ইরানী জেনারেল হত্যায় বিশ্ব প্রতিক্রিয়া

আগের সংবাদ

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং আমাদের উদ্বেগ

পরের সংবাদ

শিল্পকলায় বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব শুরু

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ৯:০৫ অপরাহ্ণ

শিল্প-সংস্কৃতি ঋদ্ধ সৃজনশীল মানবিক দেশ গঠনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২০’। দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। যেখানে এক আয়োজনের মধ্য দিয়েই দেশীয় সংস্কৃতির সকল মাধ্যমেরই স্বাদ পাওয়া যাবে। নাচ, গান, আবৃত্তি, যাত্রাপালা, যন্ত্রসঙ্গীত সবই আছে এর মধ্যে। ৬৪টি জেলা ও ৬৪টি উপজেলার শিল্পীরা তাদের নিজস্ব পরিবেশনায় মাত করবেন আগামী ২১টি দিন। এছাড়াও একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রতিদিন রাত আটটায় পরিবেশিত হবে লোকনাট্য।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে ছিল উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিকতা। যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সচিব মো: বদরুল আনম ভূঁইয়া।

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আমাদের রাজনৈতিক সীমারেখা আছে। সেই সীমারেখার বাইরে সংস্কৃতিক সীমারেখা ছড়িয়ে গেছে। সারাবিশ্বে সেই সাংস্কৃতিক ঝান্ডা উড়ছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেই নেতৃত্ব আমাদের কাছে এনে দিয়েছেন। এখন আমাদের সচেতন হতে হবে, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। কে এম খালিদ বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক উৎসব হচ্ছে। যেখানে ৬৪টি জেলা ও উপজেলা অংশ নিচ্ছে। আগামীতে জেলায় জেলায় সাংস্কৃতিক উৎসব হবে। এর মধ্য দিয়ে সারাদেশে সাংস্কৃতিক জাগরণ তৈরি হবে। সাংস্কৃতিক অঙ্গণের মানুষ সবার আগে এগিয়ে আসে। সেটা আমরা যেকোনো সংকটে দেখে এসেছি।

লিয়াকত আলী লাকী বলেন, আমরা অনেক হারিয়েছি। এক সময় আমাদের ৬০০ রকম বাদ্যযন্ত্র ছিল এখন তা ২০০ এর মতো। আমরা আমাদের সংস্কৃতির আর কোনো কিছুই হারাতে চাই না। এজন্য আমরা সারাদেশের লোকজ সংস্কৃতি নিয়ে এই উৎসবের আয়োজন করেছি। যন্ত্রসংগীত শিল্পী কাজী হাবলুর পরিচালনায় ‘জয়বাংলা, বাংলার জয়’ গানটির সঙ্গে যন্ত্রসংগীতের মধ্যদিয়ে উদ্বোধনী পরিবেশনা শুরু হয়। একাডেমির শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করে। এরপর প্রথমদিনে উদ্বোধনী আয়োজনের পর ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ জেলার পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। জেলার পরিবেশনা শেষে একাডেমি প্রাঙ্গনে রাত ৮টায় শুরু হয় ঝিনাইদাহ যাত্রাদলের যাত্রাপালা।

একুশ দিনব্যাপী এ উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সমবেত সংগীত, যন্ত্রসংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলা, পালা, একক সংগীত, বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য, যাত্রা, সমবেত নৃত্য, অ্যাক্রোবেটিক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবেশনা, পুতুলনাট্য, একক আবৃত্তি, শিশুদের পরিবেশনা, বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সংগীত ও নৃত্য, বৃন্দ আবৃত্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির পরিবেশনা, আঞ্চলিক ও জেলা ব্রান্ডিং বিষয়ক সংগীত ও নৃত্য এবং জেলার ঐতিহ্যবাহী ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী। উৎসবে প্রতিদিন ৩টি জেলা, ৩টি উপজেলা, জাতীয় পর্যায়ের শিল্পী ও সংগঠনের পরিবেশনাও থাকছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়