ধর্ষকের বসবাস পরিত্যক্ত ট্রেনের কামরায়

আগের সংবাদ

টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

পরের সংবাদ

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন

গ্রেপ্তার মজনু মাদকাসক্ত সিরিয়াল ধর্ষক

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৮, ২০২০ , ২:০২ অপরাহ্ণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত মজনু (৩০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে গাজীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) গ্রেপ্তারকৃত মজনুকে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে নিয়ে আসা হয়েছে।

দুপুর দুটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে মজনুকে হাজির করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত মজনু একজন সিরিয়াল ধর্ষক। বিভিন্ন সময়ে সে রাস্তায় নারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করতো। সে মাদকাসক্ত। ১০বছর আগে মজনু ঢাকা আসে। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালির হাতিয়ায়। মজনু স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে ভবঘুরে জীবন যাপন করতো। পেশায় সে একজন হকার। এর পাশাপাশি সে ছিনতাইসহ নানা ধরণের অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টায় আমরা তাকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছি।

মজনু প্রতিবন্দী নারীদের ও ভিক্ষুকদের ধর্ষণ করতো। বিভিন্ন যায়গা থেকে নারীদের ধরে এনে সে ঐ যায়গায় ধর্ষণ করতো। দীর্ঘদিন যাবত সে এই অপকর্ম করে আসছিল। ঘটনার দিন ওই স্থানে মজনু আগে থেকেই ওত পেতে ছিল যে, কেউ আসলেই তাকে ধরবে। ঐ সময়টায় ওই স্থানে মানুষের চলাচল কম থাকে। সে ঢাবি ছাত্রীকে মেরে ফেলার জন্য কয়েকবার পেদক্ষেপ নিয়েছিল।ভিকটিমকে সে গলাটিপে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। সে একাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। ধর্ষণ করার পরও সে ছিল নির্বিকার।

এ ঘটনায় ক্লোরোফোর ব্যবহার করা হয়নি। তার কাছ থেকে কোনো ধরণের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। সে নরসিংদী চলে গিয়েছিল। ভিকটিমের মেবাইল অনন্যা নামের এক মহিলার কাছে বিক্রি করে দেয় মজনু। পরে মঙ্গলবার সেই মোবাইলের টাকা ফেরত নিতে আসে মজনু। তখনি আগে থেকে প্রস্তুত থাকা র‌্যাব সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিই যে ধর্ষক তা সনাক্ত করেন ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতভর অভিযান চালিয়ে গাজীপুর থেকে ধর্ষক মজনুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন-কাশেম জানান, গ্রেপ্তার করা ওই ব্যক্তির ছবি ধর্ষণের শিকার ছাত্রীকে দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তিই ধর্ষক বলে তিনবার সম্মতি জানিয়ে সনাক্ত করেছেন। ধর্ষকের কাছ থেকে ওই ছাত্রীর মোবাইল, চার্জার ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।

এরপর দুপুর দুটার দিকে কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে হাজির করা হয় গ্রেপ্তারকৃত মজনুকে।

এনএম