মধ্যভাগে বাণিজ্যমেলায় অফারের ছড়াছড়ি

আগের সংবাদ

আশুলিয়ায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বাড়ি ঘেরাও পুলিশের

পরের সংবাদ

রাসায়নিক বর্জ্যের ‘ভাগার’ কীর্তনখোলা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৫:৪৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৪, ২০২০ , ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বরিশাল নগরীর সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানই তাদের রাসায়নিক বর্জ্য কীর্তনখোলা নদীতে ফেলে দুষণ ঘটাচ্ছে। অপসোনিন ও ক্যামিস্টের মতো ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নগরীর বাইরে স্থানান্তর করার কথা থাকলেও তা সরছে না। দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থাও নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর। এভাবে চলতে থাকলে কীর্তনখোলাকে বাঁচানো যাবে না বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ আইনবীদ সমিতির (বেলা) সমন্বয়ক লিংকন বায়েন বলেন, ওষুধ কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলা নদীর মধ্যে পড়ছে। এসব কারখানা নগরীর মধ্য থেকে বহু বছর আগেই সরে যাওয়ার কথা থাকলেও বহাল থেকে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দুষণ করছে। নগরবাসীর একটাই প্রশ্ন, এসব কারখানা নগরী থেকে কবে অপসারিত হবে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাড. এসএম ইকবাল বলেন, কীর্তনখোলা নদীতের ভয়াবহ দুষণের জন্য দায়ী কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলায় পড়ছে। এগুলো না সরাতে পারলে কীর্তনখোলাকে বাঁচানো যাবে না। তিনি আরো বলেন, নগরীর ঝাউতলা পুকুর দখলের পাঁয়তারা করা হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, তার কাছে কি? আদালতের কাছে যান। নগরবাসী পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের এমন মন্তব্যে হতাশ।

রোববার (১২ জানুয়ারি) বরিশাল সার্কিট হাইজে পরিবেশ বিষয়ক এক সভায় এসব অভিযোগ উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে। বরিশাল জেলা প্রশসাক এস এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম রফিক আহমেদ।

সভায় একাধিক সাংবাদিক অভিযোগ করেন, অপসনোনি, ক্যামিস্টসহ বিভিন্ন ওষুধ কারখানার বর্জ্য কীর্তনখোলায় পড়ছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক বলছেন কীর্তনখোলার দুষণ এখনও বিপদজনক অবস্থায় পৌঁছায়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্ন- আর কত দুষণ হলে কীর্তনখোলাকে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে।

শেরে বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের একজন সহকারী পরিচালক বলেন, তার হাসপাতালেও বিজ্ঞানসম্মতভাবে ক্লিনিকেল বর্জ্য রিসাইক্লিন হচ্ছে না। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, প্লাস্টিক পাঁচশ বছরেও ধ্বংস হয় না। সেই প্লাস্টিক কীর্তনখোলাসহ বিভিন্ন নদীতে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে নদী দুষণে মাছের প্রাচুর্যতা কমে যাচ্ছে। বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা মিঠু সরকার বলেন, লঞ্চ থেকে নদীতে যে বর্জ্য ফেলা হতো তা অনেকাংশে বন্ধ হয়েছে।

এসব প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ কে এম রফিক আহমেদ বলেন, কীর্তনখোলা নদী দুষণকারী ওষুধ কারখানার বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের এনফোর্সমেন্ট টিম শিগগিরই এসব কারখানাকে নোটিস দেয়াসহ বড় ধরনের জরিমানা করবে।

পরিবেশ বিষয়ক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) সাদিকুল ইসলাম, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. আব্দুল হালিম প্রমুখ।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়