আইনের জালে সিনহা

আগের সংবাদ

৮২৩৮ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

পরের সংবাদ

‘করোনা’র প্রবেশ ঠেকাতে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৩, ২০২০ , ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ২৩, ২০২০ , ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ

চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ‘করোনা’ ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে আসন্ন চীনা নববর্ষকে কেন্দ্র করে এ উদ্বেগ গভীর হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও পৌঁছেছে বিশেষ বার্তা। কিন্তু এরপরও শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ দেশে বসবাসরত ৫০ হাজারেরও বেশি চীনা নাগরিক ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে চীন সফরকারী হাজার হাজার বাংলাদেশির ওপর নজরদারি সহজ বিষয় নয়। ভাইরাস শনাক্তে সামান্য গাফিলতি হলেই দেশে এর ভয়াবহ সংক্রমণ ঘটতে পারে।

চীনে গত ডিসেম্বর প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। নতুন এই ভাইরাস মূলত ফুসফুসে বড় ধরনের সংক্রমণ ঘটায়। চীনা কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, গতকাল বুধবার পর্যন্ত সে দেশে ৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এই ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরো প্রায় ৫০০ জন। যদিও বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা, ভাইরাসটির উৎস কোনো প্রাণী থেকে। মানুষের মধ্যে করোনা প্রথম ধরা পড়ে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ বিক্রির পাইকারি বাজারের কর্মীদের শরীরে। পরে চীনের বিভিন্ন প্রদেশ, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড এবং সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রেও নতুন এই ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়। চীন ভ্রমণ করে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে চীন থেকে আসা যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরের থার্মাল স্ক্যানারের ভেতর দিয়ে আসার সময় সংকেত দিলে ওই যাত্রীকে পরীক্ষা করবেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা। সাধারণত কারো শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকলেই থার্মাল স্ক্যানার সংকেত দিবে। তখন ওই যাত্রীকে বিমানবন্দরে কোয়ারেনটাইন রুমে রেখে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হবে। এরপর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী ওই যাত্রীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তবে দেশে এখন পর্যন্ত এ জাতীয় কোনো যাত্রী পাওয়া যায়নি বলে সূত্র উল্লেখ করে।

তবে স্ক্রিনিংয়ের এই প্রক্রিয়া আরো সতর্কভাবে করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল ইসলাম রুমি বলেন, আমাদের দেশে নিরাপত্তা তল্লাশি অনেক সময় ঢিলেঢালাভাবে হতে দেখা যায়। কিন্তু এই ভাইরাস শনাক্তে যদি কোনো গফিলতি হয় তবে বিপদ ভয়াবহ হতে পারে। তিনি জানান, ঢাকা-চীন-ঢাকা রুটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের মোট ছয়টি ফ্লাইট প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে। ৫০ হাজারের বেশি চীনা নাগরিক এ দেশে বসবাস করে। ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণেও প্রতিদিন অনেকে চীন যাতায়াত করেন। এর মধ্যে আগামী ২৫ তারিখ চীনের নববর্ষ। এ কারণে এখন ছুটিতে নিজ দেশে গেছেন অনেকে। ছুটি শেষে তারা বাংলাদেশে ফিরবেন। তখন এ ভাইরাস প্রবেশের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, এখন এই ভাইরাস চীন ছাড়াও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়েছে। তাই সে সব দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরও স্ক্রিনিং করা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যাসহ নতুন এ রোগের উপসর্গ রয়েছে কি না-তা জানার ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের চিকিৎসকদের এ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি জনগণের মাঝেও এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

আইইডিসিআরের বর্তমান পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের নিয়মিত ফ্লাইটে যাত্রী যাতায়াত হয়। এ কারণে বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুয়ায়ীই এসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে করোনা ভাইরাস প্রবেশ ঠেকাতে বাংলাদেশের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে।

ইনডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জীবাণু গবেষক ড. সারোয়ার হোসেন জানান, করোনা পরিবারে ৬ ধরনের ভাইরাস আছে। তবে চীনে যেটি ধরা পড়েছে তা কিছুটা নতুন। নয়তো প্রচলিত ভ্যাকসিনই কাজ করত। এটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। কারো কারো ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই আক্রান্ত মানুষকে আলাদা করে লক্ষণগুলোর চিকিৎসা দিতে হবে। তিনি বলেন, সাধারণত শরীর কয়েকদিনের মধ্যেই নিজে থেকে একটা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। সে কারণে বেশির ভাগ মানুষ এক পর্যায়ে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু ভাইরাসটি যেহেতু একজনের হাঁচি-কাশি, থুতু ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায় সেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরো বলেন, উন্নত বিশ্বে ভাইরাসটিকে আইসোলেটেড করে ভ্যাকসিন তৈরির গবেষণা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যে এটি ধ্বংসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে। কিন্তু বিস্তার রোধ নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভ্যাকসিন দিয়েও পরিস্থিতি সামাল দেয়া যাবে না বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

এমএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়