ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে জনপ্রতিনিধির নির্বাচন-২০২০

আগের সংবাদ

পারভেজ মোশারফের ফাঁসির রায় বাতিল

পরের সংবাদ

বিনামূল্যের বই আটকে ফি আদায়

মো. সুজন মোল্লা, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ

বানারীপাড়ায় সরকারি মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের (পাইলট) শিক্ষার্থীদের বই আটকে রেখে নিয়ম বহির্ভুতভাবে এক হাজার ২৫০ টাকা করে ভর্তি ‘ফি’ নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক নেতারা এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও সরকারি নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সরকারি বিনামূল্যের বই আটকে রেখে এক হাজার ২৫০ টাকা করে ভর্তি ‘ফি’ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের প্রাপ্তি রশিদ দেয়া হচ্ছে না। ফলে ভর্তি ‘ফি’র নামে আদায় করা টাকা কোন খাতে যাচ্ছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী হৃদয় ইসলামের বাবা দিনমজুর আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, তিনি গত ১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় তার ছেলেকে নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করাতে যান। এ সময় কর্তৃপক্ষ তার কাছে ছেলের ভর্তির জন্য এক হাজার ২৫০ টাকা জমা দিতে বলেন। এসময় তিনি পাঁচশ টাকা দিয়ে তার ছেলেকে ভর্তি করার পাশাপাশি পাঠ্যবই দেয়ার দাবি জানালে পরবর্তীতে পুরো টাকা নিয়ে অফিস কক্ষে এসে ছেলেকে ভর্তি করিয়ে বই নিতে বলেন।

পরে আব্দুল জলিল পাঁচশ টাকা নিয়ে ছেলেকে ভর্তি করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার কাছে গেলে তিনি তার কাছ থেকে পুরো ঘটনাটি শোনেন। তিনি পরে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠ্যবই দিতে বলেন।

এরপরেও কর্তৃপক্ষ পুরো টাকা না পাওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেয়নি। আর এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদারও। তবে প্রধান শিক্ষকের সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে দিনমজুর আব্দুল জলিল বলেন, গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লার সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের কথা হওয়ার পরেও পুরো টাকা না দেয়া পর্যন্ত তার ছেলেকে ভর্তি করাতে পারেননি।

ওই ঘটনার তিনদিন পর আব্দুল জলিল অন্যের কাছ থেকে কোনো রকমে ৭৫০ টাকা ধার করে এক হাজার ২৫০ টাকায় ছেলেকে ভর্তি করিয়ে পাঠ্যবই নিয়ে এসেছেন। এ সময় তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা জমার রশিদ চাইলে তাকে ফেরত দেয়া হয়।

একইরকম ঘটনার শিকার হয়েছেন নবম শ্রেণির মিম নামের এক ছাত্রীর বাবা ভ্যানচালক সুমন হাওলাদার। তিনি জানান, তার মেয়েকে ভর্তি করার জন্য ওই স্কুলে নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ এক হাজার ২৫০ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় মেয়েকে সেখানে ভর্তি করাতে ব্যর্থ হন। এর দু’দিন পর অন্যের কাছ থেকে ধার করে ভর্তি করানোর পর পাঠ্যবই নিয়ে আসেন।

একই অভিযোগ বানারীপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার। তিনি জানান, গত ৮ জানুয়ারি তার ভাগ্নির ছেলে আব্দুল্লাহকে ওই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করতে গেলে তার কাছ থেকেও কোনো রশিদ ছাড়াই এক হাজার ২শ টাকা নেয়া হয়।

এদিকে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভর্তি ‘ফি’সহ অন্যান্য খরচের জন্য মোট এক হাজার ২৫০ টাকা পরিশোধ করা না হলে তাদের শ্রেণি উন্নয়ন করা হয়না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি গোলাম সালেহ মঞ্জু মোল্লা বলেন, সরকাররি নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থী ভর্তি করাবেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ১ জানুয়ারি দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করতে হবে। তবে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি ভর্তি ফি’র নামে বই আটকে রাখায় শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্কুল ও সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানা নেই বানারীপাড়া সরকারি মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশনের (পাইলট) সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আব্দুল্লাহ সাদীদের। তিনি বলেন, স্কুলের কোনো শিক্ষক যদি সরকারি নিয়ম বহির্ভুত কাজ করে থাকেন, তাহলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনএম