সেলিম আল দীন স্মরণোৎসবের প্রথমদিনে ‘হরগজ’ মঞ্চস্থ

আগের সংবাদ

টাইগাররা ৩ ধাপে পাকিস্তান যাচ্ছে

পরের সংবাদ

প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের চিত্রনির্মাতাদের মতবিনিময় সভা

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৪, ২০২০ , ৯:৩৪ অপরাহ্ণ

অষ্টাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের চতুর্থ দিনে ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগানে ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত হলো ‘ওয়েস্ট মিটস ইস্ট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী লাউঞ্জে প্রাচ্যের সঙ্গে পাশ্চাত্যের এই মিলনমেলায় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র উৎসব বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রশিক্ষক সিডনি লেভিন, পোল্যান্ডের চিত্রনির্মাতা ও চিত্রনাট্যকার জোয়ানা কস-ক্রাউজ, বাংলাদেশের বাইরে লন্ডনে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে ২০ বছর ধরে একমাত্র আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রেইনবো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজক মোস্তফা কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিন চলচ্চিত্র নির্মাণের বিভিন্ন দিক, চলচ্চিত্র উৎসব, প্রিমিয়ার প্রদর্শনী, সেন্সরশিপ, তহবিল সংগ্রহ ইত্যাদি বিষয়ে বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেক প্রশ্নের উত্তরও দেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। উপস্থাপনা করেন মুম্বাইভিত্তিক চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক ভারতীয় চলচ্চিত্রবোদ্ধা মীনাক্ষী শেড্ডে।
মীনাক্ষী তার বক্তব্যে একটি চলচ্চিত্র উৎসব কীভাবে আয়োজন করতে হয় এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে নির্মাতারা কীভাবে তাদের চলচ্চিত্র জমা দিতে হয় এ বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশি নির্মাতাদের জন্য ভারতীয় তথা দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসবগুলো বেশি সুযোগ রাখে। ইউরোপ-আমেরিকা অপেক্ষা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশি নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ারের জন্য তুলনামূলক প্রশস্ত ক্ষেত্র। পাশ্চাত্যের চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতে হলে তুলনামূলক অনেক বেশি গুণগত মানসম্পন্ন হওয়া জরুরি। যেমন, সিনেমার সাবটাইটেল। এটাকে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। নির্মাণের শেষে তড়িঘড়ি করে একটা কিছু লিখে ছেড়ে দেন। কিন্তু এটাই একমাত্র মাধ্যম যার মাধ্যমে আপনার সিনেমার বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গণে পৌঁছে দেয়। নরওয়ের চিত্রপ্রযোজক, পরিবেশক ও শিক্ষক অগে হফার্ট এই ক্ষেত্রে প্রায় ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন উল্লেখ করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যের পাশাপাশি শিক্ষানবীশদের অনেক প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি।

ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, দেশি নির্মাতাদের জন্য ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব অনেক বড় একটি সুযোগ। তবে দু’টি শর্ত রয়েছে। এক. নির্মাতাদের চলচ্চিত্র অবশ্যই সেন্সরড হতে হবে। দুই. বাংলাদেশের অন্য কোন ‘চলচ্চিত্র উৎসবে’ প্রিমিয়ার হলে সেই চলচ্চিত্র এখানে প্রদর্শনের জন্য গৃহীত হবে না। ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সবসময়ই তরুণ নির্মাতাদের উৎসাহ দেয় এবং তাদের জন্য সুযোগ সবসময়ই উন্মুক্ত বলে জানান তিনি।
বিকেলের আয়োজনে একই ভেন্যুতে চলচ্চিত্রের জন্য তহবিল বিষয়ক দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় হয়।
১১ থেকে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৭৮টি দেশের ২২০টি সিনেমা প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর মধ্যে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ১১৭টি, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও স্বাধীন চলচ্চিত্র ১০৩টি রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র থাকছে ২৬টি।

নকি