বেড়ানো আর শখের ফটোগ্রাফি

আগের সংবাদ

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই শিশু ধর্ষণ রোধ করবে

পরের সংবাদ

পুঁজিবাজার কি বাঁচবে না!

মো. মামুনুর রশিদ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৪, ২০২০ , ৮:১৬ অপরাহ্ণ

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো পুঁজিবাজার বা শেয়ারবাজার। লক্ষ করা যাচ্ছে যে, শেয়ারবাজারের অবস্থা খুবই নাজুক অবস্থানে আছে। শেয়ারবাজারের সূচক একদম তলানিতে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা কয়েক দফা বিক্ষোভও করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ২০১০ সালের ধসের পর ১০ বছরের ব্যবধানে শেয়ারবাজারে নতুন করে ধস নেমেছে। তাতে ডিএসইর প্রধান সূচকটি নেমে এসেছে ৪ হাজারের কাছাকাছি। অব্যাহত দরপতনের প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজার উন্নয়নে ছয়টি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকারের নেয়া ছয়টি পদক্ষেপ হচ্ছে : পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহিভর্‚ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বিনিয়োগ সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ করা ও বাজারে আস্থা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং বাজারে মানসম্মত আইপিও বাড়াতে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ।
সরকারের এই ছয়টি উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার। শুধু স্বল্পমেয়াদে উদ্যোগ নিলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদে করণীয় নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে উদ্যোগের মধ্যেই বিষয়গুলো সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর যথাযথ প্রয়োগ দরকার। আমরা বিগত দিনগুলোতেও দেখেছি যে, পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য সরকার বা অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু উপযুক্ত বাস্তবায়নের অভাবে বাজার উঠে দাঁড়াতে পারেনি। এতে এর দায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপরই বর্তায়। সবচেয়ে বড় ভীতিকর বিষয়টি হচ্ছে, পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। টানা দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার হোল্ড করতে চাচ্ছেন না। এতে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং শেয়ারের দাম কমছে।
কথা হচ্ছে, এর থেকে বাঁচার উপায় কী? সবচেয়ে বড় ভাববার বিষয় হলো, বাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো। আস্থা ফেরাতে হলে পুঁজিবাজারকে ঢেলে সাজাতে হবে। পুঁজিবাজার উন্নয়নে স্বল্পমেয়াদে সরকারের যে ছয়টি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করা দরকার। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ দিলে হবে না, ব্যক্তিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা জানি, আর্থিক বাজারগুলো একটি আরেকটির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটির পরিবর্তন আরেকটিতে প্রভাব ফেলে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে আমরা কম-বেশি সবাই অবগত আছি। ব্যাংক খাত তারল্য সংকটে ভুগছে। শুধু পুঁজিবাজারের আস্থা ফেরালেই হবে না, বিনিয়োগকারীদের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকলে বিনিয়োগ কীভাবে হবে! বেশিরভাগ অর্থই আসে ব্যাংক খাত থেকে। আর এ খাতের অবস্থাই শোচনীয়। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আমাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব আছে; না বুঝেই নাকি খারাপ শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আইপিওতে মন্দ কোম্পানি এসে বাজার থেকে অর্থ তুলে উধাও হয়ে যাচ্ছে। এ রকম দৃষ্টান্ত কারো অজানা না। এটি মূলত ঘটছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার অসতর্কতা বা অসাবধানতার কারণে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ভালো বা মানসম্মত কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত করতে হবে। পুঁজিবাজারে যারা কারসাজি করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অর্থনীতিকে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নিতে হলে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন অত্যাবশ্যক। তাই এ খাতের দিকে সরকার বা তার কর্তাব্যক্তিদের বিশেষ নজর দিতে হবে।

শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
[email protected]

এসএইচ