মাইকিং করে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনি, নিহত ৩

আগের সংবাদ

সিন্ডিকেটের খপ্পরে শ্রমবাজার

পরের সংবাদ

প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

রাজপথে ভোটের উত্তাপ

ঝর্ণা মনি

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০২০ , ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

পৌষের তীব্র শৈত্যপ্রবাহেও সরগরম রাজপথ। স্লোগান, মিছিল, ভোট চাওয়ায় ব্যস্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। রাজধানীর অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন তারা। জোরেসোরে চলছে শোডাউন। ভোটের উত্তাপের কাছে যেন হার মেনেছে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, হামলা-মারামারি আর প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরিতে জমে উঠেছে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের প্রচারণা। এদিকে অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি। মাঠে রয়েছে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেক্টরিয়াল টিম। তারা কঠোরভাবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধি মনিটরিং করে প্রতিদিন ইসিতে রিপোর্ট দিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ নির্বাচন সংস্কৃতিরই অংশ। তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় কিনা এটি দেখার বিষয়।

প্রচারের তৃতীয় দিনে গতকাল রবিবার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছেন আওয়ামী লীগ-বিএনপি উভয় দলের মেয়র প্রার্থীরাই। উত্তরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল জানান, দুপুরে মিরপুর-১ নম্বরের উত্তর বিশিলে শাহ আলী মাজারের সামনে পুলিশের সামনেই তার প্রচার মিছিলে হামলা করেছে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা। এ সময় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, পুলিশের সামনেই আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। ২০১৫ সালে হামলার আশঙ্কায় আমি নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিলাম। তখন আমাকে পুলিশ প্রটেকশন দিয়েছিল। কিন্তু এবার পুলিশের সামনেই হামলার শিকার হলাম। আক্রান্ত হলেও শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। তাবিথ বলেন, ইটপাটকেল নিক্ষেপের কারণে তার প্রচারণার কাজ ঠিকমতো চালাতে পারছেন না। এ মুহূর্তে আমরা মুখোমুখি অবস্থানে যাচ্ছি না। প্রতিপক্ষের হামলায় আল আমিন নামে আমাদের এক কর্মী আহত হয়েছেন। শনিবারও আমার কর্মীর ওপর হামলা হয়েছে, তা ইসিকে জানাব। আমরা নির্বাচন কমিশনারের দিকে তাকিয়ে আছি। এদিকে তাবিথের প্রচারণা চলাকালে তার সঙ্গে থাকা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়ায় বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস অভিযোগ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশন রোডে তার গণসংযোগে ‘হামলা করেছে’ প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা। গতকাল শান্তিনগর কাঁচাবাজার থেকে প্রচার শুরুর আগে সাংবাদিকদের তাপস বলেন, আর কে মিশন রোডে নির্বাচনী প্রচারের এক পর্যায়ে আমাদের প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বাসাতেও আমি গিয়েছি। সেখানে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, ভোট চেয়েছি। কিন্তু আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর সন্ধ্যার দিকে তারা অতর্কিতে আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীসহ গণসংযোগে যারা ছিল তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন দক্ষিণের বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি জানান, নিজে প্রচারণা চালাতে পারলেও তার দলের কাউন্সিলর ও সমর্থকরা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। ইশরাক বলেন, আমার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করার পর সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা চোরের মতো পালিয়ে যাওয়ার সময় আমাদের দিকে ঢিল ছোড়ে।

এদিকে রাজধানীর দুই সিটি নির্বাচনে এ পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি বলছে, প্রত্যেকে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতীক বরাদ্দের দিন উভয় দলের প্রার্থী কথা দিয়েছেন, তারা অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাবেন। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহাদাত হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, নির্বাচনে প্রার্থীরা অভিযোগ তো করবেই। এসব আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়। আর আচরণবিধি দেখার জন্য মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। প্রতিদিন রাত ৮টায় তারা আমাদের কাছে রিপোর্ট পেশ করছেন। তারা কঠোরভাবে মাঠে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধি পালন করছে কিনা তা মনিটর করছেন। অন্যদিকে অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং অফিসার মো. আবুল কাসেম। তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। আর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আবুল কাসেম বলেন, মিরপুরের একটি ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। দুই পক্ষই পাশাপাশি প্রচারণা করছিল। এ সময় হয়তো একটু হইচই হয়েছে। তবে হামলার কথা আমরা শুনিনি। তিনি বলেন, অভিযোগ ছাড়াও আমরা কোনো ঘটনা জানতে পারলে প্রার্থীকে সতর্ক করছি। একটি পত্রিকায় দেখলাম, একজন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের দিন কয়েকটি গাড়ি নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাকে ডেকেছিলাম। তিনি বলেছেন, সেটি জানতেন না। ভবিষ্যতে যাতে এমনটি না ঘটে সে জন্য আমরা তাকে সতর্ক করেছি।

তবে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ না হলে নির্বাচন ঠিক সরগরম হয় না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নির্বাচন একটি উৎসব। উৎসবে যেমন হইচই থাকবে, তেমনি একে অপরের প্রতি অভিযোগও থাকবে। জানতে চাইলে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদ (জানিপপ) চেয়ারম্যান ও রংপুর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ভোরের কাগজকে বলেন, এটি আমাদের নির্বাচনী সংস্কৃতির অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ না হলে মাঠ গরম হয় না। ভোটাররাও উৎসাহিত হন না। গণমাধ্যমও উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। তবে এখন পর্যন্ত যা অভিযোগ উঠেছে, তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি।

এমএইচ