রাস্তা অবরোধ করে বিএনপি’র সমাবেশ নয়

আগের সংবাদ

ব্যর্থতার মাঝেও আশা জাগিয়েছে

পরের সংবাদ

শীতের পিঠা বদলে দিয়েছে নারীর জীবন

সারথী ভৌমিক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ , ১২:২৫ অপরাহ্ণ

গোপীবাগ রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় পাঁচ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন স্বামী পরিত্যক্তা ইয়াসমিন আক্তার। দুই সন্তানকে নিয়ে মানিকনগর এলাকায় থাকেন ইয়াসমিন। জানালেন, সকালে দুই বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। বিকেল থেকে শুরু হয় তার পিঠা বিক্রি। বড় ছেলে তাকে কাজে সাহায্য করে। বছরের অন্য সময় চিতই পিঠা বিক্রি করলেও শীতে ভাপা ও তেলের পিঠাও বিক্রি করেন। সন্ধ্যার দিকে ক্রেতার সংখ্যা বেশি থাকে। সবাই আগে পেতে চায়। তাই অনেক সময় ঝামেলায় পড়তে হয়।

পল্টন এলাকায় ১৫ বছর ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে পিঠা বিক্রি করেন সোলাইমান ও খাদিজা বেগম। খাদিজা জানান, বছরের অন্য সময় সোলাইমান তরকারি বিক্রি করেন। পাশের ছোট্ট জায়গাটায় রুটি-সবজি ও বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করেন খাদিজা। শীতে পিঠা বিক্রি হয় খুব। খাদিজা বলেন, ‘একজনে পিঠা বানায়ে কুলায় উঠতে পারি না। তবে আমার স্বামীও আমারে সাহায্য করে। প্রতিদিন দেড়-দুই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়।’

মালিবাগ বাজারের সামনে প্রায় দশ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন আমেনা বেগম। আমেনা জানান, সারা বছরই তিনি বিভিন্ন পিঠা বিক্রি করেন। তবে শীত আসলে এ ব্যবসা জমজমাট থাকে। লাভও হয় অনেক।

ইয়াসমিন, খাদিজা ও আমেনার মতো অসংখ্য নারী পিঠা বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। সংসারের হাল ধরেছেন। শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের জীবনও বদলে দিয়েছে এই শীতের পিঠা। খোলা আকাশের নিচে কিংবা ভ্যানে তিন চারটি মাটির চুলায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীনভাবে চলে পিঠা তৈরি। আগে পিঠা তৈরির কারিগর হিসেবে পুরুষদের দেখা গেলেও এখন নারীর সংখ্যাই বেশি। পিঠা বিক্রির আয় থেকেই চলছে বহু সংসার। শীতের পিঠা বিক্রির ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরো ভালোভাবে জানতে পারছে।

বিকেল থেকেই ভাপা, চিতই, তেলের পিঠা, পাটিসাপ্টাসহ নানান পিঠার সম্ভার সাজিয়ে বসেন তারা। তবে শীতে ভাপা ও চিতই পিঠার কদরই বেশি। গুড় ও কোড়া নারকেল দিয়ে ভাপা পিঠা। আর চিতই পিঠার সঙ্গে ধনিয়া পাতা, মরিচ, সরষে, শুঁটকি বাটা দিয়েও পিঠা খায়। এসব পিঠার এক একটির দাম নেয়া হয় ৫ থেকে ১০ টাকা। এ ব্যবসায় তেমন বেশি পুঁজি লাগে না। জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি বা খড়ি, কিছু গুড়, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়েই ব্যবসা শুরু করা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অলি-গলি, রাস্তার মোড় সব খানেই আছে পিঠার দোকান। অনেক এলাকায় সকাল থেকেই চলে পিঠা বিক্রি। ফুটপাতের দোকান ঘিরে ক্রেতারা বসে কিংবা দাঁড়িয়ে থাকেন। নারী বিক্রেতারা গরম গরম পিঠা তুলে দিচ্ছেন ক্রেতার প্লেটে। কেউ কেউ আবার প্যাকেটে ভরে গরম পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

শুধু পিঠা বিক্রিই নয় ঘটা করে পিঠা উৎসবেরও আয়োজন হয় রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আসছে গত কয়েক বছর যাবৎ। সেখানে বিভিন্ন স্টলে নারীরা পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন।

এসআর