চালকের আসনে পাকিস্তান

আগের সংবাদ

প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেলো বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৪, ২০২০ , ৬:১৭ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য। এই বাংলাদেশকে আমরা জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলব এটাই আমাদের লক্ষ্য।  শুক্রবার দুপুরে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর পর এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন,আমরা মনে করি আজকে যে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি অর্থনৈতিকভাবে এবং সেই সকল অর্জনের সুফল একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের গ্রামের মানুষ যেন পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে চলতে হবে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনি কর্মকান্ডে ব্যতিব্যস্ত থাকার কারণে দলের কয়েকজন নেতা জাতির পিতার সমাধিতে টুঙ্গিপাড়া আসতে পারেননি তার কারণও জানান দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচনে যারা কাজ করেছে, তাদের যাওয়া দরকার নাই। বাকি যারা থাকবে তাদের নিয়ে আবার আসব। পরবর্তীতে নোটিশ নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির সভা করা হবে বলেও জানান তিনি। আজকে যেহেতু বেশী সময় নাই, আমাকে হয়ত অল্পসময়ের মধ্যে রওনা দিতে হবে। এরপর উপস্থিত সকল নেতার প্রতি ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেনন শেখ হাসিনা।

এর আগে নতুন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে দলের নেতাসহ উপস্থিত সবাইকে নিয়ে সমাধিস্থলে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটিকে নিয়ে জাতির পিতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় দিকে টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান শেখ হাসিনা। হেলিকপ্টারযোগে তিনি টুঙ্গিপাড়া পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তাকে স্বাগত জানান। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর পর বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। এসময় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এবং পরিবারের নিকটাত্মীয় ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতেই অগ্রবর্তী দল হিসেবে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল। আর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকায় সংসদ ভবন চত্বরের মিডিয়া সেন্টারের সামনে থেকে বাসে রওনা দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। মোট ছয়টি বাসে করে কেন্দ্রীয় নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান দুপুর সাড়ে ১২টার পর। তারা বাস থেকে নেমে বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্সে পৌঁছালে তাদের নিয়ে জাতির জনকের সমাধিকে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

দলীয় সভাপতির সঙ্গে দোয়া ও মোনাজাতের পর সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আওয়ামী লীগকে সোনার মানুষ গড়ার কারখানা। এজন্য তিনি প্রচলিত ট্রেডিশনের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ের কথাও বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, আমাদের দলের মূল টার্গেট হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করব। সে লক্ষে আমাদের পার্টি করণীয় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় করে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের দল আওয়ামী লীগকে আমরা সেভাবেই ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা আমাদের দলের সাংগঠনিক কাঠামো কে শুদ্ধ করব, সুশৃংখল করব। সারাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে এ বার্তা পৌঁছে দেবো।
জুমার নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের পর দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের অংশগ্রহণে আওয়ামী লীগের একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয় । এতে সভাপতিত্ব করবেন শেখ হাসিনা।

ঢাকা থেকে আগত নেতাকর্মীদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত ছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়াও। টুঙ্গিপাড়ার পথে পথে স্থাপন করা হয়েছে ‘জাতির পিতা তোরণ’ ও ‘বঙ্গবন্ধু তোরণ’। টুঙ্গিপাড়াজুড়ে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নবনির্বাচিত নেতাদের আগমন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সমাধি সৌধ কমপ্লেক্স এলাকা ধোঁয়া-মোছাসহ পরিষ্কার করা হয়েছে।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের পর এই প্রথম এই কমিটির নেতাকর্মীদের নিয়ে জাতির জনকের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে যান আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সংসদের নেতাদের টুঙ্গিপাড়া যাওয়ার পথে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর সহ বিভিন্ন জায়গা রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাজার হাজার ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং এবং রাস্তার দুপাশে অবস্থান নেন।

বিকাল সাড়ে তিনটা হোয়াইট হাউজ থেকে বের হয়ে হেলিপ্যাড থেকে হেলিকাপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এর আগে, গত ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে দলের ২১তম জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন কাউন্সিলের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন। পরে কেন্দ্রীয় কমিটির ৪২ জনের নাম ঘোষণা করেন নবনির্বাচিত সভাপতি শেখ হাসিনা। চার দিন পর ২৬ ডিসেম্বর রাত সোয়া ৯টার পর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কমিটির আরও ৩২ জনের নাম ঘোষণা করেন। পরবর্তী সময়ে কমিটির বাকি সাত সদস্যের নামও ঘোষণা করা হয়।

নকি