সিটি নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ২ হাজার ৪৬৮টি

আগের সংবাদ

বাণিজ্যমেলায় নারীদের ভিড় কসমেটিক-গয়নার স্টলে

পরের সংবাদ

বিনা সুদে কৃষকদের ঋণসুবিধা দেব

মরিয়ম সেঁজুতি

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৯, ২০২০ , ১২:১৬ অপরাহ্ণ

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে রূপালী ব্যাংক কৃষকদের মাঝে বিনা সুদে কৃষিঋণ বিতরণ শুরু করেছে। এর ফলে কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃষকবান্ধব অর্থনৈতিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের জন্য নিয়েছেন এক যুগান্তকারী উদ্যোগ। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছেন বিনা সুদে কৃষিঋণ। এ প্রকল্প রূপালী ব্যাংককে আর্থিকভাবে লাভবান না করলেও দেশের অর্থনীতির জন্য সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াবে বাংলাদেশের গ্রামীণ কৃষি অর্থনীতি। আর বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এখনো কৃষিনির্ভর হওয়ায় পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থাতেই বেশ ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বিনা সুদে ঋণ বিতরণের এই উদ্যোগ। গতি বাড়াবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

এ বিষয়ে ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বাংলার কৃষকদের জন্য আজন্ম লড়াই করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যুদ্ধ পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনে বাংলার কৃষকদের ও কৃষিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষকদের নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে গেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ৪৩ লাখ কৃষককে পুনর্বাসিত করেছেন; কৃষকদের খাজনা মওকুফ করেছেন, বিনা মূল্যে বিতরণ করেছেন দেড় লাখ গরু, সার, উন্নত বীজ, সেচ পাম্প। কৃষকদের মাঝে নামমাত্র সুদে ঋণ বিতরণের জন্য গঠন করেছেন ব্যাংক। প্রথম বাজেটেই এক-পঞ্চমাংশ বরাদ্দ দিয়েছিলেন কৃষি খাতে। মাসুদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষে আমিও মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি এবং কৃষককে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। প্রাথমিক প্রকল্প হিসেবে চলতি বছরের প্রথম দিন থেকে টমোটো চাষিদের ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ক্রমন্বয়ে সারাদেশের সব শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাষিদের মাঝে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে। আদা, হলুদ, পেঁয়াজ, আম চাষে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করা হবে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ‘মুজিববর্ষের স্পর্শে স্পন্দিত রূপালী ব্যাংক’ উপলক্ষে ১ জানুয়ারি থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে টমোটো চাষিদের মধ্যে ‘জিরো কুপন লেন্ডিং’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ব্যাংকটি। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নাটোরের ৫০০ টমোটো চাষিকে ৫০ হাজার টাকা করে ঋণ বিতরণ করেছে রূপালী। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৯-২০ অর্থবছরের কৃষিঋণ নীতিমালা অনুযায়ী এই পরিমাণ ঋণ দিয়ে কৃষক ১ দশমিক ২৯ একর জমিতে টমোটো চাষ করতে পারবে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি ঋণের মেয়াদ থাকবে ৬ মাস। গ্রীষ্মকালীন টমোটো ও রবি টমোটো চাষের জন্য বছরে দুইবার ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকটি। রবি চাষের জন্য ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর এবং গ্রীষ্মকালীন চাষের জন্য ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই ঋণ বিতরণ করা হবে। রবি চাষের জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এবং গ্রীষ্মকালীন সময়ের জন্য নেয়া ঋণ পরিশোধ করতে হবে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।

এই ঋণ সহায়ক জামানতমুক্ত। তবে স্বামী বা স্ত্রী অথবা গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি ঋণের জামিনদার হিসেবে থাকবেন। কৃষককে ১০ টাকার কৃষক হিসাবের মাধ্যমেই ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ করতে হবে। উৎপাদিত টমোটো বিক্রির অর্থের মাধ্যমে দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ঋণ বিতরণকারী শাখা কৃষকের ১০ টাকার হিসাব থেকে ঋণের টাকা আদায় করতে পারবে। ঋণ বিতরণকারী শাখা, জোনালা অফিসের প্রতিনিধি ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত টিম চারা রোপণ থেকে শুরু করে ঋণ আদায় পর্যন্ত তদারকি করবেন বলে জানা গেছে।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, বঞ্চিত কৃষককে উৎসাহ দিতেই বিনা সুদে ঋণ দেয়ার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে রূপালী ব্যাংক। প্রান্তিক চাষি থেকে ভোক্তা পর্যন্ত দামের যে বড় ব্যবধান এখানে সুদেরও একটা ভ‚মিকা আছে। এখন যদি আমরা কৃষককে বিনা সূদে ঋণ দেই এবং পণ্য ২ টাকার জায়গায় ৩০ টাকায় বিক্রি করি, তা হলে সে যেমন বাড়তি মুনাফা পাচ্ছে তেমনিভাবে সে সাবলম্বী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, আমি জামালপুরে দেখেছি কৃষক ২ টাকা কেজি দরে টমোটো বিক্রি করছে। অথচ ক্রেতা সেই টমোটো কিনছে ১০০ টাকা কেজিতে। এ জন্যই আমি কৃষকদের মাঝে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করে একদিকে তাদের দাদনদারদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছি, অন্যদিকে কৃষক ও ভোক্তার জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চাচ্ছি। ক্রমন্বয়ে সারাদেশের সব শাখার মাধ্যমে আলু, পেঁয়াজ, আম, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যে বিনা সুদে ঋণ বিতরণ করব।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে তারা যে প্রকল্পটা গ্রহণ করেছে, এটা যদি ফলপ্রসূ হয় এবং সম্প্রসারিত হয়, তা হলে আমাদের দেশের অনেক কৃষক এর আওতায় আসবে এবং এটা দেখে অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো উৎসাহিত হবে। এটা আমাদের কৃষিতে একটা বড় বিপ্লব নিয়ে আসবে।

মুনাফাহীন এই ঋণ প্রকল্পে রূপালী ব্যাংক কেন সম্পৃক্ত হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে রূপালী ব্যাংকের এমডি বলেন, জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।

৪০ ভাগেরও বেশি মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল হলেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তাদের একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপালী ব্যাংকও সরকারের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অংশীদার হতে চায়। এ জন্য শুধু মুনাফার পিছে না ছুটে দেশের অর্থনীতির অন্যতম মূল ভিত্তি কৃষক সমাজের জন্য কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজীবন বাংলার এই বঞ্চিত কৃষক সমাজের জন্যই সংগ্রাম করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর এই কৃষকবান্ধব কর্মকাণ্ডকেই আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিয়েছি।

এমএইচ