র‌্যাগিং বন্ধে স্কোয়াড গঠনের নির্দেশ

আগের সংবাদ

ঢাকাস্থ শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটি

পরের সংবাদ

খামেনির দিন শেষ!

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ৩:২২ অপরাহ্ণ

ইরানি সামরিক বাহিনী ভুলক্রমে ইউক্রেনের বিমানটি ভূপাতিত করেছে বলে স্বীকারোক্তি দেয় তেহরান। এর পরপরই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে সাধারণ জনতা। রোববার (১২ জানুয়ারি) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে অনেকেই খামেনিকে ‘হত্যাকারী’ বলে আখ্যায়িত করছেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দাঙ্গা পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

খামেনি দাবি করেছেন, তিনি এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে সৎ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন অধস্তনদের। তিনি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, শুক্রবার সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। খোদ কমান্ডার ইন চিফ খামেনি বিষয়টি না জানায় তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে সোলাইমানি হত্যার পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সেনা নিহত না হওয়া এবং নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রে ইরানি-কানাডীয় ও ইরানি নাগরিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়েছেন। শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিচ্ছেন ‘খামেনির দিন শেষ’। অনেকেই সরকারকে ‘নির্লজ্জ’ বলে স্লোগান দেন। আধা সরকারি ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের অনেকেই নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবিও টুকরো টুকরো করে ছিঁড়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানে সাবেক মার্কিন দূতাবাসের কাছে আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন। তারা সরকারে ‘মানুষের ত্রুটি’ ও যুক্তরাষ্ট্রের হঠকারিতার ওপর দায় চাপানোর বিরোধিতা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর বরাত দিয়ে সিএনএন’র খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা খামেনির পদত্যাগ এবং বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’, ‘নির্লজ্জ খামেনি, দেশ ছাড়ো’।

ইরানের জনগণ সরকার ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসলেও কর্মকর্তাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। তাদের দাবি, এই দুর্ঘটনার শুধু ইরান দায়ী নয়। রুহানি এই ভুলকে ‘ক্ষমার অযোগ্য ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জেনারেল হাজিজাদেহের অধীনস্থ সেনারাই বিমানটি ভূপাতিত করে। তিনি বলেছেন, এমন বিপর্যয়ের চেয়ে তার নিজের মৃত্যু শ্রেয় ছিল।

এসএইচ