সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসির বৈঠক রবিবার

আগের সংবাদ

অনন্য উচ্চতার অজানা বঙ্গবন্ধু

পরের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকটের সমাধান

মাহমুদুল হক আনসারী

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৫, ২০২০ , ৯:২৪ অপরাহ্ণ

স্কুল-কলেজ বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীরা স্কুল সময়ে যখন তারা রাস্তায় নামে তখন চরমভাবে গণপরিবহনের সংকট ও ভোগান্তি অভিভাবকদের জন্য এক প্রকার বিরক্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। শিক্ষার্থীদের অনেক সময় পর্যন্ত পরিবহনের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় শিক্ষার্থী আর অভিভাবক বিরক্তি ও উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে। কারণ ঠিক সময়ে বিদ্যালয় ও কলেজে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব অপরিহার্য। অনেক চেষ্টা করেও শিক্ষার্থীরা পরিবহন সংকটে বিদ্যালয়ে পৌঁছতে পারে না। ফলে মূল্যবান সময় ও ক্লাস হাতছাড়া হয়ে পড়ে। দীর্ঘসময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার মতো পরিবেশও থাকে না। রাস্তার সঙ্গে চলাচলের ফুটপাতগুলোও অনেকটা হকারদের দখলে। এক শ্রেণির লোক ফুটপাতগুলো অবৈধভাবে দখল করে হকার বসায়। সে স্থান ও হকার থেকে নিয়মিতভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করার তথ্য রয়েছে। কতিপয় পুলিশ রাজনৈতিক ক্যাডার সন্ত্রাসী বাহিনী এসব ফুটপাত বাণিজ্য চালাচ্ছে। এসব নিত্যদিনের জনভোগান্তি।
অপরদিকে গণপরিবহনের রুট পরিবর্তন ও নির্দিষ্ট গন্তব্যে পরিবহন না যাওয়ার কারণে ভেঙে ভেঙে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হয়। সাধারণ খেটে খাওয়া পরিশ্রমী মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের কর্মজীবীদের জন্য অতিরিক্ত অর্থের চাপ আরেকটি বড় ধরনের ভোগান্তি। সাধারণত ছাত্রছাত্রীদের পরিবহনের একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দেয়া হয়। দেখা যায়, সেখানে ছাত্রছাত্রী খরচের অঙ্কে সে হিসাব রাখতে পারে না। একদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিবহনের জন্য অপেক্ষা, আবার সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছতে পরিবহনে গাদাগাদি করে বাম্পারে ঝুলিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। এসব চিত্র কোনো অবস্থায় অভিভাবক ও শিক্ষকমণ্ডলী মেনে নিতে পারছে না। বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সংকটের কী সমাধান সেটাও বলতে পারছি না। একজন অপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী কীভাবে এত গাদাগাদির মধ্যে বিদ্যালয়ে পৌঁছবে সেটা সমাজ ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের গভীরভাবে চিন্তা করা দরকার।
চট্টগ্রাম সিটি গেট এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তার দুধারে প্রাইভেটকার টেম্পো ভ্যানগাড়ি রাতদিন বিশাল রাস্তার অংশ দখল করে রেখেছে। ফুটপাতের অংশ পর্যন্ত তাদের দখলে। পথচারী জনগণ কোনো প্রতিবাদ করতে গেলে তার সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকরা জোটবদ্ধ হয়ে ঝগড়ায় মেতে ওঠে। সিটি গেট এলাকার বিশাল অংশজুড়ে ঘরবাড়ির আসবাব ও ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। এসব দোকান ও মার্কেটের ব্যবসার জন্য তাদের সামনে কোনো খালি জায়গা নেই। তারা গাড়ি পার্কিং করে মাল ওঠানামা করাবে এমন ধরনের কোনো স্পেস তাদের নেই। সম্পূর্ণভাবে তারা যান চলাচল ও ফুটপাত ব্যবহার করে দিনের পর দিন তাদের ব্যবসা চালাচ্ছে। তাদের সামনে স্থানীয় প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকলেও এসব দেখেও কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ট্রাফিক পুলিশ বিআরটিএকে এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। ছাত্রছাত্রীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষা যাতায়াত সমাজকে নিরাপদ করতে হবে। রাস্তায় তাদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও উৎকণ্ঠামুক্ত করার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের। সরকারিভাবে স্কুলগামী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফ্রি গণপরিবহনের ব্যবস্থা রাখা কঠিন কোনো বিষয় নয়। যেখানে সরকারি ও বেসরকারি কতিপয় প্রতিষ্ঠানের স্টাফ ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা গেলে এদেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী যাদের সঙ্গে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, এসব পরিবারের ছেলে সন্তানরা কেন পরিবহন সংকটে প্রতিদিন ভোগান্তির মধ্যে তাদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত ও অনিরাপদ হবে সেটা শিক্ষিত সমাজ ও বিশ্লেষকরা মেনে নিতে পারছে না। তাই শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকটের স্থায়ী সমাধান ও নিরাপদ রাস্তার যাতায়াতের আশু সমাধান থাকা চায়।

চট্টগ্রাম।
[email protected]

এসএইচ