নোয়াখালীতে অপহরণের পর ৪ ছাত্রীর শ্লীলতাহানি

আগের সংবাদ

সংসদে তোলপাড়

পরের সংবাদ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০

বিকেলে ফাঁকা সন্ধ্যায় ভীড়

শরীফা বুলবুল

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২০ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ

শীতের বিকেলটি যেন দ্রুত লয়েই চলে গেল। কিন্তু সন্ধ্যার অন্ধকার গাঢ় হয়ে উঠতেই আলোর ঝলকানির সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল মেলার দৃশ্যপট। প্রচুর লোকসমাগমে ভরে উঠলো মেলা প্রাঙ্গণ। প্রায় প্রতিটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলেই ভীড় দেখা গেল। গত চারদিন ধরেই এমনটি দেখা যাচ্ছিল। বিকেলে ফাঁকা, সন্ধ্যায় প্রতিটি স্টল এবং প্যাভিলিয়নে ভীড় জমে ওঠে। সেই সাথে আড্ডায় মেতে ওঠেন লেখকরাও। বইমেলা মূলত জেগে উঠছে সন্ধ্যার পরই। আর এই লোকসমাগম থাকে রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। তারপর আবার বেশ শান্ত ভাব।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মেলা ঘুরে দেখা গেলো অনেক পাঠকই মেলার স্টলে স্টলে। তারা ঘুরে ঘুরে মেলা দেখছেন। অনেকে আবার নতুন বইয়ের খোঁজ করছেন। কেউ কেউ পছন্দ হলে বইটি কিনে নিতেও কার্পণ্য করছেন না।

খিলগাও থেকে মেলায় এসেছিলেন চাকুরিজীবী রাজিয়া হাসান। তিনি বলেন, শুরুর দিন থেকেই মেলায় আসার জন্য মন আনচান করছে। আজ দ্রুত অফিস শেষ করেই মেলায় আসলাম। প্রাণের মেলায় আসতে ইচ্ছে করে প্রতিদিনই। কিন্তু সময় করে উঠতে পারছিলাম না। আজ একটু সময় বের করে চলে এলাম। এভাবে প্রতিদিনই মেলার সন্ধ্যায় লোকসমাগম হচ্ছে এবং সেটা দিনে দিনে বাড়ছে। তবে প্রকাশকরা সবাই মুখিয়ে আছেন শুক্রবারের জন্য। আশা করছেন এদিন থেকে মেলা পুরোপুরি জমে উঠেবে এবং সেটা চলমান থাকবে। এর মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বাণিজ্য মেলাও। সব মিলিয়ে বইমেলায় এখন প্রথম শুক্রবারের অপেক্ষা।

অমর একুশে গ্রন্থমেলার চতুর্থ দিনে মেলা মঞ্চের আঙিনায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে অজয় দাশগুপ্ত রচিত বঙ্গবন্ধুর আন্দোলন কৌশল ও হরতাল শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুভাষ সিংহ রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন নূহ-উল-আলম লেনিন এবং আবু সাঈদ খান। লেখকের বক্তব্য প্রদান করেন অজয় দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।

প্রাবন্ধিক বলেন, তরুণ বয়সেই শেখ মুজিবুর রহমান লক্ষ্য স্থির করেছিলেন স্বাধীনতা। পূর্ববঙ্গের বাঙালির নিজস্ব রাষ্ট্র চাই। এ জন্য সময়োচিত রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রণয়ন করায় তিনি ছিলেন কুশলী, বিচক্ষণ। লক্ষ্যে পৌঁছাতে আন্দোলনের কর্মসূচি প্রণয়ন করতে গিয়ে সর্বদা নজর ছিল জনগণকে যত বেশি সম্ভব সম্পৃক্ত করা। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগকে পূর্ব পাকিস্তানের ক্ষমতায় নিয়ে আসা, ষাটের দশকে সামরিক শাসনকে চ্যালেঞ্জ প্রদান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা তুলে ধরা এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সবকিছুতেই তিনি সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে চলতে চেয়েছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে দূরদর্শী রাজনীতিবিদ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর কাছে স্বাধীনতা মানে ছিল গণমানুষের মুক্তি এবং নিপীড়িত, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন। আর এ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তোলার জন্যই তিনি নিবিষ্ট থেকেছেন। অদম্য সাহস, সময়োচিত সিদ্ধান্ত ও ফলপ্রসূ রাজনৈতিক কর্মসূচিই ছিল বঙ্গবন্ধুর আন্দোলনের কৌশল। বাঙালির জন্য স্বাধীন জাতিরাষ্ট্র গঠনের পরম লক্ষ্য সামনে রেখেই বঙ্গবন্ধু ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়েছেন এবং আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বাঙালির চেতনাকে প্রস্তুত করে তুলেছেন।

গ্রন্থের লেখক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুকে নানামুখী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হয়েছে। দিনের পর দিন রাজপথে সংগ্রাম করে তিনি গণমানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর আন্দোলন কৌশলের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

সভাপতির বক্তব্যে রামেন্দু মজুমদার বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সাফল্যকে বুঝতে হলে তাঁর আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসকে গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। আজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী বঙ্গবন্ধু ধর্ম, বর্ণ, পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়েই আন্দোলনের পথে অগ্রসর হয়েছেন। তাঁর আন্দোলনে গণসম্পৃক্ততা ছিল বলেই চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে আমরা বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পেয়েছি।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি আলতাফ হোসেন, কবি জাহিদ হায়দার, কবি ফারহান ইশরাক ও কবি রনজু রাইম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী এনামুল হক বাবু, ফয়জুল আলম পাপ্পু, ও নায়লা তারান্নুম চৌধুরী। সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা-তুজ-জোহরা, সুজিত মোস্তফা, এ কে এম শহীদ কবীর পলাশ, সম্পা দাস ও মো. মেজবাহ রানা। লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন মোহিত কামাল, স. ম. শামসুল আলম, সাকিরা পারভিন সোমা, রাহেল রাজিব।

নতুন বই
বাংলা একাডেমির তথ্যমতে বুধবার(৫ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলায় নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৯৫টি। এরমধ্যে অনুপম প্রকাশনী থেকে সৌমেন সাহার বিজ্ঞান বিষয়ক বই ‘আকাশ দেখা ভারি মজা’, অন্য প্রকাশ থেকে শিহাব শাহরিয়ারের কবিতার বই ‘অদৃশ্য গুচ্ছ’, অনন্যা থেকে আসিফ নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘আওয়ামী আমল’, কথা প্রকাশ থেকে মুনতাসীর মামুনের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ ‘স্মৃতিময় ঢাকা’, হক ফারুক আহমেদের ‘মেঘদরিয়ার মাঝি’, হাসান আজিজুল হকের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘লেখা না-লেখা’, সরলরেখা প্রকাশনা থেকে আল মাহমুদের উপন্যাস ‘রাগিনী’ এবং ‘সহোদরা’, বিভাস থেকে মহাদেব সাহার ‘মুজিব সমগ্র’, ইকরি মিকরি প্রকাশন থেকে ধ্রুব এষের ‘অং বং চং’, মোজাম্মেল হক নিয়োগীর ‘পাখিদের খুশির দিন’ এবং গ্রন্থকুটির থেকে মোজাফফর হোসেন সম্পাদিত অনুবাদ গ্রন্থ ‘বিশ্বসাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’ উল্লেখযোগ্য।

ডিসি