নির্বাচনকে যুদ্ধ হিসেবে নিয়েছেন তাবিথ

আগের সংবাদ

তাপসের আসন শূন্য ঘোষণা

পরের সংবাদ

আবুল আহসান চৌধুরীকে নিয়ে আমরা গর্বিত

আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৯, ২০২০ , ৬:৩৯ অপরাহ্ণ

আবুল আহসান চৌধুরী কৈশোরকাল থেকেই বিচরণ গ্রন্থের জগতে এবং সাহিত্য-গবেষণার ধারায়। কাজী মোতাহার হোসেন তার মামা। মামার প্রভাব গ্রহণ করার আগ্রহ তার ছিল। এছাড়া কুষ্টিয়া-নদীয়া-বীরভূম-বাঁকুড়ার গোটা এলাকাটাই বাউলবৈষ্ণবদের এলাকা। এরও প্রভাব আবুল আহসান চৌধুরীর জীবনে পড়েছে। তার প্রবণতা কবিতা লেখা কিংবা সঙ্গীত সাধনার দিকে। বিকশিত হয়নি- বিকশিত হয়েছে জ্ঞানগত দিক দিয়ে, কবিদের সাধকদের স্রষ্টাদের জ্ঞানগতভাবে বুঝার দিকে। এর মধ্যেও সৃষ্টিশীলতা আছে। নতুন তথ্যের আবিষ্কারে, নতুন ধারণা ও উপলব্ধির উদ্ভাবনে, পুরাতনকে উত্তরকালে জীবন্ত রূপ দিয়ে ফুটিয়ে তোলার সৃষ্টিশীলতার যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, আবুল আহসান চৌধুরীর রচনাবলিতে তারই পরিচয় আছে।
বাংলাদেশের বিদ্বৎসমাজে সমালোচনার ধারা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। এখানে ভালো অর্থে সমালোচনা বিকশিত হলে আবুল আহসান চৌধুরী এবং তারই মতো আরো কারো কারো মেধার ও প্রতিভার পরিচয় জাতির সামনে প্রতিভাত হতো।

বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরে প্রথম সেশনেই আবুল আহসান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রথম বর্ষ অনার্সে ভর্তি হয়। তখন এবং তারও দু-তিন বছর আগে থেকে পরীক্ষার ভালো ফল নিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রী বাংলা বিভাগে পড়তে আসে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের উদ্দীপনার ফল এটা। আমার ধারণা, আবুল আহসান চৌধুরীও এই রকম উদ্দীপনা নিয়ে বাংলা বিভাগে এসেছিল। আমার মনে নেই তার সঙ্গে কখন প্রথম আমার কথা হয়েছিল। এইটুকু মনে পড়ে, কোনো ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলতেই আবুল আহসান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় আবাসে আমার সঙ্গে কথা বলতে এসেছিল। তখন তার ১২০ সুবর্ণরেখার আলপনা : আবুল আহসান চৌধুরী সংবর্ধনা-গ্রন্থ চেহারায় বিষণ্নতার ছাপ দেখেছি। তার কষ্টের অংশীদার হয়েছি। তৃতীয় বর্ষ অনার্সে আবুল আহসান চৌধুরী আমার সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের (আধুনিক যুগ) ক্লাস করে। ক্লাসে ছাত্রদের প্রশ্ন করার এবং ছাত্রদের পক্ষ থেকে আমাকে প্রশ্ন করার সুযোগ দান, আমার শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকেই আমার অভ্যাস। সেই সূত্রে আবুল আহসান চৌধুরীর কথায় আমি আকর্ষণবোধ করেছি এবং তাকে জ্ঞানী সমাজের একজন সম্ভাবনাময় বক্তা কিংবা বাগীকাপে অনুভব করেছি। তাদের ক্লাসের আরো কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর কথা মনে পড়ে। বাংলা বিভাগের, বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং দেশের অবস্থাটা এত প্রতিক‚ল গিয়েছে যে। সেই প্রতিক‚লতাকে জয় করে জাতীয় জীবনে সুস্থতা প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বেÑ কি বিস্তার ক্ষেত্রে, কি কর্মের ক্ষেত্রে- কেউই সফল হতে পারেননি। সাফল্যটাই একমাত্র বিচার্য বিষয় নয়, সমস্যা সমাধানের আন্তরিক চেষ্টাতেই মানুষের মহত্ত¡। কয়েকজন মনীষীর কয়েকটি উক্তি আমার মনে পড়ছে :

অশ্বদেশীয় অসহ্যবহার বিষয়ে যুদ্যপি সর্বদাই লিখনপঠন ও পর্যালোচনা হয়, অবশ্যই তন্নিরাকরণের কোনো সদুপায় স্থির হইবেক, সন্দেহ নাই। অনবরত মৃত্তিকা খনন করিলে কতদিন বারি নিত না হইয়া বহিতে পারে। কাঠের কাছে অনবরত সংঘর্ষণ করলে কতক্ষণ হুতাশন বিনিঃসৃত না হইয়া থাকিতে পারে। এবং অনবরত সত্যের অনুসন্ধান করিলে কত দিনই বা তাহা প্রকাশিত না হইয়া মিথ্যা জালে প্রচ্ছন্ন থাকতে পারে? -ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর হাল কথনও ছেড়ো না, তরী জেগে উঠবেই। -মোহাম্মদ লুৎফর রহমান

যদি সমাজের কাজ করিতে চাও, গায়ের চামড়াকে এত পুরু করে নিতে হবে যে, কোনো অপমান, কোনো গঞ্জনা তাতে বিদ্ধ না হয়। -বেগম রোকেয়া ত্রুটি, বিচ্যুতি, অপরাধ, অধর্মই মানুষের সবটুকু নয়। মানুষকে তন্ন তন্ন করিয়া দেখিবার চেষ্টা করিলে তাহার ভিতর হইতে অনেক জিনিস বাহির হয়, তখন তাহার দোষ-ত্রুটিকে সহানুভ‚তি না করিয়া থাকা যায় না। -শস্ত্র চট্টোপাধ্যায়
আবুল আহসান চৌধুরীর কাজের কথা ভাবতে গিয়ে এত কথা মনে জাগছে। তার রচনাবলি অনুধাবন করলে বোঝা যায়- তার কৃতিত্ব অসামান্য। দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আত্মশক্তিতে হিত হয়ে বাইরে থেকে গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হওয়া- এই দৃষ্টিভঙ্গি, আর অদম্য স্পৃহা নিয়ে নিরন্তর কাজে ব্রত থাকা- প্রতিক‚লতা অতিক্রম করে সামনে চলা- এই রকম নানা ব্যাপার তার চেতনার মর্মে ক্রিয়াশীল আছে।
আবুল আহসান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সেই ছাত্রদের একজন, যাদের নিয়ে আমরা গর্ব অনুভব করি। আমি আশা করি, বিশ্বাস করি আরো বৃহত্তর সাফল্য উজ্জ্বলতর হয়ে তার ব্যক্তিত্ব জাতির সামনে প্রতিভাত হবে।

এসআর