শাহরিয়ার কবিরের স্ত্রী ডানা কবির আর নেই

আগের সংবাদ

কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন

পরের সংবাদ

ইরি-বোরো চাষে খরচ বৃদ্ধি

নোয়াখালীর ৪২০০০ হেক্টর জমি থাকছে অনাবাদি!

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১৩, ২০২০ , ৬:২৯ অপরাহ্ণ

চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান চাষ শুরু হয়েছে নোয়াখালীর নয়টি উপজেলায়। তীব্র শীত ও শৈত্যপ্রবাহ উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি ধান চাষের কাজে ব্যস্ত হয়ে সময় কাটাচ্ছেন চাষীরা। বয়স্কদের সহযোগিতায় মাঠে নেমেছে পরিবারের শিশুরাও। তবে উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে এবার অন্তত ৪২ হাজার হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতার বাইরে থাকার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ইরি-বোরো চাষের এই ভরা মৌসুমে প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করলে অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জ্বালানি তেল, সার ও শ্রমিকের মজুরি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার কারণে ধান উৎপাদন খরচ বাড়ছে বহুগুণ। লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেক চাষী।

এর ওপর জেলা থেকে আসা শ্রমিকের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। একজন শ্রমিক সকাল ৮ থেকে দুপুর দুটা পর্যন্ত কাজ করলেই তাকে দুপুরের খাওয়া ছাড়া মজুরি হিসেবে দিতে হচ্ছে ছয়শ থেকে আটকশ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ কমে গেছে।

সূত্রমতে, গেল ডিসেম্বর মাসে নোয়াখালীতে ইউরিয়া সারের চাহিদাপত্র তিন হাজার ২৭ মেট্রিক টন পাঠানো হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ১৬৩ টন। টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) চাহিদা এক হাজার ৭৭৪ টনের বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৩ টন। এমওপির চাহিদা এক হাজার ২২৩ টনের বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ৩১ টন। এছাড়া ডাই-এমোনিয়াম ফসফেটের চাহিদা এক হাজার ৫৫৬ টন হলেও সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ২৮ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী টিএসপি (ট্রিপল সুপার ফসফেট) মজুদ রয়েছে ৭৫৪ টন, এমওপি ২০৬ টন, ডাই-এমোনিয়াম ফসফেট রয়েছে ৩৫১ টন। এবার প্রতি হেক্টরে শুকনা ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ টন।

চলতি বছরে জেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হলেও কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়া, সেচ ও লবণাক্ততার কারণে প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি অনাবাদি থেকে যাচ্ছে। এবার ইরি- বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার ১৬২ টন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নোয়াখালীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর নোয়াখালী জেলার সদর, কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল, সোনাইমুড়ী, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় ৬৪ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমি ইরি-বোরো চাষের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ধান ৪৭ হাজার ৭৯৭ হেক্টর ও উফশী (উচ্চ ফলনশীল) ধান ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমি।

এনএম