মৎসসম্পদ রক্ষায় উপকূলে কম্বিং অপারেশন

আগের সংবাদ

ধর্ষিতার পক্ষে লড়তে প্রস্তুত ২৫ আইনজীবী

পরের সংবাদ

৮৭ খিত্তায় ৬৪ জেলার মুসুল্লি

দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের ঢল, বেড়েছে পরিধি

এম নজরুল ইসলাম, ইজতেমা ময়দান থেকে

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৮, ২০২০ , ৯:২৭ অপরাহ্ণ

টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণজমায়েত উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে দলে দলে মুসল্লিরা আসছেন। বাস, ট্রাক, পিকআপ, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে, কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লির ঢল এখন তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান। শিশু থেকে বৃদ্ধ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার বিভিন্ন বয়েসী মুসল্লি ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মিলনস্থল পুরো ইজতেমা ময়দান।

এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথমপর্বে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি ছাড়াও দেশের ৬৪ জেলার মুসুল্লিদের জেলাওয়ারী স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। যাদের প্রতিটিকে খিত্তা বলা হয়। এবার পুরো ময়দানকে ৮৭ খিত্তায় বিভক্ত করে আগত মুসল্লিদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা।

বিশ্ব ইজতেমার মুরুব্বী প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন বলেন, এ পর্বে দেশীয় মুসুল্লিদের জন্য পুরো ইজতেমা ময়দানকে ৮৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। এসব খিত্তায় সারাদেশের তাবলীগী মুসুল্লিরা অবস্থান নেবেন। এছাড়া মূল ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম অংশে (দোয়া মঞ্চের পাশে) বিদেশিদের জন্য আধুনিক সুবিধাসহ কয়েকটি প্যান্ডেল রয়েছে। এবারের ইজতেমা রেকর্ড সংখ্য মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ব ইজতেমার মাঠের পরিধি আরো বাড়ানো হয়েছে। আগের খিত্তাগুলোর সঙ্গে এবার অতিরিক্তি ১৪টি খিত্তা যোগ করা হয়েছে।

মুসল্লিদের যাতায়াতে বিআরটিএ’র হস্তক্ষেপ চান শীর্ষ মুরুব্বিরা: মুসল্লিদের সুবিধার্থে তুরাগ তীরের পশ্চিম পাড়েও বিস্তৃত হয়েছে ইজতেমা ময়দানের কলেবর। এখানে সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন মুসল্লিরা। তবে মুসল্লিদের পারাপারের জন্য যে পন্টুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে তার পশ্চিম অংশে তুরাগ পাড়ে বাড়ি ঘর থাকায় মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারছেন না।

বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে ইজতেমায় আসছেন মুসল্লিরা। ছবি: প্রতিনিধি।

ইজতেমার মুরুব্বি ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজ জানান, মুসল্লিদের সমাগম বেশি হওয়ায় সরকার তুরাগ তীরের পশ্চিম পাড় ইজতেমার ময়দানের জন্য দিয়েছে, এতে এখন ময়দানের ব্যাপ্তি প্রায় ৩শ’ একর। অনেক মুসল্লি রাজউকের এই এলাকা দিয়ে পশ্চিম পাড় হয়ে পন্টুন ব্রিজ ব্যবহার করে ইজতেমা ময়দানে আসেন। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ তুরাগপাড় উচ্ছেদ করলেও পশ্চিম পাড়ে এখনো বেশ কিছু বসতি রয়েছে যা নদীর সীমানায় থাকার কথা নয়। ফলে অবৈধ বসত বাড়ির কারণে ইজতেমায় আগত মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দে পশ্চিম পাড় থেকে সেনাবাহিনী নির্মিত পন্টুন ব্রিজ ব্যবহার করতে পারছেন না। একারণে অবিলম্বে এসব অবৈধ বসতবাড়ি উচ্ছেদের জন্য তিনি বিআরডব্লিওটিএর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

আসছেন দেশ বিদেশের লাখো মুসুল্লি: দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইজতেমা ময়দানে এরই মধ্যে মুসুল্লিদের আগমন শুরু হয়েছে। বাস, মিনিবাস, ট্রেনে চড়ে দলে দলের আসছেন মুসুল্লিরা। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মরোক্কো, সুদান, মিশর, ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের মুসুল্লিরা ইজতেমা ময়দানে আসতে শুরু করেছেন। এসব দেশ থেকে এবার সহস্রাধিক মুসুল্লি অংশ নেবেন বলে আশা আয়োজকদের।

ইজতমা ময়দানের মুরুব্বিদের পরামর্শ ও নির্দেশনায় শত শত স্বেচ্ছাসেবক মাঠে সামিয়ানা টাঙ্গানো, চট সেলাই-মেরামত, বাঁশের খুটি পোঁতা, ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, রাস্তা মেরামত, বিদ্যুতের লাইন টানানো, পয়ঃনিষ্কাশন ও পানি সরবরাহের কাজ সম্পন্ন করেন। প্রচণ্ড শীত ও কনকনে হিমেল হাওয়াকে উপেক্ষা করেই মুসল্লিরা দলে দলে ভাগ হয়ে তাদের স্ব স্ব খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

ইজতেমা ময়দানের দিকে যাচ্ছেন মুসল্লিরা। ছবি: প্রতিনিধি।

এদিকে, লাখ লাখ মুসল্লির সমাগমকে সামনে রেখে ইজতেমা ময়দানে গতবারের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়েছে। স্থায়ী সিসিটিভি বসানোসহ থাকছে ওয়াচ টাওয়ার, পুলিশ, র‌্যাবের আলাদা কন্ট্রোল রুম।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ইজতেমা উপলক্ষে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবার ইজতেমায় সাড়ে ৮ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইজতেমা ময়দান ও এর আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশি মেহমানখানায় সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে। আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। থাকবে নৌটহলও যাতে ময়দানের পশ্চিম পাশ দিয়ে কোনো দুষ্কৃতিকারী প্রবেশ করতে না পারে।

গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন বলেন, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য সিটি করপোরেশন কন্ট্রোলরুম স্থাপন করেছে। ইজতেমার মুরুব্বিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তাদের যে কোনো সমস্যা সমাধানে তৎপর রয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। এজন্য ২ হাজার কর্মী মাঠে কাজ করছে। ইজতেমা ময়দান ও এর আশাপাশের এলাকায় প্রয়োজনীয় ফগার মেশিন দিয়ে মশক নিধন করা হবে। এছাড়া ইজতেমা ময়দানের চারিপাশে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের মুরব্বিরা: বিশ্ব ইজতেমার মূল আকর্ষণই থাকে ভারতের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অংশগ্রহণ। গত কয়েকবছর ধরে নিজামুদ্দিন মারকাজের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারতসহ অনেক দেশের আলেমদের বিরূপ মনোভাব ও সহিংসতার পর সাদ কান্ধলভিসহ ভারতের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় আলেমরাও আসতে পারেনি। তবে এবারের বিশ্ব ইজতেমায় ভারতের মুরব্বিরা অংশগ্রহণ করবেন বলে একটি বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়।

ইজতেমা ময়দানে নিজেদের নির্ধারিত অবস্থান খোঁজ করছেন মুসল্লিরা। ছবি: প্রতিনিধি।

সাধারণত ভারতের শীর্ষস্থানীয় আলেমরাই থাকেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাই এবারের ইজতেমায় ভারত থেকে যাদের অংশগ্রহণে সম্ভাবনা বেশি, তারা হলেন-মাওলানা ইব্রাহিম দেওলা, মাওলানা আহমদ লাট, মাওলানা জুহাইরুল হাসান, মাওলানা খোবাইবুল হাসান, মাওলানা ইসমাইল গোধরা, ডক্টর সানাউল্লাহ খান, হাকিম আব্দুল মান্নান, মাওলানা আব্দুর রহমান রাবিয়ানা, মো. ফারুক, ব্যাঙ্গালোর থেকে প্রফেসর আব্দুর রহমান মাদ্রাসী, দিল্লী থেকে সানোয়ার, আলী গড়ের মাওলানা আহমদ হুসাইন গোধরা, মাওলানা আকবর শরীফ, মুম্বাই থেকে মাওলানা ইউনুস এবং মাওলানা উসমান কাকুসি।

বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে আগামী ১৭ জানুয়ারি। এরপর ১৯ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এনএম