জনমত কি পরিবর্তনের পক্ষে?

আগের সংবাদ

‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামীর স্বপ্ন’

পরের সংবাদ

আইসিজের আদেশ

মিয়ানমারকে রায় মানতে বাধ্য করতে হবে

সম্পাদকীয়

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৪, ২০২০ , ৮:৩৪ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় মিয়ানমারকে চারটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজে)। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আইসিজের বিচারকরা সর্বসম্মতভাবে ওই রায় দেন। এই রায়কে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে এটা বড় অগ্রগতি বলা যায়। এতে চাপে পড়বে মিয়ানমার এবং এর ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পথ উন্মুক্ত হওয়ার আশা দেখছি। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এই নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা দায়ের করে গাম্বিয়া। হেগের পিস প্যালেসে গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর এ মামলার ওপর প্রাথমিক শুনানি হয়। কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চললেও এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আদেশ দেয়া হলো। আদেশে প্রথম ব্যবস্থা হিসেবে জেনোসাইড সনদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিভিন্ন অপরাধগুলো রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত হওয়া ঠেকাতে মিয়ানমারকে সব ধরনের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে বলেছে, রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে মিয়ানমার নিশ্চিত করবে যে তার সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট কোনো ধরনের জেনোসাইড করবে না বা জেনোসাইডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না। তৃতীয় ব্যবস্থা হিসেবে আইসিজে মিয়ানমারকে জেনোসাইড সনদের আওতায় বর্ণিত অপরাধগুলোর তথ্য-প্রমাণ বিনষ্ট না করতে এবং সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। চতুর্থ ব্যবস্থা হিসেবে আইসিজে বলেছে, অন্তর্বর্তী আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী চার মাসের মধ্যে আদালতকে মিয়ানমারের জানাতে হবে। এরপর আইসিজেতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জেনোসাইডের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পর পর আদালতে অন্তর্বর্তী আদেশ পালন বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আমরা মনে করি, এ আদেশ নিঃসন্দেহে মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে। এখন এ চাপের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সামনে ক‚টনৈতিক তৎপরতা পরিচালনারও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দফা সময় দিয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহনা শুরু করে। ভারত, জাপানের মতো দেশগুলো চায় এ সংকট এ অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান হোক। এই ক্ষেত্রে চীন, রাশিয়ার সমর্থনও জরুরি। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। আমরা আশা করছি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য।

এসএইচ