ডিএসইতে লেনদেন ছাড়াল পাঁচশ কোটি টাকা

আগের সংবাদ

ডিসেম্বরে আসছে আলিয়া ভাটের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

রেমিট্যান্স বাড়ছে নগদ প্রণোদনায়

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০ , ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০ , ১:৩৯ অপরাহ্ণ

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ১৬৩ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা বাংলাদেশি টাকায় (১ ডলার, ৮৫ টাকা ধরে) ১৩ হাজার ৯২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর আগে গত বছরের একই সময়ে (জানুয়ারি-১৯) দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৫৯ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪ কোটি ১৩ লাখ ডলার বা তিন শতাংশ। তবে গত ডিসেম্বর মাসের তুলনায় জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ কিছুটা কমেছে। ডিসেম্বর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা উদ্যোগের কারণে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। আগামীতে এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ (জুলাই-১৯ থেকে জানুয়ারি-২০) প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১ হাজার ১০৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় এর পরিমাণ ৯৩ হাজার ৮৩৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, চলতি বছর ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাত, পুঁজিবাজার, রাজস্ব আয়, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিসহ অর্থনীতির সব সূচক উল্টোপথে হাঁটলেও বছরজুড়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উর্ধ্বমুখী। এই রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে গতিশীল রাখতে সহায়ক ভ‚মিকা রাখছে। গত ২০১৯ সালের প্রথম থেকেই রেমিট্যান্স বাড়তে থাকে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা রেকর্ড পরিমাণ ১৫৯ দশমিক ৭২ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ১৩১ দশমিক ৭৭, মার্চে ১৪৫ দশমিক ৮৬, এপ্রিলে ১৪৩ দশমিক ৪৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স আসে। এরপর মে মাসে আবার রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে ১৭৪.৮১ কোটি মার্কিন ডলার।

এরপর জুনে ১৩৬.৮২ কোটি ডলার, জুলাইয়ে ১৫৯.৭৬ কোটি মার্কিন ডলার, আগষ্টে ১৪৪.৪৭ কোটি মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৪৭.৬৯ কোটি মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ১৬৩.৯৬ কোটি এবং নভেম্বরে ১৫৫.৫২ কোটি, ডিসেম্বর মাসে ১৬৮.৭০ ডলার এবং সর্বশেষ জানুয়ারি মাসে ১৬৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে। বছর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৩২ কোটি ৫১ লাখ মার্কিন ডলার। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স।

বছর ভিত্তিক রেমিট্যান্স: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পঞ্জিকা বছর হিসাবে, ২০১৯ সালে রেকর্ড পরিমাণ ১ হাজার ৮৩৩ কোটি মাকির্ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। ২০১৮ সালে রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৫৫৩ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। ২০১৭ সালে ১ হাজার ৩৫৩ কোটি ডলার, ২০১৬ সালে ১ হাজার ৩৬১ কোটি ডলার, ২০১৫ সালে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে, অর্থবছর হিসাবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আছে ১ হাজার ৫৩১ কোটি ৬৯ লাখ ডলার, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৯৮ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২০১৮-১৯ অর্থবছরের রেমিট্যান্স আসে ১ হাজার ৬৩১ কোটি মার্কিন ডলার। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১ কোটির বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জিডিপিতে অবদান রেখেছে ১০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর শীর্ষ ১০টি দেশ হচ্ছে যথাক্রমে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ওমান, যুক্তরাজ্য, কাতার, ইতালি ও বাহরাইন।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়