হারুন হাবীবের বহুমুখিতা

আগের সংবাদ

অনশন স্থগিত, ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি কাঠামো

পরের সংবাদ

বিষফোঁড়া ছালাভরা ব্রিজ

মহাসড়কে ‘নয়া ফেরিঘাট’

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২, ২০২০ , ১০:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ৩, ২০২০ , ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

সন্ধ্যা হলেই গাড়ি চালক আর বাসের যাত্রীদের বাড়তি চিন্তা। কখন তারা পার হবেন ছালাভরা ব্রিজটি। একটু রাত হলেই দক্ষিণবঙ্গের মালবাহী হাজার হাজার ট্রাকের চাপে অন্ধকারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেখানে উপচে পড়া যানজট। তখন আর রক্ষা নেই। অপেক্ষা করতে হবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

আর সেই ভয়াবহ যানজট থেকে পরিত্রাণের কোনোও পথ নেই। ফলে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে দুর্বিষহ সময় কাটাতে হয় গাড়ির লোকজনসহ দূরপাল্লার যাত্রীদের। এমন দুর্ভোগ নিত্যদিনের। এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় খুলনা-কুষ্টিয়া ব্যস্ততম মহাসড়কে নির্মাণাধীন ছালাভরা ব্রিজ।

হাইওয়ে প্রশাসন, পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে নির্মাণাধীন ব্রিজটি। যানজটমুক্ত মহাসড়কের জন্য এ ব্রিজটির পাশেই বিকল্প বাইপাস সড়ক নির্মাণ করার প্রয়োজন থাকলেও তা না করে সরু বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে যানজটের ধকল সামলাতে হচ্ছে নিত্যদিন।

তবে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নির্মাণাধীন ব্রিজের দুই পাশেই খাল। যে খালের গভীরতা ২৮/৩০ ফুটেরও অধিক। ফলে বাইপাস সড়ক নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় নির্মাণাধীন ব্রিজের ওপরেই সরু বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে সেই ব্রিজের ওপর দিয়েই চলছে সব ধরনের যানবাহন।

যদিও ব্রিজটির এক পাশে গাড়ি ছাড়লে অন্যপাশে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়। তবে এটাতেও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে বিভিন্ন যানবাহনের কিছু চালক আছে তারা নিয়ম ভঙ্গ করে বিশৃঙ্খলভাবে লাইন ছেড়ে আগে ওঠার চেষ্টা করে। তাদের কারণেই ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, ছালাভরা নির্মাণাধীন ব্রিজের দুইধারে সারিবদ্ধ যানবাহনের প্রায় ১৫ কিলোমিটারের লম্বা লাইন। যে লাইনে সন্ধ্যার পর থেকে শত শত যাত্রীবাহী বাসসহ মালবাহী ট্রাক ছোট বড় গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। তারা ব্রিজের দু’ধারে অপেক্ষায় আছে ব্রিজ পার হওয়ার জন্য। কিছু যানবাহন নিয়ম ও লাইন ভেঙে বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আগে উঠার চেষ্টা করছে। যে কারণে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার গাড়িগুলোর যাত্রীরা প্রচণ্ড শীতের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছেন।

রাতে এভাবেই দুঃসহ যানজটে নাকাল হতে হয়। ছবি: প্রতিনিধি।

গড়াই পরিবহনের আবুল কালাম নামের এক বাস চালক জানান, তারা সকালে কুষ্টিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনায় গিয়েছিলেন। এরপর বিকেলে খুলনা থেকে ফিরতি ট্রিপে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্ত ছালাভরা ব্রিজের জন্য ভয়াবহ যানজটের শিকার হয়ে রাস্তায় পড়ে আছেন। তিনি বলেন, এমন অবস্থা প্রায় দিনই ঘটছে। কোনো কোনোদিন যাত্রী বোঝাই গাড়ি নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।

জেলার মহেশপুরের সাইদুর রহমান নামের ঢাকা পরিবহনের যাত্রী জানান, বিকেলের গাড়িতে ঢাকায় যাচ্ছেন। সকালে ঢাকায় গিয়ে অফিস ধরবেন। কিন্তু ছালাভরা ব্রিজের আগে গাড়ির লম্বা লাইনের যানজটে আটকে গেছেন। পার হতেই রাত কেটে যাবে।

আলমগীর হোসেন নামের গড়াই পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, দুপুরের পরই তিনি গড়াই পরিবহনে উঠে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। কিন্ত ছালাভরা ব্রিজের আগেই যানজটে আটকে আছেন। বেশ রাত হয়ে গেছে। শুনছি এখান থেকে ব্রিজের দুই ধারে প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কখন বাড়ি পৌঁছাতে পারবো জানি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দুই পাশে গাড়ির লম্বা লাইন পড়লেও সমস্যা নেই। কিন্ত কোন কোন গাড়ির চালক খামখেয়ালি করে অযথা আগে উঠার চেষ্টা করে যানজটটা আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।

কালীগঞ্জের তোতা মিয়া নামের ঢাকাগামী বাসের এক টিকিট কাউন্টার মালিকসহ একাধিক পরিবহনের চালক জানান, কালীগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী রাতের অনেক পরিবহন ছালাভরা ব্রিজের যানজটের ঝামেলা এড়াতে কালীগঞ্জ শহরের মধ্যদিয়ে গ্রামের সড়ক ধরে আড়পাড়া হয়ে মাগুরায় উঠছেন। আবার কোনো কোনো পরিবহন শহরের মধ্যদিয়ে নারিকেলবাড়িয়া বাজার হয়ে সরু সড়কে গোপালপুর বাজারে উঠছেন। যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারা আরও জানান, দিনের বেলায় শহরের মধ্য দিয়ে গেলে আবারো যানজটে আটকে যান। ফলে ঝামেলা তাদের পিছু ছাড়ছে না।

হাইওয়ে পুলিশের এস আই কালীপদ বিশ্বাস যানজটের কথাটি স্বীকার করে জানান, নির্মাণাধীন ব্রিজটি ঘিরেই মূলত যানজট। যা প্রায় প্রতি রাতেই দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, দু’ধারে অবশ্যই বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্ত সেটা না করে বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। যে ব্রিজটি দিয়ে দেশের দক্ষিণাঞ্চালের ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে যানজট লেগে থাকছে।

এমন দুর্ভোগে পড়তে হয় মাঝে মাঝেই। ছবি: প্রতিনিধি।

এস আই কালীপদ বলেন, মংলা সমুদ্র বন্দর, ভোমরা বন্দর ও বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ছাড় হওয়া মালামালের মালবাহী ট্রাকসহ দক্ষিণাঞ্চলের সমস্ত মালামালের ট্রাক এ মহাসড়ক দিয়েই যাতায়াত করে থাকে। আর মালবাহী ট্রাকের চাপটা বেশি থাকে রাতে। এরপরেও রয়েছে দূরপাল্লাসহ স্থানীয় রুটে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাস। ফলে পরিবহন আধিক্য ও সরু ব্রিজের কারণে যানজট লেগে থাকে। যা কোনো কোনো রাতে অসহনীয় যানজটে রূপ নিয়ে ১৫/২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়। যা নিরসনে তারা দিনরাত কাজ করছেন।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সওজের উপ-প্রকৌশলী আলহাজ্ব গোলাম সরোয়ার বলেন, মহাসড়কের অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ছালাভরা ব্রিজটির নির্মাণ কাজ চলছে। ব্যস্ততম এ মহাসড়কের ওপরের ব্রিজটি নির্মাণের আগে দুই ধারে বাইপাস সড়কের প্রয়োজন ছিল এটা সত্য, তবে দুই পাশেই কমপক্ষে ৩০ ফুট গভীরের খাল। যে কারণে বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে যান চলাচল সাভাবিক রাখতে সরু হলেও বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। যার ওপর দিয়েই চলছে সমস্ত যানবাহন। টু-লেনের বেইলি ব্রিজ নির্মাণের জায়গা নেই। আর এটা তৈরি করা হলেও তা হতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এসএইচ/এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়