মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়!

আগের সংবাদ

ডিসিসি নির্বাচন হোক গণতন্ত্রের আরেক বিজয়

পরের সংবাদ

আলো ছড়ানো বঙ্গবন্ধু বিপিএল

জুবায়ের আহমেদ,  শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ২২, ২০২০ , ৯:৫৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম আসর মাঠে গড়িয়েছিল স্বাধীনতার স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গ ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নামে। বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ হয়েছে রাজশাহী রয়্যালস বনাম খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার ফাইনালে রাজশাহী রয়্যালস প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সপ্তম আসর মাঠে গড়িয়েছিল স্বাধীনতার স্থপতি বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর প্রতি উৎসর্গ ও শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ নামে। সিলেট থান্ডার বনাম চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া বঙ্গবন্ধু বিপিএল শেষ হয়েছে রাজশাহী রয়্যালস বনাম খুলনা টাইগার্সের মধ্যকার ফাইনালে রাজশাহী রয়্যালস প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা, ১৪০ কি.মি. গতির পেসার ও লেগ স্পিনারদের না খেলানো এবং পর্যাপ্ত দর্শক না হওয়ার বিষয়ে সমালোচনা হলেও মাঠের খেলায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের দাপট, অন্যান্য যে কোনো আসরের তুলনায় বেশি রান ওঠা মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল স্বাদ উপভোগ করেছে ক্রিকেটপ্রেমী সমর্থকরা।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে বিসিবির বনিবনা না হওয়ার পর বিসিবি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বিপিএল আয়োজনের ঘোষণা দেয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ধারণা করা হয়েছিল তরুণ ক্রিকেটাররা প্রাধান্য পাবে বিপিএলে, যাদের মধ্য থেকেই আগামীর সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাররা উঠে আসবে, হয়েছেও তাই। বঙ্গবন্ধু বিপিএল ২০১৯ শেষে বেশ কয়েকজন তরুণ ক্রিকেটার নিজেদের মেলে ধরেছেন, জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা এবং দলের বাইরে থাকা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও আলো ছড়ানো পারফর্ম করেছেন। বিপিএলের ম্যাচগুলোতে পর্যাপ্ত রান হয় না বলে যে অভিযোগ ছিল, সে অভিযোগও অনেকটাই কমেছে এ বছর। কম রান ওঠার অভিযোগ থাকা স্বয়ং মিরপুরেও এবার রান-বন্যা হয়েছে প্রায় ম্যাচে আর চট্টগ্রাম ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বর্গরাজ্য।
২০১৩ সাল থেকে ২০১৮-১৯ পর্যন্ত প্রতি বিপিএলে ওভারপ্রতি রান ওঠার রেকর্ডকে পেছনে ফেলে এবার সর্বোচ্চ রান হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ৪৬ ম্যাচে এভারেজে ৮.০৭ রান উঠেছে। অন্যান্য আসরের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি ৮টি ইনিংসে ২০০-এর অধিক রান পেয়েছে দলগুলো। ২০১৭ সালে হয়েছিল ৭টি ২০০ ছড়ানো ইনিংস। ২০১৩ সালে ছিল ৫টি। ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪৯৫ রান করেছেন রাইলি রশো। মুশফিক ৪৯১, লিটন দাশ ও শোয়েব মালিক ৪৫৫, ডেভিড মালান ৪৪৪, ইমরুল কায়েস ৪৪২, তামিম ইকবাল ৩৯৬, আফিফ হোসাইন ৩৭০, মোহাম্মদ নাইম ৩৫৯ ও মোহাম্মদ মিথুন ৩৪৯ রান করেছেন। সেরা ১০ রান সংগ্রাহকের মধ্যে সাতজনই ছিলেন বাংলাদেশি।

বল হাতে সর্বোচ্চ ২০ উইকেট শিকার করেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ আমির, রুবেল হোসাইন ও রবি ফ্রাইলিংক। শহিদুল ইসলাম ১৯, মেহেদী হাসান রানা ১৮, মুজিবুর রহমান ও লুইজ জর্জ ১৫, মোহাম্মদ ইরফান, ইবাদাত হোসাইন ও আন্দ্রে রাসেল ১৪ উইকেট শিকার করেন। সেরা ১০ উইকেট সংগ্রাহকের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন বাংলাদেশি। সেরা অলরাউন্ড পারফর্ম করেছেন তারকা ক্রিকেটার সৌম্য সরকার। ব্যাট হাতে ৩৩১ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ১২ উইকেট শিকার করেন তিনি।

ব্যাট হাতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তরুণ তারকা ওপেনার নাজমুল হোসাইন শান্ত। এ ছাড়া সেঞ্চুরি করেন আন্দ্রে ফ্লেচার ও ডেভিড মালান। বিসিবির নিজস্ব তত্ত¡াবধানে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু বিপিএলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল তরুণ ক্রিকেটারদের তুলে আনার। সে লক্ষ্য পুরোপুরিভাবেই পূরণ হয়েছে, তা অনায়াসেই বলা যায়। গতি তারকা হাসান মাহমুদ, মুকিদুল ইসলাম, মেহেদী হাসান রানাদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বিরা পারফর্ম করেছেন, সেইসঙ্গে ব্যাট হাতে মোহাম্মদ নাইম, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসাইন শান্তরা দুর্দান্ত খেলেছেন। বিশেষ করে মেহেদী হাসান একাই ৩টি ঝড়ো ফিফটি করেছেন। সেইসঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম, লিটন দাশ, ইমরুল কায়েস, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিথুন, মোমিনুল হক মাঝপথে সুযোগ পাওয়া জিয়াউর রহমান দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। তবে সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মোসাদ্দেক সৈকত, ইয়াসির আলী রাব্বি, এনামুল হক বিজয়, আরাফাত সানি, নাইম হাসানরা ভালো খেলতে পারেননি। নিয়মিত সুযোগের পরও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন তারা। সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আসল স্বাদ দর্শকরা যেমন চায়, তার সবকিছুই ছিল বঙ্গবন্ধু বিপিএলে।

শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা।

নকি