বাগে আসেনি পেঁয়াজ, নতুন করে উল্লম্ফন

আগের সংবাদ

কম ব্যয়, অল্প পরিশ্রমে বেশি লাভ

পরের সংবাদ

সুলাইমানি হত্যা

কোনদিকে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ৬:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক বাহিনী বিপ্লবী গার্ডের বিশেষ ইউনিট কুর্দ ফোর্সের প্রধান এবং দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল কাসেম সুলাইমানি। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে যেমন তুমুল আলোচনা ঝড় উঠেছে তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। ইরান হুমকি দিয়েছে চরম প্রতিশোধ নেয়ার। আবার সোলাইমানিকে হত্যার পর নাকি মার্কিন বাহিনী উল্লাসও করেছে এমন খবরও দিচ্ছে মার্কিনের পক্ষ থেকে।

এসব ঘটনায় বিশ্লেষকরা বলছেন, সুলাইমানিকে হত্যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন চলমান ছায়াযুদ্ধকে নতুন করে উসকে দেয়া হলো। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আবরকে নিয়ে মার্কিন শক্তি বিস্তারের ফর্মুলা পাল্টে যেতে পারে।

বিগত সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে আলোচিত ও ক্ষমতাধর হিসেবে আলোচিত ছিলেন সামরিক বিশেষজ্ঞ সুলাইমানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে তথা বিদেশের মাটিতে ইরানের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করা ‘কুর্দ ফোর্সের’ প্রভাব বাড়ানোর পেছনে সবটা অবদানই ছিল। সাম্প্রতিককালে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের যে প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে চ্যালেঞ্জ করছিল তার মূলেও ছিলেন সামরিক এই নেতা। যাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী জার্নাল ‘ফরেন পলিসি’ বিশ্বের সামরিক কর্মকর্তাদের তালিকায় সবার উপরে স্থান করে দিয়েছিল।

সৌদি আরবের পক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর প্রধান টার্গেট ছিলেন সুলাইমানি। তবে দীর্ঘ সময় ধরেই পশ্চিমা গোয়েন্দারে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই ছিলেন তিনি। ইরাক-সিরিয়া থেকে আইএস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সুলাইমানি। সিরিয়ায় আসাদ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ছায়াযুদ্ধে বারবার নিজকে সফল হিসেবে প্রমাণ করতে পেরেছিলেন।

সামরিক খাতে ব্যাপক অবদানের জন্য ইরান সরকার ইরানী বিপ্লবের পর প্রথমবারের মতো সুলাইমানিকে ’অর্ডার অফ জুলফিকার’ সম্মানে ভূষিত করে। ২২ বছর ধরে বিশেষায়িত এ বাহিনী গড়ে তুলে ইরানের সামরিক শক্তি আর পদ্ধতিগত দিক দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সুলাইমানি।

মধ্যপ্রাচ্যে ঠিক এমনি শক্তিমত্তার কারণে ইরাকে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পেছনে সুলায়মানিকেই দুষছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাছাড়া সৌদি আরবের তেলকূপে হুতি বিদ্রোহীদের হামলাকেও সুলাইমানির পরিকল্পনা বলেই মনে করতো সৌদি সরকার। শুধু মার্কিন কিংবা সৌদিই নয়, ইরানের অব্যাহত সামরিক অগ্রগতিকে নিজেদের জন্য চরম হুমকি মনে করে ইসরাঈল।

সব মিলিয়ে ইরাকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং চরম সামরিক চাপের মধ্যে বিমান হামলা করে তাকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মাথাব্যথা দূর করার চেষ্টা চালালেও তার প্রতিক্রিয়া অনেক ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের পরই তেলের দাম ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আর নিজেদের অন্যতম সামরিক তারকা ও নেতাকে হারিয়ে চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। এ আঘাতকে সহজেই ছাড় দেবে না দেশটি। ফলে ইরান এখন কী ধরনের পাল্টা জবাব দেয় সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

সবমিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্বসামরিক অঙ্গনে সুলাইমানি হত্যাকাণ্ড প্রভাব সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে মনে করছেন সামরিক বোদ্ধারা। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। ফলে এ হত্যাকাণ্ড মার্কিন নিরাপত্তার জন্য আরো বেশি বিপজ্জনক পরিস্থিতি ডেকে আনতে পারে। আর মধ্যপ্রাচ্যে হু হু করে বেড়ে যেতে পারে তেলের দাম। হামলা পাল্টা হামলায় যেকোনো পরিস্থিতির দিকে মোড় নিতে পারে বিশ্ব রাজনীতি।

নকি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়