পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা

আগের সংবাদ

বিশ্বে সবচেয়ে শিশুবান্ধব ডেনমার্ক নরওয়ে কানাডা

পরের সংবাদ

বিল গেটসের স্বপ্নের হিরো বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৭, ২০২০ , ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের বহু মানুষের কাছে তিনিই হিরো। তাকে দেখেই অনেকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন। অনেকেই তাকে অনুকরণ কিংবা অনুসরণ করেন। কিন্তু সেই নায়কের চোখে বিশ্বের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমাজ বদলে দেয়ার স্বপ্নে যারা কাজ করছেন তারাও একেকজন নায়ক।

তাদের নিয়ে নিয়মিত নিজের ব্লগসাইটে ‘বিল গেটস হিরোস ইন দ্য ফিল্ড’ শিরোনামে ব্লগ লেখেন তিনি। গত মঙ্গলবার বিল গেটস তার ব্লগে ডা. সমির সাহা ও সেঁজুতি সাহা নামে বাংলাদেশি এক বাবা-মেয়েকে বেছে নেন এবারের নায়ক হিসেবে।

সেখানে বিল গেটস লিখেন, সেঁজুতি সাহা বাংলাদেশে ছোট্ট শিশু হিসেবে বেড়ে ওঠার সময় দেখেছেন কীভাবে রাতের খাবারের টেবিলে তাদের পরিবারের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতো ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং সংক্রামক ব্যাধি। খাবারের সময় এ ধরনের বিষয় নিয়ে আলোচনা অনেকের কাছে অদ্ভুত লাগতে পারে। কিন্তু সেঁজুতি সাহার পরিবারে এটা ঘটত। তার বাবা ডা. সমির সাহা নিজের কাজ নিয়ে বাসায় আলোচনা করতেন।

মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক সমির সাহা রাতের খাবারের সময় এভাবে তার বিজ্ঞান বক্তৃতার অনুশীলন করতেন। বাংলাদেশি এই বাবা-মেয়ের খাবার টেবিলে না থাকতে পারায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন বিল গেটস। তিনি লিখেন, আমার জন্যও যদি ওই টেবিলে একটি চেয়ার থাকত, কতই না ভালো হতো! আমি রোগব্যাধি সম্পর্কে জানতে পছন্দ করি!

খাবার টেবিলের এসব আলোচনা সেঁজুতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলত। পরে তিনি নিজেকে একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ডা. সেঁজুতি সাহা বর্তমানে তার বাবার সঙ্গে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (সিএইচআরএফ) কাজ করেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠছে সমির সাহার সহায়তায়। এই বাবা-মেয়ে বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্যের গতিশীল এক জুটি। যেখানে শিশুমৃত্যুর হার বেশি রয়েছে, সেসব কমিয়ে আনতে কাজ করছেন তারা। তাদের এই গবেষণা শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ব্যবহৃত হচ্ছে। সমির এবং সেঁজুতির কাজের প্রশংসা করে বিল গেটস লিখেন, এই বাবা-মেয়ের কাজের কল্যাণে বাংলাদেশ এমন এক ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সংক্রামক ব্যাধি খুব কম থাকবে এবং হাসপাতালের শয্যাগুলো ফাঁকা পড়ে থাকবে।

ডিসি