বাস থেকে যাত্রীকে ধাক্কা, দুই-পা পৃষ্ট

আগের সংবাদ

সুরের কারিগরের চলে যাওয়ার এক বছর

পরের সংবাদ

প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৮, ২০২০ , ১০:২২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২০ , ১২:০৫ অপরাহ্ণ

এখনো নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেননি কোনো প্রার্থীই। তবে প্রতিদিনের গণসংযোগে ভোটারদের মন জয়ে ছড়াচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। কোনো কোনো প্রার্থী এমন প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন, যা বাস্তবায়নযোগ্য নয় অথবা সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্তও নয়। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা স্বাভাবিক কারণেই উন্নয়নকেই করেছেন প্রচারের মূলমন্ত্র। অঙ্গীকার করছেন অতীতের অনিয়ম-দুর্নীতিকে ঝেটিয়ে বিদায় করার। আর বিএনপি মনোনীত দুই মেয়র প্রার্থী গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির ঢাক বাজাচ্ছেন জোরেশোরে। তবে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিতেও পিছিয়ে নেই তারা। ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির বয়ানেও কথার খই ফোটাচ্ছেন। মোটা দাগে মাদক-সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত, নারীবান্ধব, সবুজ-তিলোত্তমা রাজধানী গড়ে তোলা, হেল্পলাইন চালু করে ২৪ ঘণ্টা নগরবাসীর সেবা দেয়া, যানজট দূর করা, জলাবদ্ধতা দূর করা, স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো, নগরের সৌন্দর্য বাড়ানো, ৬ লেনের রাস্তা নির্মাণ, নির্বাচনের ৯০ দিনের মধ্যেই সব নাগরিক সুবিধা পৌঁছে যাবে জনগণের দোরগোড়ায় এমন নানা প্রতিশ্রুতির জোয়ারে ভাসছেন নগরবাসী। প্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের কর্মী-সমর্থক এবং সংশ্লিষ্ট দলের নেতারাও বক্তৃতায়-শ্লোগানে তুলে ধরছেন প্রতিশ্রুতির ফিরিস্তি।

সভা-সমাবেশ, মিছিল আর জনসংযোগে জমজমাট ভোটের মাঠ। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট চেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা রাজধানীর উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর বিএনপি প্রার্থীরা বলছেন, ধানের শীষের পক্ষে জনজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। শেষ সময় পর্যন্ত ভোটের মাঠে থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও ঘোষণা তাদের। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঢাকার দুই সিটির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি আর ভোটের আবেদন নিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন তারা।

উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের রাজধানী কেমন হবে, সেভাবে ঢাকাকে সাজাতে মেয়র পদে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে জানিয়ে নির্বাচিত হলে কী কী করবেন তার বিবরণ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। তার পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে মেট্রোরেলের পাশাপাশি রাজধানী সংলগ্ন দুই নদী বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড়ে ছয় লেনের রাস্তা করার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার পাড়ে ছয় লেনের রাস্তা করে দেব। এই রাস্তা দিয়ে ঢাকার যে কোনো প্রান্তের মানুষ যোগাযোগ গড়ে তুলতে পারবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকবে। তারা যেন মাদকাসক্ত না হয় সে জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হবে। বর্জ্য রাস্তায় পড়ে থাকবে না, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থাপনা থাকবে। পুরান ঢাকায় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী। তার মতে, প্রশাসন দিয়ে নয়, পঞ্চায়েতের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় সমস্যার সমাধান করব। একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে মানুষের মৌলিক নাগরিক সুবিধা পূরণ করব। যদি মেয়র নির্বাচিত হতে পারি তাহলে ৯০ দিনের মধ্যে মৌলিক সুবিধাগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেব। মেয়র হলে সিটি করপোরেশন থেকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সরকারি সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করবেন তিনি। তাপস বলেন, আজকে রাস্তা করলাম কালকে বৃষ্টিতে ভিজে গেল, রাস্তা ভেঙে গেল এই অবস্থা থাকবে না। আমাদের কাজ করার পরে অন্য কোনো সংস্থা-প্রতিষ্ঠান কোনো কাজ কর?তে পার?বে না। আমরা কাজ করার আগে তাদের সময় দেব, সুযোগ দেব। কারণ আমরা যে কোনো কাজ কমপ?ক্ষে ১০ বছর মেয়া?দি করব। দুর্নীতিমুক্ত নগর ভবন, হেল্পলাইন চালু করে ২৪ ঘণ্টা নগরবাসীর সেবাদানসহ নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের ঢাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি তাপসের। অবহেলিত কামরাঙ্গীরচরকে আধুনিক করে গড়ে তোলার আশা দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে ঢাকাকে বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই দক্ষিণের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রধান প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে উন্নত ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলব। সবার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করব। প্রতি ওয়ার্ডে জনসংখ্যা ও ঘনত্ব বিবেচনায় গণশৌচাগার নির্মাণ করব। নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। নির্বাচিত হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে থাকব। ইশরাক বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা মহানগরীতে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ‘নগর সরকারের আদলে’ একটি বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত নগরী উপহার দিতে চান তিনি। তার নির্বাচনী ইশতেহারেও দূষণ, জলাবদ্ধতা, অনিরাপদ পানি সরবরাহ, যানজটসহ নানা নাগরিক সমস্যা সমাধানের বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। ইশরাক বলেন, নির্বাচিত হলে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই মশা নিধনে ব্যাপকভিত্তিক কাজ শুরু করব। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা, যানজট ও মাদক সমস্যাকে প্রাধান্য দিয়ে ১০০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করব। পরে নগর পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে ঢাকার সংকট নিরসনে বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ আর অভিজ্ঞদের মতামতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেব। ভোটারদের দেয়া এসব প্রতিশ্রুতি আমার নির্বাচনী ইশতেহারেও থাকবে।

এদিকে ঢাকা উত্তরের নৌকার প্রার্থী আতিকুল ইসলামের প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ, পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, যানযটমুক্ত ঢাকা, মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতিমুক্ত নারীবান্ধব সবুজ ঢাকা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, প্রতি মাসে ১টি করে সিটি হল মিটিং করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। নতুন ওয়ার্ডগুলোকে গুলশান, বনানীর মতো গড়ে তুলব। সাবেক এই মেয়র বলেন, আমরা একটি পরিকল্পিত ‘স্মার্ট ঢাকা’ গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য ঘরে ঘরে উন্নয়নের মার্কা নৌকা পৌঁছে দিতে হবে। ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার উদ্যোগ নেব। ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি, পর্যায়ক্রমে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন করতে পারব। নয় মাসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাজধানীর উন্নয়ন করব। এই কঠোর অনুশীলনের পর ভবিষ্যতে তা ভালোভাবে প্রয়োগ করতে পারব।

অন্যদিকে আধুনিক ও টেকসই নগরী গড়তে ১২টি নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করেছেন উত্তরের ধানের শীষ প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তাবিথ বলেন, বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, অধিক বাড়িভাড়া, যানজট, ফুটপাত দখল, মশার উৎপাত এবং তা থেকে প্রাণঘাতী রোগের বিস্তার এমন ১২টি নাগরিক সমস্যা এরই মধ্যে আমরা চিহ্নিত করেছি। এই ১২টি জায়গায় আমরা সমন্বয় ও গুরুত্বের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করতে চাই। সেই সঙ্গে নজর থাকবে দুর্নীতি দমনে। একজন সুইপার থেকে মেয়রের দপ্তর পর্যন্ত দুর্নীতি ছড়িয়ে আছে। এ ছাড়া পার্ক, খেলার মাঠ দখলমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল।

ডিসি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়