প্রত্যাহার ১৪৫, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪২৪

আগের সংবাদ

নির্বাচনকে যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছেন তাবিথ

পরের সংবাদ

আবুল আহসান চৌধুরীর মনীষাদীপ্র দুটি বই

পিয়াস মজিদ

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৯, ২০২০ , ৬:২৮ অপরাহ্ণ

চার পর্বে বিভাজিত স্মরণগ্রন্থের স্মৃতি-সান্নিধ্য অংশে কাজী মোতাহারের কন্যাপুত্র- সনজীদা খাতুন, কাজী আনোয়ার হোসেন, কাজী মাহবুব হোসেন, মাহ্মুদা খাতুন যেমন লিখেছেন তেমনি আব্দুর রাজ্জাক, কবীর চৌধুরী, আনিসুজ্জামান, নাসির আলী মামুনের মতো বিভিন্ন প্রজন্মের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত মানুষের স্মৃতিকথন সমবেত হয়েছে।

১. নানা আলোয় কাজী মোতাহার হোসেন
নিঃশঙ্ক সমাজভাবুক ও অনলস জ্ঞানতাপস কাজী মোতাহার হোসেনের (৩০ জুলাই, ১৮৯৭; ৯ অক্টোবর ১৯৮১) ১২০তম জন্মবর্ষের শ্রদ্ধার্ঘ্যরূপে গুণী গবেষক আবুল আহসান চৌধুরীর সংকলন ও সম্পাদনায় প্রকাশ পেয়েছে প্রগতি মননের তপস্বী (প্রচ্ছদ সেলিম আহ্মেদ \ জুলাই ২০১৮ \ পাঠক সমাবেশ \ ২৭২ পৃষ্ঠা)
শীর্ষক স্মারক-পুস্তক। এর আগে তারই সম্পাদনায় কাজী মোতাহার হোসেন রচনবলির দুটি খণ্ড (১৯৯২), প্রবন্ধসংগ্রহ : কাজী মোতাহার হোসেন (২০০৭) এবং কাজী মোতাহার হোসেন : জীবন ও সৃষ্টি (২০০৭), প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক বলছেন এটি শেষোক্ত স্মারকের পরিপূরক, তবে লেখক-সমাবেশে এবং বিষয়বৈচিত্র্যে আলোচ্য বইটি একেবারেই অনন্য। সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেনকে পাঠকের সমুখে তুলে ধরেন তার বহুমাত্রিক জীবন ও সৃষ্টির পরিচয় ও পরিসরে-
আজীবন তিনি জ্ঞানের সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন, মুক্তবুদ্ধির চর্চা করে এসেছেন, দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে পালন করেছেন বিবেকী ভূমিকা। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নের শিক্ষক, পূর্ববঙ্গে পরিসংখ্যান-বিদ্যা পাঠনের জনক, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষার পথিকৃৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম নেতৃপুরুষ। রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলার পক্ষে দৃঢ় সমর্থন, আধুনিকমনা ও প্রগতিশীল তরুণ সাহিত্যসেবীদের নেতৃত্বদান, পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রবর্জনের বিরোধিতা ও অন্যান্য গণবিরোধী সাংস্কৃতিক নীতির প্রতিবাদ, বাংলা নববর্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণার দাবিসহ বাঙালি সংস্কৃতিচর্চায় সক্রিয় অংশগ্রহণ, মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ, দাবাখেলায় নৈপুণ্য প্রদর্শন ও জাতীয় পর্যায়ে এই খেলাকে জনপ্রিয় করে তোলার ‘দাবাগুরু’ আখ্যালাভ- এসব কিছুই কাজী মোতাহার হোসেনের অর্জন ও অবদান এবং তাঁর মুক্ত মন-মনন-মানসের দ্যোতক।
চার পর্বে বিভাজিত স্মরণগ্রন্থের স্মৃতি-সান্নিধ্য অংশে কাজী মোতাহারের কন্যাপুত্র- সন্জীদা খাতুন, কাজী আনোয়ার হোসেন, কাজী মাহবুব হোসেন, মাহ্মুদা খাতুন যেমন লিখেছেন তেমনি আব্দুর রাজ্জাক, কবীর চৌধুরী, আনিসুজ্জামান, নাসির আলী মামুনের মতো বিভিন্ন প্রজন্মের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত মানুষের স্মৃতিকথন সমবেত হয়েছে। মফিজ ইমাম মিলনের অনুলিখনে এক দুর্লভ স্মৃতিভাষ্যে জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের মূল্যায়নবিন্দুতে উদ্ভাসিত মোতাহার মানসসিন্ধু-
বাইরে আর যাই থাকুক তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ। তবে স্বাধীন বিচারবুদ্ধি দিয়া বিচার করতেন। গোঁড়ামি পছন্দ করতেন না। আরবি-ফারসি বেশ ভালো জানতেন। কোরআন শরিফ নিজে অনুবাদ করতেন। মুসলমান বলে মুসলিম লীগে বিশ্বাসী হতে হবে এটা মানতেন না। (পৃ. ১৯)।
‘আনন্দ ও মুসলমান গৃহ’ নামে খ্যাতকীর্তি প্রবন্ধের প্রসঙ্গ তুলে তার পুত্র কাজী আনোয়ার হোসেন আপন গৃহের যে রসমধুর বৃত্তান্ত উপস্থাপন করেন তা পাঠককে স্পর্শ করে-
আব্বুকে দেখা মাত্র আমরা একেক জন একেক দিকে সটকে পড়ার চেষ্টা করতাম। আব্বুকে দেখলেই আম্মু ঠাট্টা করে বলতেন, ‘এই যে এসেছেন গিরিহের আনন্দ! কে কোথায় পালিয়ে বাঁচবে দিশে পাচ্ছে না!’ (‘আনন্দ ও মুসলমানগৃহ’ নামে আব্বুর এক প্রবন্ধের বক্তব্য নিয়ে এই ঠাট্টা)। (পৃ. ৬৬)
‘শিক্ষক পিতা’ লেখায় সন্জীদা খাতুন অঙ্কন করেন সেই কাজী মোতাহারের প্রতিকৃতি যে পিতা অনায়াসে তার কন্যার সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে ছাত্রীহলের মাঠে গিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলায় অংশ নিতে পারেন এবং যার ভেতর থাকে পিতার সংবেদন এবং শিক্ষকের কর্তব্যবোধ উভয়ের মিলিত রসায়ন।
‘নিরীক্ষণ’ এবং ‘মূল্যায়ন’ পর্বে আবদুল্লাহ আল-মুতী, হালিমা খাতুন, কন্যা ফাহ্মিদা খাতুন, শামসুজ্জামান খান, আবদুল মান্নান সৈয়দ, শান্তনু কায়সার, জহুরুল হক এবং সম্পাদক আবুল আহসান চৌধুরীর লেখায় তার সত্তার পূর্ণায়ত অবয়ব উঠে আসে। মোবাশ্বের আলীর লেখায় নজরুলও তার ‘প্রিয় মোতিহার’-এর সম্পর্ক, সালেহ চৌধুরী ও রানী হামিদের লেখায় দাবাগুরুর আনুপূর্বিক পরিচিতি ও মূল্যায়ন, খোন্দকার সিরাজুল হক-এ এম হারুন অর রশীদ ও সুলতান আহমদের লেখায় বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রেক্ষাপটে কাজী মোতাহারের বিজ্ঞানরচনা ও বিজ্ঞানী-সত্তার বিশ্লেষণ, শিখা আরেফীনের লেখা প্রবন্ধকার কাজী মোতাহার আর দুই প্রজন্মের লেখক সৈয়দ নুরুদ্দিন ও মোহাম্মদ আজমের পৃথক মূল্যায়নে ‘সঞ্চরণ’ গ্রন্থকে ফিরে দেখা সম্পন্ন হয়েছে। বইয়ের মূল্যবান পরিশিষ্টে সন্জীদা খাতুনের সংগ্রহ ও গ্রন্থনায় কাজী মোতাহার হোসেনের বিশদ জীবনপঞ্জি বিধৃত হয়েছে- যেখান থেকে প্রকৃত এক রেনেসাঁ-মানবের স্বরূপ উন্মোচন সম্ভব যিনি তাঁর সমকালে উচ্চারণ করেছেন এই চির-সমকালীন প্রগতিমননের দর্শন-
আমরা কল্পনা ও ভক্তির মোহ-আবরণে সত্যকে ঢাকিয়া রাখিতে চাই না। আমরা চাই জ্ঞান-শিখা দ্বারা অসার সংস্কারকে ভস্মীভ‚ত করিতে এবং সনাতন সত্যকে কুহেলিকামুক্ত করিয়া ভাস্বর ও দীপ্তিমান করিতে।
(শিখা, মুসলিম সাহিত্য সমাজ-এর বার্ষিক মুখপত্র, ১৩৩৫)

২. জাপানজয়ী বাঙালি বিচারকের অনুপম আখ্যান

আবুল আহসান চৌধুরীর (১৯৫৩) গবেষণাকুশলতার সাম্প্রতিকতম নিদর্শন ধরা রইল বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল : এক বাঙালির জাপান জয় (প্রচ্ছদ : মোস্তাফিজ কারিগর \ জুলাই ২০১৮ \ শোভা প্রকাশ, ঢাকা \ ১২৮ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে। উনিশ শতকের সমাজ ও সাহিত্য, ফোকলোর, সংবাদ-সাময়িপত্র, আধুনিক সাহিত্য, আঞ্চলিক ইতিহাস, সংগীত-সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলনের দলিলপত্র ইত্যাদি তার গবেষক-আগ্রহের প্রিয় এলাকা। এ ছাড়া লালন সাঁই, কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, মীর মশাররফ হোসেন, জলধর সেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেনের মতো রেনেসাঁ- ব্যক্তিত্বদের নিয়ে তার রচিত এবং সম্পাদিত গ্রন্থাবলি আমাদের চেনা-পরিচিত গবেষণা ছকের বৃত্ত ভেঙে অনুসন্ধান ও উদঘাটনের নব নব চ‚ড়া স্পর্শ করেছে।
আলোচ্য গ্রন্থে লেখকের বিনীত ‘নিবেদন’-
এক অসাধারণ মেধাবী কীর্তিমান বাঙালি বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পালকে পাঠকের সমুখে তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত ও আনন্দিত। দৈশিক ও বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে ড. রাধাবিনোদ পালের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানা আজ বিশেষ জরুরি। বিচারহীনতার সংস্কৃতির প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়, মানবিক মূল্যবোধের নিদারুণ অবক্ষয়, দেশে দেশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সামরিক-আগ্রাসন, বিশ্বশান্তি যখন সুদূরপরাহত- এই প্রতিক‚ল সময়ে বিরূপ বিশ্বে বিবেকী বিচারক ড. রাধাবিনোদ পালের জীবনবাদী জ্ঞানের শিক্ষা, নির্ভীক সিদ্ধান্ত, দৃঢ় উদ্যোগ, কঠোর ব্রত আমাদের প্রেরণা ও পাথেয় হতে পারে।
লেখক কথিত ‘প্রেরণা ও পাথেয়’-এর রসদ আমরা সংগ্রহ করতে পারি দুই পর্বে বিন্যস্ত এই বইয়ের ‘কার্যকারণ : পটভূমি’, ‘জন্ম ও ছন্দহীন পৃথিবী’, ‘গড়ে ওঠার কাহিনী’, ‘জীবনস্বপ্নের রূপায়ণ’, ‘মানুষ যে রকম’, ‘সায়াহ্নের বিষাদগাথা’, ‘মহাযুদ্ধের বিচার-মহাকাব্য তাঁর’, ‘স্বাগত : সূর্যোদয়ের দেশে’ এবং ‘উত্তরকাল : স্মরণ-বিস্মরণ’ শীর্ষনামা পরিচ্ছেদসমূহ হতে। পরিশিষ্টাংশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ‘টোকিও ওয়ার ক্রামই ট্রাইব্যুনাল : ভিন্নমতের রায়’-এর নির্বাচিত অংশ এবং দুর্লভ আলোকচিত্রমালা ও অন্যান্য তথ্য দলিলের একগুচ্ছ প্রতিচিত্র।
কে এই রাধাবিনোদ পাল?
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন মিত্রশক্তি যুদ্ধপরাধের দায়ে অভিযুক্ত আটাশজন জাপানি রাজনীতিক, সামরিক ও কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে মিত্রশক্তির পক্ষে নিযুক্ত জাপানের সুপ্রিম কমান্ডার মার্কিন জেনারেল ম্যাক আর্থারের ঘোষণা অনুযায়ী নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের আদলে টোকিওতে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক মিলিটারি ট্রাইব্যুনাল (ওহঃবৎহধঃরড়হধষ গরষরঃধৎু ঞৎরনঁহধষ ভড়ৎ ঃযব ঋধৎ ঊধংঃ)। এই ট্রাইব্যুনালের বহুদেশীয় বিচারকদের মধ্যে ভারতের প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপ্রতি ড. রাধাবিনোদ পাল, যিনি মিত্রশক্তির একতরফা জাপানবিরোধী মনোভাবের বাইরে গিয়ে বিচারের রায় প্রদানের ক্ষেত্রে ন্যায়ানুগ ভিন্নমতের উদাহরণ সৃষ্টি করে জাপানিদের কাছে ‘ন্যায়বিচারের বিরল প্রতিপোষক’ হিসেবে স্মরিত হয়ে আসছেন। শুধু এই ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে নয়, বিশ্ববিচার-ইতিহাসেও বাঙালি বিচারক রাধাবিনোদ পালের এই ঐতিহাসিক রায় এক অনন্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।
১৯৪৬-এর ২৭ এপ্রিল দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে সংশ্লিষ্ট জাপানি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিযুক্ত হন ড. রাধাবিনোদ পাল। বিচারক নিযুক্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি এই বিচারকার্য ঘিরে ঘনিয়ে ওঠা সাম্রাজ্যবাদী অভিসন্ধির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বিচারকার্যে অংশগ্রহণ সম্পর্কিত গোপনীয়তা রক্ষার সন্দেহমূলক শর্ত প্রত্যাখ্যান করে সাধারণ শপথ নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারকার্যে অংশগ্রহণ করেন। এ সম্পর্কে লেখকের বক্তব্য বিচারক হিসেবে রাধাবিনোদের ব্যতিক্রমী আইনি বলশালিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ঘাটন করে-
জাপান সম্পর্কে মিত্রশক্তির প্রধান প্রতিভূ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার ছিলেন জেনারেল ম্যাকআর্থার। ওহঃবৎহধঃরড়হধষ গরষরঃধৎু ঞৎরনঁহধষ জাপানের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ে যে বিচার-আসর বসায় তার মূল কলকাঠি ছিল ম্যাকআর্থারের হাতে। এই বিচারকে ন্যায়ানুগ, আইনমাফিক, নিরপেক্ষ ও যুক্তিসিদ্ধ মনে করেননি ট্রাইব্যুনালের অন্যতম বিচারক ড. রাধাবিনোদ পাল। তাই তিনি ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করে আলাদাভাবে একক রায় প্রদান করেন। তিনি আইনি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জাপানকে নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেন এবং মিলিটারি ট্রাইব্যুনালের বিচারকে প্রহসন বলে আখ্যা দেন। ভাবলে বিস্মিত হতে হয়, ব্রিটিশ-উপনিবেশ ভারতের এক বিচারকের কতখানি আইনি প্রজ্ঞা, স্বাধীন চিন্তা, মানসিক দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষ বিচারবুদ্ধি থাকলে এমন উজানে যাত্রা সম্ভব!
(পৃ. ৫৭)
ভিন্নমতের উপর্যুক্ত রায় কেবল বিষয়বস্তুর দিক থেকেই দৃষ্টান্তস্থানীয় নয়, পরিসরের দিক থেকেও এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। সাইক্লোস্টাইলে বৃহৎ কয়েকটি খণ্ড সমাপ্ত এই রায়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ১৩০৪ মতান্তরে ১২৩৫ যা এপ্রিল ১৯৫৩-তে কলকাতার সান্যাল অ্যান্ড কোম্পানি থেকে পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়। আমরা মনে করি যখন আদালতে বাংলায় রায় লেখার প্রণোদনা তৈরি হচ্ছে তখন ড. রাধাবিনোদ পালের এই যুগান্তকারী রায়-পুস্তকটিও বাংলায় অনূদিত হওয়া প্রয়োজন, যে রায়ে সূচিবদ্ধ আছে রাধাবিনোদের এমন সাহসী যুক্তপূর্ণ বক্তব্য-
আদালত যদি রাজনীতির মধ্যে শিকড় গাড়িয়ে বসে, তবে ন্যায়বিচারের যতই মুখোশ পরানো হোক না কেন তখন ন্যায়বিচার শুধু বলশালী পক্ষের স্বার্থসিদ্ধির ব্যাপারে পরিণত হয় মাত্র।
আবুল আহসান চৌধুরী প্রায় মাটি খুঁড়ে বের করে এনেছেন এই মহীরূহপ্রতিম মানুষটির আদিঅন্ত। তার লেখা থেকে জানতে পারি খ্যাতকীর্তি আইনজ্ঞ রাধাবিনোদ পালের জন্মনিবাস বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার হিসনা নদীর তীরবর্তী শালিমপুর গ্রামে, আজ থেকে একশ বত্রিশ বছর পূর্বে, ১৮৮৬-তে। মায়ের অদম্য উৎসাহে, বৈরী পৃথিবীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, রাজশাহীতে স্কুল-কলেজে পড়াশুনা শেষে প্রেসিডেন্সি কলেজ, কলকাতা এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা সম্পন্ন করেছেন। নিজেকে প্রস্তুত করেছেন ভবিষ্যতের এক বিবেকী বাঙালি বিচারক হিসেবে। শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে তার দৃঢ় মনোবল এবং অশেষ জ্ঞানানুরাগ যে ক্রিয়াশীল ছিল অনন্য আলকেমিরূপে লেখক তার মূল্যায়ন করেছেন এভাবে-
জীবনের প্রথম পর্বে রাধাবিনোদের চলার পথ আদৌ মসৃণ ছিল না, তার আংশিক বিবরণ আমরা দিয়েছি- আর যা অনুক্ত রইলো তাও কম দুঃখের কম বেদনার কম কষ্টের নয়। এদিক দিয়ে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে উত্তরকালে উচ্চপ্রতিষ্ঠিত খুব কম বাঙালির জীবনকেই রাধাবিনোদের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। ধাপে ধাপে তিনি উঠেছেন সাফল্যের ঈর্ষণীয় শিখরে- আইনের জগতের নীতি, আদর্শ, মেধা ও প্রজ্ঞার স্থায়ী ছাপ ফেলেছেন- অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি।
(পৃ. ২৯-৩০)
তাঁর নিজের গোত্রের মানুষের হিতসাধনার্থে ‘নিখিল বঙ্গীয় কুম্ভকার সম্মিলনী’ গড়ে তোলার তথ্য নিম্নবর্গের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে রাধাবিনোদ পালের নিরন্তর কর্মপ্রয়াস প্রমাণ করে। ড. আবুল আহসান চৌধুরী বিস্মৃতির অতল থেকে রাধাবিনোদকে উদ্ধারের জন্য নিজে এই গ্রন্থ রচনার পাশাপাশি রাধাবিনোদের ভগ্নি কৃষ্ণমোহিনীর দৌহিত্র গুণী বিজ্ঞানী ড. মনোজ কুমার পালকে প্রাণনা দিয়ে প্রণয়ন করেন দুটো স্মৃতি ও মূল্যায়নগদ্য ‘ড. রাধাবিনোদ পাল প্রসঙ্গে’ এবং ‘স্মৃতির আলোকে ড. রাধাবিনোদ পাল’। এ দুই স্মৃতিগদ্য আলোচ্য মানব-মহানের প্রতিকৃতি অঙ্কনের প্রয়োজনে বহু জরুরি তথ্যের জোগান দেয়। যেমন-
ময়মনসিংহে চাকরিজীবন থেকে শুরু করে বরাবর ওঁর বাড়িতে একই সময়ে একাধিক আত্মীয়-অনাত্মীয় ছাত্র থাকা-খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আমার বাবা, আমার নিজের তিন মামা, দাদুর এক মাসির দুই ছেলে, তাঁর মামাতো বোনের দুই ছেলে, কাকার ছেলেরা- এঁরা বিভিন্ন সময়ে ওঁর বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করেছেন। অনাত্মীয়দের সংখ্যা নিরূপণ করা শক্ত। ওঁর বীডন স্ট্রীটের বাড়িতে আমি থাকাকালীন অন্তত তিনজন অনাত্মীয় ছাত্রের কথা মনে পড়ে। দাদু তাঁর ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দিয়েছিলেন তাঁরা যেন এইসব আশ্রয়ার্থী ছেলেকে সবসময় তাঁর পরিবারভুক্ত মানুষ হিসেবে দেখেন।
(ড. মনোজ কুমার পালের ‘স্মৃতির আলোকে ড. রাধাবিনোদ পাল’ প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা ৩১)।
এর মধ্য দিয়ে অনুধাবন করা সম্ভব হয় যে নিজে প্রতিক‚ল পরিবেশের মধ্য থেকে লেখাপড়া করে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়ে তিনি বিস্মৃত হননি তার আত্মীয়পরিজনকে এবং সাধারণ মানুষকেও। তাই অনেকরই শিক্ষাজীবনের নেপথ্যে আলোর সলতে হয়ে কাজ করেছেন নীরবে-নিভৃতে।
আবুল আহসান চৌধুরী গবেষণাকর্মকে কেবল বিবরণ দাখিলের ফর্দ হিসেবে বিবেচনা করেন না তাই তার সরবরাহকৃত তথ্যে বহুকৌণিক মাত্রা যোগ হয় আনুষঙ্গিক উপাত্ত-সমাবেশে। এই যেমন ১৯৪৪-৪৬ কালপর্বে তার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত তথ্য পরিবেশনের পাশাপাশি এই পদ থেকে পদত্যাগের চাঞ্চল্যকর ঘটনাও তুলে ধরেছেন আইনজীবী বিশ্বনাথ বাজপেয়ির লেখার সূত্র ধরে। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন রোধ করতে গিয়ে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থীর হাতে পরীক্ষা পরিদর্শকের ছুরিকাহত হওয়ার ঘটনায় উপাচার্য রাধাবিনোদ পাল ঘটনাস্থলে এলে তার গাড়িতে ইট ছুড়ে মারা হয়। এর প্রেক্ষিতে এই পদের সম্মান ও মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আকস্মিকভাবেই উপাচার্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি, যাকে আইনজীবী বাজপেয়ী তার ‘উৎ. জধফযধ ইরহড়ফব চধষ : অং ও ৎবসবসনবৎ’ প্রবন্ধে ‘ডড়ৎশবফ রিঃয ঈষধংংরপ ফরমহরঃু ধহফ যড়হড়ঁৎ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আবুল আহসান চৌধুরী রাধাবিনোদ পালের প্রতি তার আইনচর্চার ক্ষেত্র কলকাতা হাইকোর্টের অন্যায় আচরণের উল্লেখ করতে ভুলেননি-
আইনশাস্ত্রে যাঁর গভীর ও প্রগাঢ় জ্ঞান ও অধিকার, যাঁর অসামান্য আইনি প্রজ্ঞা ও মেধা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত- কলকাতা হাইকোর্ট বিচারক হিসেবে তাঁর যথার্থ মূল্যায়ন করেছে এমন কথা বলা যাবে না। তাঁকে দুই দফায় হাইকোর্টে বিচারক নিযুক্ত করা হয় বটে, তবে দুইবারই এই নিয়োগ ছিল অস্থায়ী। তৃতীয়বার আবার তাঁকে অস্থায়ী বিচারক নিয়েগের প্রস্তাব দিলে প্রবল আত্মসম্মানজ্ঞানসম্পন্ন ড. পাল তাতে কোনোক্রমেই সম্মত হননি। (পৃ. ৩৪-৩৫)
এই সংক্ষিপ্ত অথচ মহার্ঘ্য জীবনীগ্রন্থে আবুল আহসান চৌধুরী রাধাবিনোদ পালের রচনাসূত্রেরও সন্ধান দিয়েছেন আমাদের। ১৯২৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ঐরহফঁ চযরষড়ংড়ঢ়যু ড়ভ খধি রহ ঃযব ঠবফরপ ধহফ চড়ংঃ-ঠবফরপ ঞরসবং চৎরড়ৎ ঃড় ঃযব ওহংঃরঃঁঃবং ড়ভ গধহঁ’. শীর্ষক যে গবেষণা-অভিসন্দর্ভের জন্য ডক্টর অব ল’ উপাধি অর্জন করেন তার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাতের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে আইন এবং অন্যান্য বিষয়ে রচিত তার গ্রন্থ এবং প্রদত্ত বক্তৃতার শিরোনাম ও সূত্র উল্লেখ করে আবুল আহসান চৌধুরী আমাদের মনে এই আশা জাগিয়েছেন যে রাধাবিনোদের জন্মভ‚মি বাংলাদেশ থেকে তার সম্পাদনাতেই প্রকাশিত হতে পারে- ড. রাধাবিনোদ পাল রচনাবলি, যা আইন বিষয়ে উৎসুক পাঠকের পাশাপাশি জ্ঞানান্বেষু যে কাউকে ন্যায়-ভাবনায় দীপান্বিত করবে।
জাপানিদের প্রতি মিত্রশক্তির একতরফা অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধ ¯্রােতে দাঁড়িয়ে যে কেবল তিনি ন্যায়পরতার পরিচয় দিয়েছেন শুধু তাই নয় ব্যক্তিমানুষ হিসেবেও জীবনের ছোটখাটো ক্ষেত্রে কীভাবে তিনি ন্যায়ের পক্ষে পক্ষে দাঁড়িয়েছেন সে কথা তুলে এনেছেন লেখক-
ভাইস-চ্যান্সেলর থাকাকালে ড. পালের এক ছেলে আইএসসি. পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে দুই নম্বরের জন্য ফেল করে। ওই বিষয়ের পরীক্ষক ড. পালকে তাঁর ছেলের কথা বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই নম্বর জেনারেল গ্রেস দেওয়ার অনুরোধ জানান। বিষয়টি স্বজনপ্রীতি ও নীতিবিগর্হিত বিবেচনায় ভাইস চ্যান্সেলর ড. পাল সরাসরি তা নাকচ করে দেন। (পৃ. ৪১-৪২)
আমরা এই অনন্য আখ্যানপ্রায় গ্রন্থ থেকে রাধাবিনোদের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার এবং সংগীত সম্মেলনে সভাপতির ভাষণ প্রদানের কৌতুহলোদ্দীপক তথ্য পাই, দৈশ্বিক এবং বৈশ্বিক পরিসরে ক্রমগুরুত্ববান হয়ে ওঠার পরও পারিবারিক দায়িত্ব পালন এবং পূর্বপুরুষের ভিটেমাটির প্রতি স্মৃতিসত্তার টান অনুভব করা এক সহৃদয় মানুষের মানবিক মূর্তি সাকার হতে দেখি এবং সর্বোপরি যে কোনো অবস্থায় ‘ঝরসঢ়ষব ষরারহম ধহফ যরময ঃযরহশরহম’-এর মর্ম শতভাগ পালনের ইতিবৃত্ত জানতে পারি।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কাঁকিলাদহ গ্রামে যেমন গত শতকের ত্রিশের দশকে অবসরযাপনের জন্য বাড়ি, বাগান, দীঘি তৈরি করেন রাধাবিনোদ পাল তেমনি জন্মগ্রাম শালিমপুরের সম্পত্তির স্বত্ব ছোট কাকা এবং ছোট পিসিকে প্রদান করেও নিয়মিত সংস্কার এবং বাসোপযোগী ও পুনর্নির্মাণ করেন তিনি। এসবই ফেলে আসা শৈশব-কৈশোরের কাদামাটিজলের প্রতি তার অমোচ্য টানেরই প্রকাশ। লেখকের ভাষায়-
মানুষ হিসেবে রাধাবিনোদ ছিলেন স্মৃতিতাড়িত। মাটি আর মানুষের কাছে গভীর ঋণ ও দায়বদ্ধতা ছিল তাঁর। জীবনে সাফল্যের শিখরে উঠেও মাটির স্পর্শবিচ্যুত হননি। শিকড়ের টান গভীরভাবে আজীবন অনুভব করেছেন মর্মে মর্মে।
(পৃষ্ঠা. ৪৯)
লেখকের মতো আমরাও মনে করি বাংলাদেশে বর্তমানে অবহেলায় পড়ে থাকা আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান এই বিবেকী বাঙালি বিচারকের স্মৃতিচিহ্নসমূহের সংস্কার ও যথাযথ সংরক্ষণ প্রয়োজন।
‘স্বাগত : সূর্যোদয়ের দেশে’ পরিচ্ছেদে এক বাঙালির হৃদয়িক জাপান জয়ের বৃত্তান্ত ধরা আছে। ১৯৬৭-র ১০ জানুয়ারি তার মৃত্যুত্তোর জাপানের সর্বমহলের প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এখানে আমরা পাই নভেম্বর ১৯৭৪-এ তার সম্মানে প্রতিষ্ঠিত ‘পাল-শিমোনাকা মেমোরিয়াল হলো’-এর দেয়ালে ড. পালের হস্তাক্ষরে বাংলার বৈষ্ণব কবির কালজয়ী বাণী ‘সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’ প্রতিস্থাপনের অনন্য তথ্য। এ ছাড়া ১৯৯৭ এবং ২০০৫-এ টোকিওতে তার প্রতিকৃতি এবং স্মৃতিফলক প্রতিষ্ঠার আনুপূর্ব বিবরণ আমরা পাই। স্থাপিত প্রতিকৃতির পাশে মিলিটারি ট্রাইব্যুনালে প্রদত্ত রায়ের স্মরণীয় অংশ উদ্ধৃত করে জাপান এক বাঙালি বিচারকের প্রতি প্রদর্শন করেছে দুর্লভ সম্মান।
‘উত্তরকাল : স্মরণ-বিস্মরণ’ পরিচ্ছেদে ড. আবুল আহসান চৌধুরী সঙ্গতই বলতে চেয়েছেন বাঙালির বিস্মৃতি-বিলাসের শিকার হয়েছেন রাধাবিনোদ পালও। লেখকের ক্ষুব্ধ ভাষ্যে বিষয়টি উঠে আসে এভাবে-

তাঁর নামে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘চেয়ার’ প্রতিষ্ঠা, তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে উচ্চতর গবেষণা, তাঁর নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের নামকরণ, তাঁর কর্মস্থল বা বাসস্থানের কাছাকাছি তাঁর নামে কোনো সড়কের নামকরণ, তাঁকে নিয়ে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ, তাঁর একটি প্রামাণ্য জীবনীগ্রন্থ রচনা ও প্রকাশের উদ্যোগ এখনো গ্রহণ করার সুযোগ আছে। অবশ্য আমরা হারিয়েছি তাঁর অতিক্রান্ত জন্মশতবর্ষ ও মৃত্যুর অর্ধশতক উপলক্ষে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ এবং তাঁকে বিশেষভাবে স্মরণের উপযুক্ত সুযোগ। এ-প্রসঙ্গে দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, তাঁর নিজের সম্প্রদায়ের কল্যাণ-উন্নতি-শিক্ষার জন্যে সারাজীবন যে অর্থ-শ্রম-সময় দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘নিখিল বঙ্গীয় কুম্ভকার সম্মিলনী’- তাঁরাও কোনো কর্তব্য পালন করেননি। তাঁর জন্ম-মৃত্যুদিন কারো উদ্যোগে পালিত হয়ে থাকে কিংবা তাঁর সম্পর্কে সংবাদ-সাময়িকপত্রে কোনো খবর রচনা প্রকাশিত হয়- এমন তথ্য আমাদের অজানা। জানি না এ-যাবৎ তাঁর সম্পর্কে কোনো স্মারক-ডাকটিকেট প্রকাশিত হয়েছে কীনা! ড. পাল যেখানে জন্মেছিলেন, সেই স্থান এখন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। সেখানেও যে উল্লেখ করার মতো কোনো কাজ হয়েছে, এমন কথা বলা যায় না। (পৃ. ৭২)
আমরা বলতে চাই বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল সম্পর্কে বিস্মৃতি মোচনের উল্লেখযোগ্য কাজটি তার জন্মভ‚মি বাংলাদেশে বিশিষ্ট গবেষক ড. আবুল আহসান চৌধুরীর হাতেই শুরু হলো; তার রচিত বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল : এক বাঙালির জাপান জয় গ্রন্থের মধ্য দিয়ে।

এসআর