মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

আগের সংবাদ

ভোট চুরি করতে মরিয়া সরকার

পরের সংবাদ

ঝুঁকিপূর্ণ দেশের নৌপথ

বিআইডব্লিউটিএকে তৎপর হতে হবে

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ৬:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ৬:০৪ অপরাহ্ণ

প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুম আসতে না আসতেই নদ-নদীতে নাব্য সংকটের খবর প্রকাশিত হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশের নদ-নদীতে নাব্য সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ এ দেশের মানুষের ভাগ্য জড়িয়ে আছে নদ-নদীর অস্তিত্বের সঙ্গে। নদী মরে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে কৃষি, মৎস্যসহ দেশের অর্থনীতিতে। হারিয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্র্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দায়িত্বশীল হন তাহলে এ সংকট সৃষ্টি হয় না। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল (যা-প) সংস্থার সচিব সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর বরাত দিয়ে গতকাল ভোরের কাগজে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা থেকে দেশের ৪১ নৌরুটের মধ্যে ৪০টির সবকটিতেই বর্তমানে ডুবোচর ও নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু চাঁদপুর রুটটি ঠিক আছে। নাব্য সংকটের কারণে বরিশালের হিজলার মিয়ার চরের চ্যানেলটি দিয়ে লঞ্চ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে অনেক দিন ধরে। প্রায় ১০ কিলোমিটার বেশি ঘুরে ভাষানচর-কালীগঞ্জ হয়ে চলাচল করছে। এছাড়া লোহালিয়া, কবাই ও কারখানা নদীর বেশ কয়েকটি চ্যানেল, বরিশাল-ভোলা নৌপথের লাহারহাট-ভেদুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়, বরগুনার খাকদন, বিষখালীসহ বিভিন্ন নদীর পয়েন্টে পলি জমে নৌপথের গভীরতা কমে এসেছে। এসব পথে নৌযান চালাতে হিমশিম খেতে হয় মাস্টার, ড্রাইভারদের।

নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজারসহ অনেক রুটে ফেরি চলাচল প্রায় ব্যাহত হচ্ছে। নদীর ওপর নির্ভরশীল কৃষক ও জেলেদের জীবন-জীবিকা পড়েছে মারাত্মক সংকটের মধ্যে। লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিড বোট, মালবাহী কার্গো চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমতাবস্থায় নদীর দুর্দশায় লাখ লাখ মানুষের দিশাহারা হয়ে পড়া স্বাভাবিক। গণমাধ্যমগুলোর সংবাদ বিশ্লেষণ করে এর প্রধান কারণগুলো জানা যায়- প্রথমত, কিছু প্রাকৃতিক কারণে নদ-নদীর নাব্য হারাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাদের অপরিণামদর্শী আচরণও নদীকে সংকুচিত করছে দিন দিন। যেমন- সমাজের একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত নদীর পাড় দখল করছে। নদীর মাটিসহ প্রাকৃতিক সম্পদ যথেচ্ছাচারভাবে ব্যবহার করছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে মাছের ঘের, বাঁশ ও স’মিলের বড় বড় কাঠের ফাইল নদীতে ফেলে নদীর আশপাশ দখল করে রেখেছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ৪০ বছরে ১৮ হাজার কিলোমিটার নৌপথ হারিয়ে গেছে। দূষণ-দখল ছাড়াও নিয়মিত নদী খনন না করাকে এ জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই দায়সারা গোছের কাজ না করে সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে খনন তথা বৃহৎ বা গভীর খনন করতে হবে। অন্যথায় এর অশুভ প্রতিক্রিয়ায় দেশের মানচিত্র থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া নদীর তালিকা দীর্ঘ হবে। নদ-নদীর এই হতদশা ও নাব্য সংকট দূর করতে হলে আগে নদীগুলো থেকে অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে। নদী দখল ও দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী খননের ব্যাপারে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হতে হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়