কৃষকের স্বার্থে ৪ মাস পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ

আগের সংবাদ

‘৩০ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করবো’

পরের সংবাদ

হোটেল-মোটেল অগ্রিম বুকিং শেষ

থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে পর্যটকের সমাগম কক্সবাজারে

সৈয়দুল কাদের, কক্সবাজার থেকে 

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯ , ১২:৪১ অপরাহ্ণ

থার্টি ফার্স্ট নাইট দুদিন পরই। ইতোমধ্যে পর্যটকে সয়লাব হয়ে গেছে কক্সবাজার। বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের প্রাক্কালই থার্টি ফার্স্ট নাইট। এ নিয়ে দেশের পর্যটন রাজধানী বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কক্সবাজারেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এরই মধ্যে ছুটে এসেছেন বিপুলসংখ্যক পর্যটক। রাতের মধ্যে পর্যটকে কানায় কানায় ভরে উঠেছে সৌন্দর্যের রানী কক্সবাজার। কক্সবাজারের পর্যটন সংশ্লিষ্টরাও নিয়েছেন ব্যাপক প্রস্তুতি। এছাড়া কক্সবাজারে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও থামছে না পর্যটকদের উচ্ছ্বাস

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে ইতোমধ্যে কক্সবাজারে বিপুল পর্যটকের সমাগম হয়েছে। বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের এই উচ্ছ্বাসে সপ্তাহজুড়ে কক্সবাজারে পর্যটক আগমন অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে ডিসেম্বরের শেষ ১৫ দিনে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে কক্সবাজারে। পর্যটক বরণে হোটেল-মোটেলসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সব বড় হোটেলে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। একইভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
ঢাকার উত্তরখান থেকে আগত পর্যটক কমরুদ্দিন জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা বাড়লেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা পরিবার নিয়ে ৮ দিনের জন্য কক্সবাজার এসেছি। সময় খুব ভালোই যাচ্ছে। লোক যত বাড়ছে ততই আনন্দ বেশি উপভোগ করছি। সন্ধ্যায় সৈকতে গেলে মনে হয় অন্য একটি জগতে চলে গেছি।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থেকে আগত পর্যটক বাসু বড়–য়া বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপভোগ করতে আমরা ২৫ জন কক্সবাজার এসেছি। দুই সপ্তাহ আগেই হোটেল বুকিং দিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও খুব ভালো, তাই সময় ভালোই যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন গাড়ি স্টেশন ও লঞ্চঘাটে পরিবহন সংকট রয়েছে। কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি ওমর সুলতান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক কক্সবাজারে অবস্থান করছে। ৩০ ডিসেম্বর পর্যটক আরো বাড়বে। পর্যটকরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরা সজাগ রয়েছি।

তথ্যমতে, ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে কক্সবাজারে পর্যটকের আগমন ব্যাপক হারে বেড়েছে। এসব পর্যটক কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে মনের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পর্যটকদের বড় আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে কক্সবাজারের বিস্তৃর্ণ সমুদ্রসৈকত, দীর্ঘ মেরিনড্রাইভ সড়ক, ইনানি, হিমছড়ি, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক, মিয়ানমার সংলগ্ন নাফনদী হয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও সম্প্রতি বিনোদনে যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার শহরে ফিসওয়ার্ল্ড একুরিয়াম। এছাড়া এখন সৈকত জোনে চলছে শিল্প ও বাণিজ্যমেলা।

সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের কলাতলী থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে মানুষ আর মানুষ। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার ভিড়ে সৈকতে হাঁটাও যেন দুষ্কর। বেড়াতে আসা পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ সৈকতে হাঁটছেন, কেউবা চেয়ারে বসে গল্পের ফাঁকে সাগরের লবণাক্ত হাওয়া উপভোগ করছেন। আবার কেউ কেউ শীতের মাঝেও সাগরে গোসলে মত্ত।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, পর্যটক হয়রানি বন্ধে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় মূল্য তালিকা টানানোর নির্দেশনা দেয়া আছে। আগের সময়ের চেয়েও পর্যটক সেবার প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে প্রশাসন। সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যটন এলাকায় টহলে রয়েছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পর্যটক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ অন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সৈকতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলে পর্যটকদের রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা বিধান করছে পুলিশ।

এসআর