কুবিতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

আগের সংবাদ

লিভারপুলের জয়ের রেকর্ড

পরের সংবাদ

স্মরণসভায় বক্তারা

‘অজয় রায় মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের বাতিঘর’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ১০:৩৩ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

অজয় রায় ছিলেন মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের বাতিঘর। কোন বিষয়ে তিনি পিছু হটতেন না, বিচলিত হতেন না। এমনকি ছেলে অভিজিৎ রায়কে হারানোর শোকে শরীরিকভাবে কাবু হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন নির্ভিক, দৃঢ়চেতা ও মুক্তমনা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রায় সব গণতান্ত্রিক ও নাগরিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ হারিয়েছে একজন অভিভাবককে।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অধ্যাপক ড. অজয় রায় স্মরণ নাগরিক কমিটি আয়োজিত ‘অধ্যাপক অজয় রায় নাগরিক স্মরণসভা’ শিরোনামে স্মরণানুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুশতাক হোসেন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক কাবেরী গায়েন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অঙ্কুর প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মেজবাহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক অজয় রায়কে স্মরণ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মরণ কবিতা আবৃত্তি করেন জীবনানন্দ জয়ন্ত।

স্মরণসভায় মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল বলেন, অজয় রায় তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের দিক দিয়ে একজন অনন্য মানুষ হিসেবে আমাদের কাছে অধিষ্ঠিত থাকবেন। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, তার কথাই বলতেন এবং সে অনুসারে কাজ করতেন। তিনি স্বাপ্নিক ছিলেন, দার্শনিক ছিলেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক সব আন্দোলনে তার অসামান্য ভূমিকা আমাদের সবার জানা। ২০০১ সালে দেশে একটি ক্রান্তীকালীন সময় চলছিল। তখন একটি গোষ্ঠীর উপর সাম্প্রদায়িক আক্রমন চলছিল। সেসময় তিনি সাহসের সাথে সাংগঠনিকভাবে তার প্রতিবাদ করেছেন। অজয় রায়রা সমাজের যেকোন বিপর্যয়ে সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। তিনি ছিলেন আমাদের অভিভাবক। তিনি চলে গেছেন। তার দর্শন আমরা যদি তার মত দরদ দিয়ে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলেই তাকে যথার্থ স্মরণ করা হবে বলে আমি মনে করি।

আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, অজয় রায় ছিলেন গণজাগরণের মানুষ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাপূর্ব ও উত্তর সকল আন্দোলনেই তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি সবসময়ই মার্কসবাদ ও সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন। তিনি মনে করতেন শুধু সংবিধানে সমাজতন্ত্র লিখলেই হবে না, সমাজতন্ত্রকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি সবসময়ই রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন। যদিও তিনি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন না।

অনুষ্ঠানে জিয়া উদ্দিন তারেক আলী বলেন, আজয় রায় মুক্ত মনের মানুষ ছিলেন। কোন বিষয়ে তিনি সরে কথা বলা বা পিছু হটতেন না। কারও পছন্দ হোক বা না হোক, তিনি সুস্পষ্টভাবে তার মত প্রকাশ করতেন। এদেশের বিজ্ঞানমনষ্ক ও মুক্তমনা মানুষদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন তিনি। তিনি সারা জীবন নিপীড়িত মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তার চলে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট শুণ্যস্থান অপূরণীয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আজয় রায়ের সঙ্গে পরিচয়সূত্রে আমি বুঝেছি তিনি সমাজের প্রতি, দেশের প্রতি ও রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতি একধরণের অভিমান পোষণ করেন। অভিমানটা অনেকটা এরকম ছিল, এদেশের মুক্তিসংগ্রামে যারা সত্যিকারের ভূমিকা রেখেছেন, দেশ স্বাধীনের পর তারা নেতৃত্বে আসতে পারে নি। যারা আপোসহীন, স্পষ্টবাদী, দৃঢ়, এক পা এগিয়ে দুই পা পিছায় না তাদের রাষ্ট্রক্ষমতা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব জায়গা থেকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। তাই তিনি বড়দের প্রতি আস্থা রাখতে পারতেন না। তার বিশ্বাস ছিল তরুণ প্রজন্মই পারবে সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক মুশতাক হোসেন বলেন, অজয় রায় সবসময়ই চেয়েছেন তরুণ প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা ও বিজ্ঞানমনষ্ক করে তুলতে। তার বিশ্বাস ছিল তরুণ প্রজন্মকে পরিবর্তনের মাধ্যমেই সত্যিকারের পরিবর্তন সম্ভব।

নকি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়