মা-ছেলের মাদক ব্যবসা

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

পরের সংবাদ

কর্মসৃজন প্রকল্পে নয়ছয়

শ্রমিকের ভাগ্যে যন্ত্রের থাবা, বঞ্চিত হতদরিদ্ররা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২০ , ৬:৩৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১২, ২০২০ , ৩:০২ অপরাহ্ণ

অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে নয়ছয় চলছে সিংগাইর উপজেলায়। রাস্তার কাজে শ্রমিকদের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি কাটার যন্ত্র ভেকু। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন হতদরিদ্ররা। কয়েকটি প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হলেও সংখ্যায় তা নির্ধারিত শ্রমিকের অর্ধেকেরও কম। এতে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ করা প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্থানীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারের দেয়া সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রমতে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচির আওতায় (প্রথম পর্যায়) সিংগাইর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৪২টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এতে মোট এক হাজার ৮৫৭ শ্রমিকের মজুরি বাবদ এক কোটি ৪৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ ধরা হয়। গেল বছরের ৩০ নভেম্বর থেকে কাগজ-কলমে কাজ শুরু হলেও মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে তার বিপরীত চিত্র। নির্ধারিত সময়ে কাজই শুরু করেননি সংশ্লিষ্ট একাধিক জনপ্রতিনিধি। পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে স্ব-স্ব প্রকল্পের সভাপতিরা প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে শ্রমিকের বদলে ব্যবহার করছেন ভেকু যন্ত্র। তোড়জোড় করে কাজ করছেন যন্ত্রের সাহায্যে।

গত ৫ জানুয়ারি থেকে শনিবার পর্যন্ত সরেজমিনে বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে ব্যাপক অনিয়ম চোখে পড়েছে। দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পেই কোনো সাইন বোর্ড না টাঙ্গিয়ে তথ্য গোপন করা হয়েছে। জামির্ত্তা ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে একটির কাজ জমি সংক্রান্ত জটিলতায় থমকে আছে। ৩নং ওয়ার্ডের চরখালিয়া রাস্তা থেকে কানাবগার মোড় পর্যন্ত ভেকু লাগিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে। বাকি দু’টির কাজ আংশিক বাকি রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে।

চান্দহর ইউনিয়নের পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি ঘুরে দেখা গেছে, শ্রমিকের বদলে ভেকু দিয়ে কাজ করা হয়েছে। জামশা ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে দু’টি প্রকল্পে শ্রমিক লাগিয়ে কাজ করা হলেও একটি ভেকু দিয়ে করা হয়েছে। আর অপরটির কাজ শুরুও হয়নি।

বলধারা ইউনিয়নের পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে বলধারা করিমের বাড়ি হতে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রকল্পে ৪৫ জন শ্রমিকের স্থলে ২৯ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেছে। বাকি প্রকল্পগুলোর কাজ ভেকু লাগিয়ে আংশিক সম্পন্ন হয়েছে। তালেবপুর ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে দু’টি প্রকল্পে ভেকু দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হলেও বাকি দু’টির কাজ শুরুই হয়নি। জয়মন্টপ ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে শ্রমিক দিয়ে দু’টির কাজ আংশিক বাকি রেখে সম্পন্ন করা হয়েছে।

বায়রা ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরজামালপুর আব্দুর রহিমের বাড়ি হতে আওয়ালের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ জমি সংক্রান্ত জটিলতায় বন্ধ রয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাড়াদিয়া পূর্বপাড়া মকছেদের বাড়ি হতে কামরুলের কাঠ বাগান পর্যন্ত রাস্তা অল্প মাটি ফেলে সম্পন্ন করা হয়েছে। শায়েস্তা ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি প্রকল্পে শ্রমিক দিয়েই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে শুধুমাত্র বলধারা ১৫নং প্রকল্প ছাড়া অন্য কিছু প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হলেও বাস্তবে তাদের দেখা মেলেনি।

স্বল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কিছু প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন করা হলেও প্রতিটি ইউনিয়নেই শ্রমিকের বদলে ভেকু লাগিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তবে ধল্লা চান্দহর ও শায়েস্তা ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্পে তথ্য সম্বলিত কর্মসূচির সাইন বোর্ড দেখা গেলেও অন্য ইউনিয়নের প্রকল্পগুলোর সাইন বোর্ড দেখা যায়নি। চান্দহর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের চরমাধবপুর তিনরাস্তার মোড় হতে খালেকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি মোফাজ্জল সরদারকে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে কাজ করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি রেগে যান এবং অসদাচরণ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রকল্পের সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারেরা জানান, মাত্র ২০০ টাকা মজুরি দিয়ে শ্রমিক পাওয়া যায় না। এতে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তারা আরো বলেন, ভেকু দিয়ে অল্প সময়ে বেশি কাজ করা যায়। জামির্ত্তা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম রাজু বলেন, চরখালিয়া রাস্তার প্রকল্পে ৪৯ জন শ্রমিকের স্থলে দ্বিগুণ মূল্যে ধরে ২৫ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। রাস্তা করতে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম বলেন, এটি আমার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যবহার হচ্ছে।

সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, অতিদরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে কাজ করার কোনো বিধান নেই। কারো বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনা লায়লা বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। প্রকল্পগুলো এখনো আমার দেখার সুযোগ হয়নি। প্রকল্পে অনিয়মের সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়