অবকাঠামোগত সুবিধা থাকলেও নেই মনিটরিং ব্যবস্থা

আগের সংবাদ

গণসং‌যো‌গে ভোটারদের কাছে পে‌য়ে‌ছি : তা‌বিথ

পরের সংবাদ

উচিত শিক্ষা দিতে সরোয়ার আলীর বাসায় ডাকাতি

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২৩, ২০২০ , ১:০৭ অপরাহ্ণ

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টায় ঘটনায় গ্রেপ্তার মূলহোতা নাজমুল নিজেকে হিন্দি সিনেমার নায়ক ভাবতেন। নিজেকে সব সময় কল্পনার জগতে রাখতেন। ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করার সময় ড. সারোয়ারের পরিবারের কাছ থেকে ভালো ব্যবহার না পাওয়ায় উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি সহযোগীদের নিয়ে সারোয়ার আলীর বাসায় ডাকাতির চেষ্টা চালান বলে জানিয়েছেন ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, নাজমুল হিন্দি সিনেমার পাগল। শয়নে স্বপনে হিন্দি সিনেমার প্রতিবাদী নায়ক হিসেবে কল্পনার মধ্যে থাকতেন। তবে সেই কল্পনায় থাকা নায়ক হিসেবে ড. সারোয়ারের পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত ব্যবহার পাচ্ছিলেন না। সে জন্যই তার পরিবারকে উচিত শিক্ষা দেয়া ও ভয় দেখিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল নাজমুল। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য রনি নামের তার এক চাচাতো ভাইকে রাজি করায়। এছাড়া তার ভগ্নিপতি আল আমিন মোহাম্মদ ও আটক ফয়সালকে ডাকাতির কাজে নিযুক্তও করে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নাজমুল ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আসামিদের সঙ্গে কর্মপন্থা ঠিক করে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর আজিমপুর লেবার মার্কেট হতে মনির  স(বর্তমানে আটক) ও আগে গ্রেপ্তার হওয়া ফাহাদকে দৈনিক ৫০০ টাকার ভিত্তিতে কাজে নেয়। ডাকাতের বিষয়টি জানালে তারা রাজিও হয়।

ডিআইজি বনজ কুমার জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায় গত ৪ জানুয়ারি তারা সবাই মিলে রাজধানী আশকোনা এলাকায় হাজী ক্যাম্পের সামনে একটি হোটেলে নাশতা করার সময় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। বৈঠকে নাজমুল সদস্যদের জানায় ঘটনাটি সংঘটনের জন্য সে তিন মাস ধরে দাড়ি-গোঁফ কাটা বন্ধ রাখে যাতে উল্লেখিত বাসায় তাকে কেউ চিনতে না পারে।

ঘটনার দিন ৫ জানুয়ারি বিকেলপাঁচটার দিকে আশকোনা এলাকার হোটেল রোজভ্যালির ৩০৩ কক্ষে মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুলের নেতৃত্বে ৭ আসামি ডাকাতির চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। ঘটনার মূল হোতা নাজমুল বাসার পরিবেশ ও পার্কিং স্পেস সম্পর্কে সবাইকে জানিয়ে ডাকাতির সময় কার কি ভূমিকা হবে তা বুঝিয়ে দেয়। নাজমুল অন্যান্য আসামিদের জানায় যে. ড. সারোয়ার আলীর বাড়িতে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার রয়েছে ‌। তবে সে অন্যান্য আসামিদের কাছে ড. সারোয়ার আলীর পরিবারের প্রতি তার ক্ষোভের বিষয়টি গোপন রাখে।

৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাতটার দিকে হোটেল থেকে আসামি নাজমুল প্রথমে একা বেরিয়ে যায়। পরবর্তীতে নাজমুল বেরিয়ে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর আসামি রনিসহ ৬ জন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা করে। আসামি নাজমুল একটি ব্যাগে করে সাতটি চাপাতি, পাঁচটি সুইচগিয়ার নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আসামি রনির হাতে ছবিগুলো দেয়। রনি ঘটনাস্থলে থাকা পাঁচ আসামিকে চুড়িগুলো বিতরণ করে। নাজমুল রাত নয়টার সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী চার প্যাকেট বিরানি নিয়ে বাসায় প্রবেশ করে দারোয়ান হাসানকে দেয় এবং কৌশলে ঘুমের ঔষধ খাওয়ায়ে। পরে হাসান ঘুমিয়ে পড়বে আশায় অপেক্ষা করতে থাকে।

তবে রাত দশটা পর্যন্ত দারোয়ান হাসান না ঘুমালে তাকে বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে নাজমুল। এসময় বাইরে থেকে ফয়সালকে ডেকে নিয়ে দ্বিতীয়তলায় গিয়ে আড়ালে থেকে অপেক্ষা করতে বলে। তার সঙ্গে থাকা চাপাতি গ্যারেজের পাশে রেখে দেয়। এরপর নাজমুল ও ফয়সাল দ্বিতীয় তলায় তাদের স্যান্ডেল খুলে রেখে তৃতীয় তলায় সারোয়ার আলীর মেয়ের বাসায় নক করে। তার মেয়ে দরজা খুলে দিলে নাজমুল ও ফয়সাল তাকে ধাক্কা দিয়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে।

ড. সারোয়ারের মেয়ে ও তার জামাইকের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে রাখে। পরে রাত ১০ টা ২৫ মিনিটে ফয়সালকে তৃতীয় তলার নিয়ন্ত্রণে রেখে নাজমুল চতুর্থ তলায় ড. সারোয়ার আলীর ফ্লাটে এসে নক করে। দরজা খুলে দিতেই জোর করে ঢুকে তাকে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে মেঝেতে ফেলে গলায় ছুরি ধরে। এ সময় নাজমুল বাইরে অপেক্ষারত সহযোগীদের ফোনে ভেতরে আসতে বলে। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া মেজর অবসরপ্রাপ্ত শাহাব উদ্দিন চাকলাদার ও তার ছেলে মোবাশ্বার চাকলাদার চতুর্থ তলায় আসেন।

দারোয়ান ঘুমিয়ে না পড়ায় আর নাজমুলের সহযোগিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়ায় নাজমুল হতাশ হয়ে পড়ে। এসময় ড. সারোয়ার আলী পরিবারকে রক্ষায় ভাড়াটিয়ার ছেলে টি টেবিলে হাতে নিয়ে ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করলে গ্লাসটি ফ্লোরে পড়ে বিকট শব্দ হয়। তখন নাজমুল ভয় পেয়ে দ্রুত বাসা থেকে পালিয়ে যায়। উপরে শব্দ শুনে তৃতীয় তলায় থাকা আসামির ফয়সালা দ্রুত পালিয়ে যায়। নাজমুল আর ফয়সাল দৌড়ে নিচে চলে এলে অন্যান্য সব আসামি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আসামিদের ফেলে যাওয়া যাবতীয় আলামত উদ্ধার করে।

ডিআইজি বনজ কুমার বলেন, এটি ড. সারোয়ার আলীকে হত্যা চেষ্টার ঘটনা নয়, এটি স্রেফ ডাকাতির চেষ্টা ছিল। তবে আসামি নাজমুল মানসিকভাবে অসুস্থ কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

ডিসি