বিকেলে ফাঁকা সন্ধ্যায় ভীড়

আগের সংবাদ

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ জাতিসংঘ

পরের সংবাদ

স্ব-শাসিত সংস্থাসমুহের তহবিল জমা বিল

সংসদে তোলপাড়

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ , ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

জাতীয় সংসদে স্ব শাসিত সংস্থাগুলোর তহবিল জমাকৃত উদ্বৃত অর্থের জমা প্রদান বিল-২০২০ নিয়ে সংসদে তোলপাড়। এবিলের বিরোধীতা করে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা সরকার ও অর্থমন্ত্রীতে তুলোধনা করেন। এক সমালোচনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বিলের বিরোধীতা করে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যগরিষ্ঠের ক্ষমতা দেখাবেন না। পৃথিবীতে অনেক দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ক’দিন পরে আমার একাউন্টের টাকা নিয়ে নেবে কি না, সেই ভয়ে আছি। টাকা এখন ব্যাংক থেকে নিয়ে বাসায় নিয়ে যাবো কি না, ভাবছি। তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে চাচ্ছি, অর্থমন্ত্রী শিক্ষিত লোক। চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। উনার সময়ে পুঁজিবাজারে ১০ হাজার ইনডেক্স উঠেছিল। যখন উনি পরিকল্পনামন্ত্রী। তখনই তিনি বলেছিলেন, ৪ হাজার হওয়ার কথা, কীভাবে ১০ হাজার হল? উনি জানতেন না? ব্যাংকের মালিক সমিতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী-অর্থমন্ত্রী বসেন। কীভাবে হয় এটা?

জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিলটি পাস হলে অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে যাবে। এই টাকার মালিক জনগণ। পাচার হওয়া টাকা উদ্ধার করেন। ব্যাংকিং খাত ভেঙে পড়েছে, সেদিকে নজর দিন। তিনি বলেন, টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে এর জন্য ব্যাংক দায়ী। সালমান এফ রহমান এখানে আছেন, তিনি ব্যাংকের মালিক। ব্যাংকের মালিক জনগণ। ব্যাংক এসোসিয়েশন এখানে বই দেয়, ওখানে কম্বল দেয়, অন্তত ১০০ ছবি দেয়। অর্থমন্ত্রীর ছবি ছাপা হয় না। টাকা কি উনার? এটা জনগণের টাকা। এই টাকা কেন অ্যালাউ করেন। টাকা যদি বেশি হয়ে থাকেন জনগণের খেদমতের জন্য দিয়ে দেন।

জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী হলে যা হয়, তাই হয়েছে। আমি একজন এডভোকেট, এটা বললে কি অপরাধ হবে? উনি চার্টার্ড একাউন্টেন্ট। কিন্তু উনার মূল পরিচয় একজন ব্যবসায়ী। এটাতে আহত হওয়ার কারণ নেই। আমরা আশা করেছিলাম, সাকসেসফুল বিজনেস ম্যান। অর্থনীতিতে ভালো করবেন। কতদূর ভালো করেছেন উনি চিন্তা করবেন। ব্যাংকের মালিক ডিরেক্টররা ঋণ নিয়ে বসে আছেন। এটা কী দেশ? টাকা পাচার হয়, উনি ব্যবস্থা নেন না। বিভিন্ন সংস্থার টাকা খরচ করছেন। আগামী বছর ট্যাক্স না পেলে কী করবেন? ২০১৭ সালে আমাকে বেস্ট লেবার মিনিস্টারের অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিল, কেন যে দিয়েছিল, তা আমি জানি না।

বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, এটা একটা কালো আইন। আইন করে সমস্ত টাকা তুলে নেবে। উন্নয়নের জন্য অর্থ দরকার আছে। কিন্তু সামর্থ্য কতটুকু? এই টাকাগুলো ব্যাংকে জমা আছে। টাকা নেওয়া হলে ব্যাংকগুলো মারাত্মক বিশৃঙ্খলায় পড়বে। প্রতিষ্ঠানগুলোর স্পৃহা ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ক্ষমতার অতিরিক্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ নেই। শেয়ার বাজার ধ্বংস করে ফেলেছি। আমি এই বিলটি প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানাব।

বিএনপির রুমিন ফারহানা বলেন, আর্থিক খাতে লুটপাটের কারণে এখন সরকারের কোষাগারে কোন টাকা নেই, এখন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর অর্থের দিকে চোখ পড়েছে সরকারের। অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে রুমিন বলেন, অর্থমন্ত্রী অসাধারণ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। সাধারণ অবস্থা থেকে ব্যবসায়ী হয়েছেন। অর্থমন্ত্রী সফল ব্যবসায়ী উনি অর্থনীতি বোঝেন না, এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না। তাহলে সমস্যটা কোথায়? উনি সব বোঝেন কিন্তু উনার সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। এত মেধাবী তিনি কিন্তু শেয়ার বাজার, খেলাপি ঋণ নিয়ে কিছু করলেন না। কেন মেধাবী অর্থমন্ত্রী এদিকে নজর দিচ্ছেন না। উনি ধনী সমাজের জন্য অর্থমন্ত্রী হন নাই। কেন খেটে খাওয়া মানুষের দিকে উনার নজর নেই?
রুমীন বলেন, সরকার রাজস্ব থেকে কেন উন্নয়ন করতে পারে না? শেয়ার বাজার লুট, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ, প্রকল্পের নামে সীমাহীন লুটপাট হচ্ছে। তিনি বলেন, টাকা ব্যাংকে আছে। সেই টাকা নিয়ে নিলে শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ব্যাংকের হাতে টাকা থাকবে না। সরকারের এখন চোখ গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে।

জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জনবিরোধী এ আইন পাস হলে সংসদের ইতিহাসে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটবে। ব্যাংক থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। দেখা যাবে সামনের বছর ১ লাখ কোটি টাকা নেবেন। এর কোনো শেষ নেই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশনরে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এখন এর টাকা নিতে হলে শেয়ার হোল্ডারদের অনুমতি নিতে হবে। এটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান। আইনটি পাসের আগে তা নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার দাবি করেন জাতীয় পার্টির এই নেতা। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে এ ধরণের আইন হতে পারে না। মেগা প্রজেক্ট বাদ দিলে কী হবে? কিছুই হবে না। একটা আইন সিস্টেমকে কলাপস করে দেবে। একটা আইন অর্থনীতিতে কি লোটাস বা পদ্মফুল এনে দেবে? এতই ন্যক্কারজনক আইন যে সংশোধনযোগ্য নয়।

ডিসি