বাণিজ্যমেলায় শীতের পোশাকের দাম চড়া

আগের সংবাদ

ক্যাসিনোকাণ্ডে এনামুল-রুপম ৪ দিনের রিমাণ্ডে

পরের সংবাদ

স্বর্ণ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের অনীহা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৪, ২০২০ , ১:৩৭ অপরাহ্ণ

স্বর্ণের চোরাচালান ঠেকাতে প্রায় এক বছর আগে বৈধপথে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই নীতিমালার আলোকে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি চেয়ে ৪৭টি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদনও করেছিল। যাচাই-বাছাই শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের ১ ডিসেম্বর ১টি ব্যাংক ও ১৭টি জুয়েলার্সকে স্বর্ণ আমদানির অনুমতি দেয়। বাতিল করা হয় ২৯টি আবেদন।

তবে বৈধপথে স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা জারি করে লাইসেন্স দেয়া হলেও কোনো ব্যবসায়ী স্বর্ণ আমদানি করেননি। ভ্যাট-ট্যাক্স-শুল্ক দিয়ে আমদানি করতে গেলে দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় গত এক মাসে স্বর্ণ আমদানি হয়নি।

জানা গেছে, মাসাধিকাল পরেও স্বর্ণ আমদানির অনুমোদন পাওয়া কোনো প্রতিষ্ঠানই আমদানি শুরু করেনি।  জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, নীতিমালায় ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর ধার্য করা থাকলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে এখন তা দেখানো হচ্ছে ১৫ শতাংশ। তার সঙ্গে যোগ করা হয়েছে ৫ শতাংশ ট্রেড ভ্যাট। আর প্রতি ভরিতে আমদানি শুল্ক ২ হাজার টাকা রয়েছে অপরিবর্তিত। এই ভ্যাট-ট্যাক্স ও শুল্ক দিয়ে স্বর্ণ আমদানি করলে বাজারে স্বর্ণের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেড়ে যাবে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, দেশের বাজারে যে স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে তা আন্তর্জাতিকমানের। তাতে দাম বেশি থাকে মাত্র দুই হাজার টাকা। আমদানি করতে গেলে দাম বাড়বে কম করে হলেও ১২ হাজার টাকা। কারণ ১৫ শতাংশ ভ্যাট ৭ হাজার ৫০০ টাকা, ৫ শতাংশ এআইটি ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ২ হাজার টাকা শুল্ক। মোট ১২ হাজার টাকা। বেশি থাকা দামের ২ হাজার টাকা বাদ দিলেও গড়ে ১০ হাজার টাকা দাম বাড়বে।

বাজুস সভাপতি বলেন, কীভাবে কখন ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর পরিবর্তন করে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে তার কিছুই জানেন না ব্যবসায়ীরা। আমদানি শুল্কের এই হার কার্যকর থাকলে দেশে কোনোদিনই স্বর্ণ আমদানি হবে না।

তিনি বলেন, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বাস্তবায়ন হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দেশের স্বর্ণের দামের ব্যবধান থাকবে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা।

চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর বাজুস নির্ধারিত নতুন মূল্য তালিকায় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ হাজার ১৯৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ভরির দাম ৫১ হাজার ৮৪৬ টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১১ মার্চ দরখাস্ত আহবান করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদন জমা নেয়া হয়। যাচাই-বাছাই শেষে একটি ব্যাংকসহ ১৮ প্রতিষ্ঠানকে দুই বছরের জন্য ডিলার লাইসেন্স দেয়া হয়। তবে স্বর্ণ আমদানির প্রতিপদে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে।

এমএইচ