বিয়ের প্রলোভনে তরুণী ধর্ষণ, গ্রেপ্তার পুলিশ

আগের সংবাদ

বাগদাদে রকেট হামলায় ইরানি কমান্ডার নিহত

পরের সংবাদ

চলতি মাসেই তিনটি শৈত্যপ্রবাহ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ

চলতি জানুয়ারি মাসেই সারাদেশে তিনটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। গতকাল বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ জানান, ৬ জানুয়ারির পর একটি এবং মাসের শেষ সপ্তাহে আরেকটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে। আর মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এদিকে শীত ও শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। প্রতিমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের আগে জানুয়ারি মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের বিস্তারিত জানান অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন।

সামছুদ্দিন বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে- বছরের প্রথম মাসের প্রথমার্ধেই দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত হবে। গত বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ শুক্রবার এ বৃষ্টিপাত আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, আগামী ৬ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ও রাতের তাপমাত্রা আরো কমে যাবে। জানুয়ারি মাসে আরো দুটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শৈত্যপ্রবাহ চলাকালে বিভিন্ন বিভাগের জেলাগুলোতে কনকনে শীত অনুভ‚ত হবে। আগামী ৩, ৪ ও ৫ জানুয়ারি দেশের বিভিন্নস্থানে বৃষ্টিপাত হবে। বৃষ্টিপাত হওয়ার পর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করবে এবং শৈত্যপ্রবাহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিরাজমান থাকবে। গ্রামাঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভ‚ত বাড়বে। সামছুদ্দিন বলেন, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের কিছু অংশ এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেশি থাকবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের আরেকটি অঞ্চল বাঘাইছড়ি ও এর আশেপাশে শীতের তীব্রতা হবে। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ থাকতে পারে।

রাতের তাপমাত্রা বা সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে তাকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। আর তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে মাঝারি এবং তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। গত ডিসেম্বরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। জানুয়ারিতেও সেখানে একই ধরনের অবস্থা বিরাজ করতে পারে বলে

জানান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক। এবার তাপমাত্রা ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলিসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা দেখছেন কি না- এ প্রশ্নে সামছুদ্দিন বলেন, গত বছর রেকর্ড ২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। এবারের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। আরো সপ্তাহখানেক পরে হয়তো বোঝা যাবে। তিনি জানান, ডিসেম্বরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গিয়েছিল, ডিসেম্বরের শেষ দিকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার পাশাপাশি সূর্যের আলো কম থাকায় শীতের তীব্রতা প্রচণ্ড ছিল। তাপমাত্রার মাপকাঠিতে ৮ থেকে ১০ ডিগ্রিকে হয়তো মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলেছি, কিন্তু সূর্যের আলো কম থাকায় ও কোথাও কোথাও কনকনে হিমেল হাওয়া থাকায় শীতের তীব্রতা সারাদেশেই প্রবলভাবে অনুভ‚ত হয়েছে তখন।

ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে পর পর দুই দফা শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। গত রবিবার সকালে তেঁতুলিয়ায় থার্মোমিটারের পারদ নেমে যায় ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। গতকাল বৃহস্পতিবার ( ২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান বলেন, শৈত্যপ্রবাহের সময় কেউ যাতে শীতে কষ্ট না পায় সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, অক্টোবরে শীতের পূর্বাভাস পাওয়ার পর প্রত্যেক জেলায় শীতবস্ত্র পাঠিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী শীতবস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে।

অন্যদের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শাহ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মহসীন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

এসআর