২১ বছরের কম বয়সে তামাক নিষেধ

আগের সংবাদ

কাজে ফিরেছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা

পরের সংবাদ

ক্ষুব্ধ নাগরিকদের তোপে পড়ে পালালেন প্রধানমন্ত্রী

আগুনের গ্রাসে ভয়াবহতার চূড়ান্ত সীমায় অস্ট্রেলিয়া

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৪, ২০২০ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

কার্যত আস্ত একটা দেশ এখন আগুনের গ্রাসে। অস্ট্রেলিয়ায় দাবানল কমার কোনো লক্ষণ নেই। আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি। বহু মানুষ আশ্রয় নিচ্ছেন সমুদ্রের ধারে। ভয়াবহতার চ‚ড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে অস্ট্রেলিয়া। আগুনের গ্রাসে একের পর এক বসতি। সমুদ্র সৈকতে আটকে শয়ে শয়ে মানুষ। ভয়, সেখানেও পৌঁছে যাবে আগুনের শিখা। অস্ট্রেলিয়াজুড়ে দাবানল থামার তো কোনো লক্ষণই নেই, বরং প্রতিদিন বাড়ছে। দক্ষিণ পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার মালাকুটা অঞ্চলে একটি সমুদ্র সৈকতে প্রায় চার হাজার মানুষের আটকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলটাই কার্যত দাবানলের কবলে চলে গিয়েছে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে এলাকার মানুষ সমুদ্রের ধারে পৌঁছে গিয়েছেন। কিন্তু সমুদ্র সৈকত থেকে বার হওয়ার কোনো রাস্তা খোলা নেই। আগুনের বলয় ক্রমশ ধেয়ে আসছে সৈকতের দিকে। এই অবস্থায় নৌকো এবং বিমানে সেখানকার মানুষকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গোটা অঞ্চল ঘিরে রেখেছেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু তাতেও আশ্বস্ত হওয়া যাচ্ছে না। মালাকুটার যখন এই অবস্থা, তখন নিউ সাউথ ওয়েলস অঞ্চলে আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এক দমকল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ভয়াবহ দাবানলে পুড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার একটি শহর পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র ভৎর্সনা আর তোপে পড়ে তড়িঘড়ি সফর সংক্ষিপ্ত করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। বৃহস্পতিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কোবারগো পরিদর্শনে যান মরিসন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকাই ওই অঞ্চলে শুরু হয় টর্নেডো। আগুনের গোলা সমেত সেই টর্নেডো আস্ত একটা দমকলকে হাওয়ায় তুলে দেয়। সেই গাড়ির ভিতরেই ছিলেন একজন কর্মী। ঘটনাস্থলেই ঝলসে মৃত্যু হয় তার। নিউ সাউথ ওয়েলসেও বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে সমুদ্রের ধারে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘর বাড়ি সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। সব হারিয়ে সাধারণ মানুষ টুইট করে বলছেন, তাদের আর কিছু নেই।

মালাকুটার সাম্প্রতিক অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক। বেশ কিছু পর্যটকও সেখানে গিয়েছিলেন। সমুদ্র সৈকতে তারাও আটকে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চারজন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে আটকে পড়া সাধারণ মানুষদের ভয় না পাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে প্রশাসন। বলা হচ্ছে, তাদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসন সব রকম ব্যবস্থা করছে। মৃত্যুর খবর প্রতিদিনই আসছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। তবে এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সর্বমোট কোনো পরিসংখ্যান প্রশাসনের তরফ থেকে দেয়া হয়নি।

এদিকে ভয়াবহ দাবানলে পুড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার একটি শহর পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় অধিবাসীদের তীব্র ভৎর্সনা আর তোপে পড়ে তড়িঘড়ি সফর সংক্ষিপ্ত করে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার নিউ সাউথ ওয়েলসের কোবারগো পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মরিসন। দাবানলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে কোবারগো অন্যতম। শহরটির বেগা ভ্যালি মঙ্গলবার সকাল থেকে দাবানলে পুড়ছে।মারা গেছে তিনজন। অন্যদের বাড়িঘর পুড়ে গেছে। মরিসন তার সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাসিন্দাদের তোপের মুখে পড়েন। লোকজন তাকে গালিগালাজও করে। স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, মরিসন এক নারীর কাছে তার কুশল জানতে চেয়ে তার সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ওই নারী। বরং কড়া চোখে মরিসনের দিকে তাকিয়ে রাগাম্বিত স্বরে তিনি বলছেন, আমাদের রুরাল ফায়ার সার্ভিসকে আপনি আরো তহবিল দিলেই কেবল আপনার সঙ্গে হাত মেলাব। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছে। ‘আমাদের আরো সাহায্য চাই’ বলতে শোনা যায় ওই নারীকে। এ সময় একজনকে এগিয়ে এসে ওই নারীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

এমএইচ