ডিজেএ’র উদ্যোগে গরীব অসহায় মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

আগের সংবাদ

বড়লেখায় স্ত্রী-শাশুড়িসহ চারজনকে হত্যার পর আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

শিল্পাঞ্চল থানায় এফডিসি কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৯, ২০২০ , ৬:৫৮ অপরাহ্ণ

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা হেফাজতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) এক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পুলিশের দাবি, আবু বক্কর সিদ্দিক বাবু (৪৫) নামের ওই ব্যক্তি গত শনিবার মধ্যরাতে থানার হাজতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। তবে স্ত্রী আলেয়া বেগমের সন্দেহ বাবুকে থানায় ‘নির্যাতন চালিয়ে হত্যা’ করা হয়েছে। নিহত বাবু বিএফডিসি’র ফোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত শনিবার নিহত ব্যক্তিকে নারী নির্যাতন ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

শিল্পাঞ্চল থানার ওসি আলী হোসেন বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়া এবং ছবি তুলে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এক নারী বাবুর বিরুদ্ধে ওই মামলা করেন। শনিবার গ্রেপ্তার করার পর তাকে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল। মধ্যরাতের পর হাজতের গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে গতকাল রবিবার ভোর ৪টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত শনিবার সন্ধ্যার পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ বাবুকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। রোকসান আক্তার নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ইন্সপেক্টর ইফতেখার ইসলাম গতকাল ভোর ৪টায় অচেতন অবস্থায় বাবুকে ঢামেকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে নিহতের সদ্য তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসি তার লাশ শনাক্ত করেন।

আলেয়া ফেরদৌসী ঢাকা মেডিকেলে সাংবাদিকদের বলেন, বাবুকে মিথ্যা অভিযোগে শনিবার রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে পুলিশই জানিয়েছে বাবু ঢামেক হাসপাতালে আছে। পরে হাসপাতালে এসে তার মৃতদেহ দেখতে পাই। আলেয়া ফেরদৌসীর অভিযোগ, থানায় নির্যাতন চালিয়ে বাবুকে হত্যা করা হয়েছে। বাবুর গলায়, মুখে আঘাতের চিহ্ন আছে।
আলেয়া জানান, তিনি ২ ছেলেকে নিয়ে সবুজবাগ মাদারটেকে থাকেন। রোকসানা আক্তার মায়া নামের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বাবুর। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ও কলহ চলায় ৩/৪ মাস আগে তাদের মধ্যে তালাক হয়। এরপর থেকে আলাদা থাকতেন। বাবু কোথায় থাকতেন তা জানেন না আলেয়া। নিহত বাবু নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বালিয়াকান্দি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে।

বাবুর সহকর্মী ক্যামেরাম্যান জিএম সাইফ জানান, শনিবার তারা একসঙ্গেই কাজ করেছেন। রাতে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে থানা থেকে ফোন করে বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানানো হয়। আলেয়ার মত সাইফেরও সন্দেহ, থানা হাজতে বাবুর মৃত্যুর কারণ ‘নির্যাতন’। ঢামেক মর্গে সহকর্মীর লাশ দেখে আসার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বাবুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। গলায় ফাঁস লাগলে যেমন হয়, তেমন কোনো চিহ্ন তো দেখিনি। তিনি বলেন, বাবু আত্মহত্যা করার মতো ছেলে নয়। থানায় সে কিভাবে আত্মহত্যা করে করবে। এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মৃত্যুর জন্য পুলিশই দায়ী। আমরা তার মৃত্যুর বিচার চাই।

নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, তাদের পরিবার হত্যার অভিযোগ করতেই পারে। রাত ৩টার পরের ঘটনা। থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাদর দিয়ে ফাঁস নেয়ার চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট দেখা গেছে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের নজরে আসা মাত্র তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। হাজতের সামনে সেন্ট্রির দায়িত্বে কেউ ছিল কিনা জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, সেন্ট্রিরা সাধারণত থানার গেটে থাকে। হাজতের সামনে কেউ ডিউটি করেন না।

নকি