনো জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভোট বয়কট, ভোট অনিয়ম কারচুপির অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। এই সঙ্গে এটা স্মরণে রাখার প্রয়োজন রয়েছে যে, ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি নির্বাচনে ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির প্রচেষ্টার কথা। বিরোধী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ তখন জনপ্রিয় নেতা মোহাম্মদ হানিফকে মেয়র নির্বাচিত করতে মাটি কামড়ে অনিয়ম ও কারচুপি প্রচেষ্টা রুখে দাঁড়িয়েছিল। তাই লালবাগে গুলিবর্ষণে ৭ জন আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল।
ইন্টারনেটে তথ্য ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে ২০০২ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন প্রথমে কাস্টিং ভোট ৩০ শতাংশ হয়েছে বললেও পরে তা হয় ৩৪.৩৭ শতাংশ। ২০১৫ সালের নির্বাচনে ঢাকা উত্তরে ভোটার ছিল প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার আর দক্ষিণে প্রায় ১৯ লাখ। এর মধ্যে উত্তরে ঘড়ি প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের আনিসুল হক পান ৪ লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি আর বাস প্রতীক নিয়ে বিএনপির তাবিদ আউয়াল পান ৩ লাখ ২৫ হাজারের কিছু বেশি। আর দক্ষিণে আওয়ামী লীগের সাঈদ খোকন ইলিশ মাছ প্রতীক নিয়ে পান ৫ লাখ ৩৫ হাজারের কিছু বেশি আর মগ প্রতীক নিয়ে মির্জা আব্বাস পান ২ লাখ ৯৪ হাজারের কিছু বেশি। এবারের দুই সিটি নির্বাচনে উত্তরে নৌকা প্রতীক নিয়ে আতিকুল ইসলাম ভোট পেয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজারের কিছু বেশি আর ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তাবিদ আউয়াল পেয়ে ২ লাখ ৪২ হাজারের কিছু বেশি। আর দক্ষিণে শেখ ফজলে নূর তাপস পেয়েছেন ৪ লাখ ২৪ হাজারের কিছু বেশি আর ইশরাক পেয়েছেন ২ লাখ ৩৬ হাজারের কিছু বেশি। গত নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট বেশ কয়েক ঘণ্টা ছিল ভোটের লড়াইতে। এই বিবেচনায় বলা যায় বিগত তিন ঢাকা সিটি নির্বাচনেই কমবেশি একই ধরনের ভোট পড়েছে।
ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনী ফলের এই হিসাব থেকে যে প্রশ্নটা সামনে আসে তা হলো, আশানুরূপ ভোট সিটি নির্বাচনে হচ্ছে না কেন? সাধারণ তথা দোদুল্যমান ভোটাররা আর বিরোধী দলের ভোটাররা যেমন ভোট দিতে যাচ্ছেন না, তেমনি সরকারি দলের সমর্থক ভোটাররাও যাচ্ছেন না। কেন যাচ্ছেন নাÑ এই প্রশ্নে দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভেবে দেখতে হবে। আওয়ামী লীগ এখন ক্ষমতায়, ভোট কেন্দ্রে গেলে গায়ে টোকাটি পড়বে না, ভোট কম হলে দল সমালোচিত হবে- এমনটা আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের না জানার কথা নয়। সর্বোপরি দল ক্ষমতায় থাকতে উন্নয়ন হচ্ছে, তাই দলের ভোটারদের তো অতি উৎসাহ নিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার কথা। এবারে ইভিএমে ভোট দেয়া হয়েছে, এটা কেমনভাবে কাজ করে, সেটা দেখার জন্যও তো ভোট কেন্দ্রে যাওয়া যায়। তবুও তারা ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছেন না কেন?
প্রসঙ্গত একটা অভিযোগ কানে এসেছে, ভোট বেশি মানে হচ্ছে এন্টি ইনকামবেন্সি ভোট বেশি- এই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে নাকি ক্ষমতাসীন দল চায় না ভোট কেন্দ্রে বেশি মানুষ যাক। তাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে ক্ষমতাসীন দল উদ্যোগ নেয় না। সর্বোপরি এটা তো গণমনস্তত্তে¡ বাসা বেঁধে আছে যে, নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল যে প্রার্থীকে জেতাতে চাইবে, সেই প্রার্থীই জিতবে। তাই দলীয় মানুষও ভোট কেন্দ্রে যায় না। এটা তো ঠিক যে, ভোট দিলেই মানুষ দলীয়ভাবে পোক্ত হয়। এভাবে যদি ভোট না দিয়ে বিজয়ের সংস্কৃতি দাঁড়ায়, তবে শেষ বিচারে দেশ তো বটেই, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে আওয়ামী লীগের। তাই মানুষ বিশেষত দলীয় সমর্থক ভোটাররা কেন ভোট দিতে যাচ্ছেন না, তা নিয়ে ‘১০০ বছরে এমন ভোট হয়নি’, ‘ভোট না দিয়ে পোলাও খাচ্ছে’ প্রভৃতি ধরনের উল্টোসিধা কথা না বলে দলের স্বার্থেই আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে অনুসন্ধান করা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
উল্টোদিকে বিএনপিকেও গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে হবে কেন দলীয় নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যান না? দলীয় ভোটাররা কেন ভোট দিতে আসেন না? কেন এন্টি ইনকামবেন্সির কারণে ক্ষমতাসীন দলের ওপর যারা ক্ষুব্ধ তারা কেন ভোট দিতে যান না? বাসস্থান, অফিসসহ কতক জায়গায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি বিএনপির কর্মীরা ভোটার স্লিপ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি দেননি। ভোট কেন্দ্রে যেতে সরকারি দল বাধা সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু ভোটার স্লিপ দিতে তো তা হয়নি। প্রসঙ্গত সিটি নির্বাচনে জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে ছিল না, জামায়াত ভোট করেনি। এমন কথা শোনা যায় যে, জামায়াত ছিল না বলেই বিএনপি এবারে মনে জোর পায়নি।
সর্বোপরি জোর পাবে কি করে? বর্তমানের ভারপ্রাপ্ত নেতা যদি মামলা-জেলের ভয়ে বিদেশে থাকে, তবে কর্মীরা কখনো জীবনবাজি রেখে আন্দোলন-নির্বাচনের মাঠে নামতে পারে না। তদুপরি বিএনপির অন্তত ২০-২৫ জন নেতা আছেন, যাদের সবাই চেনেন। তারা কেন ভোট কেন্দ্রে এসে সাহসে বুক বেঁধে দাঁড়ালেন না। শুনলাম ভোটের দিন বিএনপির দুই পরিচিত নেতা রিকশা করে যাচ্ছিলেন, তাদের বুকে পর্যন্ত ধানের শীষের ব্যাজ ছিল না। আসলে বিএনপি মামলার গ্রেপ্তার বা আক্রমণের ভয়ে নির্বাচনের মাঠে ছিল না, এমন নয়। সব সময়ই মামলা-গ্রেপ্তার-হামলা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভীতু বানায় না, সাহসী করে তোলে। প্রকৃত বিচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা রাজনীতি নিয়ে নৈতিকভাবে পরাজিতের মনোভাব নিয়ে আছে। বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি কিংবা তারেক জিয়ার মামলা প্রত্যাহারের ইস্যু নিয়ে কেন নামল সিটি নির্বাচনের মাঠে, তা ভাবলে বিস্মিত হতে হয়। আসল বাঘে নয় মনের বাঘে তাদের খাচ্ছে। আর তাই বিএনপি কেবল আন্দোলনে নয়, আর তাই বিএনপি নেতৃত্ব কেবল আন্দোলনেই নয় নির্বাচনেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নির্বাচনে কর্মীদের মাঠে নামতে পারেনি, এটা কেন হলো তা বিবেচনায় না নিয়ে ঘরে বসে হরতাল দিয়ে ঘরেই বসে থাকল। ভোটে আস্থাহীনতার কথা উঠছে, কিন্তু বিএনপির তৃণমূলের আস্থাহীনতা নেতায়। এই বিষয়গুলো যদি বিএনপি বিবেচনায় না নেয় তবে নির্বাচনে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমবে না। যদি তা না জমে তবে মানুষ ভোট দিতে যাবে কেন?

শেখর দত্ত : রাজনীতিক ও কলাম লেখক।