বাস-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ যাত্রী নিহত

আগের সংবাদ

মিজান-বাছিরের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

পরের সংবাদ

মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সাক্ষাৎকার

ফলাফল কী হবে জানি তবুও মাঠ ছাড়ব না

রুমানা জামান

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ৫:২৭ অপরাহ্ণ

নির্বাচনের কারচুপি হবে জেনেও ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মনোনীত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে বেশি কিছু আসা করা ভুল। গত জাতীয় নির্বাচনে জনগণের সঙ্গে কী তামাশা হয়েছে সেটা সবাই দেখেছে। ফলাফল আমরা জানি কী হবে, তবুও একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকুক বা না থাকুক আমি ভোটের মাঠ ছেড়ে যাচ্ছি না। দেশের জনগণ ছাড়া আমাদের অভিযোগ জানানোরও জায়গা নেই।

সম্প্রতি ভোরের কাগজকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ডিএসসিসির উন্নয়ন পরিকল্পনা, নির্বাচনে প্রচারণার কৌশল এবং বর্তমান রাজনীতির নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হলে ঢাকাকে একটি বসবাসযোগ্য পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলব।

সুষ্ঠু ভোটের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আশ্বাস পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে দক্ষিণের এই মেয়র প্রার্থী বলেন, এই কমিশনের কোনো আশ্বাসই কার্যকর নয়। মেরুদণ্ডহীন কমিশনের সাহস ও ক্ষমতা কোনোটাই নেই। সরকারের ইশারায় তারা কাজ করছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নেই জেনেও নির্বাচনে অংশ নেয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। মানুষের ভোটারাধিকার ফিরিয়ে দেয়া এবং গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই মূলত ভোটের মাঠে আছি।

ভোটে জিতলে কেমন নগর গড়তে চান? এমন প্রশ্নের জবাবে খোকাপুত্র বলেন, মেয়র হলে প্রথমে ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে চাই। এর জন্য নগরবাসীর দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদের মতামত নেব। ঢাকার প্রধান সমস্যা হচ্ছে- যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ। যানজটের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা নষ্ট হচ্ছে। প্রথমে এসব সমস্যার সমাধান করব। এ ছাড়াও ফুটপাত দখলমুক্ত, চলাচলে ভোগান্তি কমাতে নতুন নতুন বাস স্টপেজ তৈরি করব। ট্যাফিক ম্যানেজমেন্ট, ফ্লাইওভার, ইউলুপসহ পাতাল মেট্রোরেলের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করব।

তিনি বলেন, বায়ুদূষণ, নিরাপদ শহর, যানজট নিরসন করা, মশকনিধন অধিদপ্তর কার্যক্রর করার পাশাপাশি নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করব। ঢাকা নিয়ে ১০০ বছরের ‘মাস্টার প্ল্যান’ করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, এই পরিকল্পনা করা হবে নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে। রাজধানীতে নাগরিকদের ২৪ ঘণ্টা সুবিধার জন্য ওয়ান স্টপ সেন্টার চালু করব। এখানে নাগরিকরা সব কিছু পাবে। এ ছাড়াও নারী শিশুদের জন্য আলাদা কিছু প্ল্যান করের্ছি যা আমি ইশতেহারে তুলে ধরব।

আরেক প্রশ্নের জবাবে ঢাকাকে মেট্রোপলিটন সরকারের আওতায় আনার কথা জানিয়ে ইশরাক বলেন, ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতা হলে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মধ্যে এক ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। আমি এই জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্ষাকালের জন্য বসে থাকব না। বছরের শুরুতেই এই নিয়ে কাজ করব। ফায়ার সার্ভিস এখন সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই। আমি মেয়র হওয়ার পর এটিকে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করব। কারণ ঢাকা সিটিতে কোথাও আগুন লাগলে মানুষের আশা থাকে, মেয়র কিছু করবেন।

গতানুগতিক প্রচারণার বাইরে ভিন্ন প্রচারণার কৌশলের বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রে ভিডিওচিত্র নির্মাণ করেছি যা সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করব। সেখানে কিছু নতুনত্ব প্রস্তাবনা এবং চমক থাকছে যা নগরবাসীকে ভোটের মাঠে আমাকে নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে টানবে।

গত নির্বাচনে বিএনপি সেনাবাহিনী চেয়েছিল। এবার ইভিএম সেনাবাহিনীর হাতেই নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপরও ইভিএমে আপত্তির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের দাবি করে আসছি। ইভিএমের মেশিনটা রক্ষণা-বেক্ষণে সেনাবাহিনীর নিয়োগকৃত দুজন আইটি স্পেশালিস্ট থাকবেন যারা অস্ত্রধারী না। বুথের বাইরেও তাদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তাহলে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো কারচুপি হচ্ছে না। আমরা পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে চাই। নির্বাচনে পরাজিত হলে কি করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সবকিছু দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক করব। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দেখে, বুঝে শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগাব।

আপনার বাবার কোন বিষয়গুলো আপনাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে? তিনি কি তার কোনো অসম্পূর্ণ কাজ আপনাকে করার দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন? জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, বাবার মৃত্যুর পরে মানুষ বলতেন, উনি তাদের সুখে-দুঃখে, বিপদে-আপদে, দিন-রাত যেকোনো সময় পাশে দাঁড়াতেন। সেই জিনিসটাই আমাকে বেশি অনুপ্রাণিত করে। আমিও বাবার আদর্শ অনুসরণ করি। অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে উনি সমন্বয়হীনতার মুখোমুখি হতেন। এখানে প্রায় ৩২টি সেবাদানকারী সংস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। উনি মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্টের পক্ষে ছিলেন এবং এরপক্ষে জনমত গড়ে তুলেছিলেন। তাই আমি একটি নগর সরকার গড়ে তুলতে চাই।

নগরবাসী কেন তাকে নির্বাচিত করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আত্মমূল্যায়ন করে ইশরাক বলেন, এই শহরের অলি-গলিতে আমার অবাধ বিচরণ। এই শহরের প্রতি আমার যে মায়া রয়েছে তার কারণে ঢাকাবাসী এক হয়েছে আমার পক্ষে। এ ছাড়াও আমার বাবা মেয়র থাকাবস্থায় সব সময় তার কাছে নগরের সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে জানতে চেয়েছি সেগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি পরিপূর্ণ নগর গড়তে চাই। আমার বিশ্বাস, জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতেই আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তবে আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

সিটি নির্বাচনে ঢাকাবাসীকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন যারা দায়িত্বে আছেন তারা কেউ নির্বাচিত নন। যার ফলে তাদের জবাবদিহিতা নেই। জনগণের অধিকার ও নগরবাসীর সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাই, আমি নগরবাসীদের আহ্বান জানাব, ৩০ জানুয়ারি সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে আপনারা অবশ্যই ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে যাবেন।

এসআর