দুই মেয়েসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক নিহত

আগের সংবাদ

গান কি ছুঁয়েছে মন!

পরের সংবাদ

ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে বছর শেষ

শাকিল মাহমুদ

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ২৮, ২০১৯ , ১:০৩ অপরাহ্ণ

দেখতে দেখতেই চলে যেতে বসেছে একটি বছর। সারা বছরের হিসাব-নিকাশ এরই মধ্যে শেষ করেছেন অনেকেই। কতটুকু সফলতা, কতটুকু ব্যর্থতা সবকিছুর ‍চূড়ান্ত ফল বের করে সাজানো হবে নতুন বছরের কর্ম-পরিকল্পনা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি বিগত বছরের সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব করে কতটুকু এগিয়েছে বা পিছিয়েছে চলতি বছরে, তার একটা হিসাব করা যাক…

গত ২০১৮ সালে সারা দেশে যৌথ প্রযোজনা, আমদানি করা সিনেমা এবং নিজেদের একক সিনেমা মিলিয়ে সর্বমোট ৫৬টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল! একটি দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রাখতে যেখানে প্রতি বছর একশ সিনেমা মুক্তি দেয়া প্রয়োজন সেখানে ৫৬টি সিনেমা খুবই নগণ্য। তবুও বিগত বছরের হিসাব কষে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হওয়ার পরেও চলতি বছরে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমার সংখ্যা খুবই করুণ। চলতি বছরে আমদানি ও যৌথ প্রযোজনাসহ ৫৮টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে! যার মধ্যে ব্যবসায়ের দিক থেকে লাভবান হয়েছে মাত্র একটি সিনেমা। গত বছরের চেয়ে মাত্র ২টি সিনেমা বেশি নির্মিত হয়েছে চলতি বছরে। যা কোনো আশার গান গেয়ে শোনায় না বরং অশনি সংকেত দিতে থাকে প্রবলভাবে। ২০১৯-এর জানুয়ারি মাস ছিল সিনেমার জন্য একেবারেই খরার। তবে খরার আবহ দূর করতে কলকাতার সিনেমা আমদানি করা হয়। কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত ও জয়া আহসান অভিনীত ‘বিসর্জন’ সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হয় প্রেক্ষাগৃহে। কিন্তু দর্শক নেন মুখ ফিরিয়ে, মুখ থুবড়ে পড়ে সিনেমাটি। তবে নিজস্ব সিনেমার খরার খানিকটা কাটাতে প্রেক্ষাগৃহে আসে ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ও ‘দাগ হৃদয়ে’। কিন্তু আলোচনায় তো দূর কোনো প্রকার বার্তাই পাওয়া যায় নি একটিরও। এদিকে তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘ফাগুন হাওয়ায়’ নিয়ে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে প্রত্যাশা ছিল অনেক। অথচ সে প্রত্যাশায় জল ঢেলে আঙুলে গোনা দর্শক নিয়ে ব্যর্থতার মিছিলে শামিল হয় সিনেমাটি। অন্যদিকে রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন ও জাজ মাল্টি মিডিয়া প্রযোজিত ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় নির্মাণ করে ‘প্রেম আমার ২’। তীব্র খরায় যৌথ প্রযোজনার এই সিনেমা কোনো মাত্রাই যোগ করতে পারেনি। অন্য সব ব্যর্থ সিনেমার মতো এটিও যুক্ত হয় তাতে। শুধু এই সিনেমাটিই নয়, যৌথ প্রযোজনায় এ বছর নির্মিত সব কয়টি সিনেমাই ব্যর্থতার সাগরে তলিয়ে যায়। ২০১৯ সালে আলোচিত সিনেমাগুলোর তালিকায় যে কয়টি সিনেমা ছিল তার অন্যতম একটি ‘আলফা’। নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘আলফা’ মুক্তি পায় এপ্রিলের ২৬ তারিখ। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত সিনেমাটির জন্য ভারত-বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার লাভ করেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ। তবে আলোচিত-প্রশংসিত এই সিনেমাটিও ব্যর্থতার তকমা গায়ে মাখেন। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত আরেকটি সিনেমা, বাংলাদেশের প্রথম অমনিবাস ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ প্রেক্ষাগৃহে আসে। সিনেমাটি পরিচালনা করে ১১ তরুণ নির্মাতা। যার ফলে আলোচনার তুঙ্গে ছিল এই সিনেমা। তবে আলোচনায় থাকলেও এই সিনেমা নেই ব্যবসায়িক সফলতার তালিকায়। প্রশংসিত হয়েছে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত মোস্তফা মনোয়ার ও তাসনুভা তামান্না অভিনীত ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’ সিনেমাটি। কিন্তু ব্যবসায়িক সফলতা পায়নি এই সিনেমাটিও।

এদিকে শাকিব-ববি অভিনীত ‘নোলক’ সিনেমাটি অসফলতার মুখ দেখলেও শাকিব খান অভিনীত আরেক আলোচিত সিনেমা ‘পাসওয়ার্ড’ এ বছরের একমাত্র ব্যবসায়ে সফল সিনেমার মুকুট পরিধান করে। শাকিব খান প্রযোজিত সিনেমাটির পরিচালনা করেন মালেক আফসারি। এ বছর আলোচনায় থাকা স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত, বাংলাদেশের প্রথম সার্ফিং সিনেমা ‘ন ডরাই’ও তেমন সুবিধে করতে পারেনি। সিনেমাটি মুক্তি দেয়ার আগ থেকে শুরু করে মুক্তির পর পর্যন্ত নানা বাধার সম্মুখীন হয়। তবে সে বাধা কাটিয়ে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে চললেও সফলতার আলো পায়নি। চলতি বছর তাহসান-শ্রাবন্তী অভিনীত যদি একদিন, গোলাম সোহরাব দোদুল পরিচালিত সাপলুডু, অনন্য মামুন নির্মিত আবার বসন্ত সিনেমাগুলো মশাল হাতে প্রেক্ষাগৃহে আসলেও আশার আলো হয়ে জ্বলে থাকতে পারেনি একটিও। ২০১৯ সালের শেষ দিকে মুক্তি পেয়েছে সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর অভিনীত মিউজিক্যাল সিনেমা ‘গহীনের গান’ ও মাসুদ পথিক পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা ‘মায়া : দ্য লস্ট মাদার’। কিন্তু এই সিনেমা দুটি ব্যর্থতার গ্লানি কতটুকু কমাতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রতি বারের চেয়ে চলতি বছরে মান সম্পন্ন সিনেমা নির্মিত হয়েছে বেশি। তা সত্তে¡ও দর্শক টানতে ও ব্যবসায়িক সফলতা কী কারণে পাচ্ছে না সিনেমাগুলো? এমন এক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি। এদিকে সিনেমার করুণ দশা থেকে বের হওয়ার জন্য যেখানে রীতিমতো যুদ্ধ চলছে প্রতি বছর। সেখানে দুর্বল সিনেমাগুলো দুর্বল সৈন্যদের মতোই বিপদে ফেলেছে ইন্ডাস্ট্রিকে। সিনেমার এ ভয়াবহতার সময়েও ১৫টি মানহীন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরে। তবে সিনেমার খরার মৌসুমেও পরিচালকরা নির্মাণ করছে গল্প নির্ভর সিনেমা। যা আশা জাগানিয়া হলেও এত টাকা দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে যখন লোকসানের দিকটা ভারী হয় তখন দুশ্চিন্তায় আপনা থেকেই মাথায় হাজার প্রশ্ন জমা হতে থেকে। আর যেখানে বছরে নামমাত্র সংখ্যার সিনেমা নির্মিত হয় এবং একটি/দুটি সিনেমা ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়, সেখানে সিনেমা ইন্ডাস্টির ভবিষ্যৎ চিন্তায় রাতের ঘুম হারাম হওয়া অবস্থা। তবে সিনেমার এই ব্যর্থ কালো অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে সফলতার মুখ দেখুক ইন্ডাস্ট্রি, এই সংকল্পে শুরু হোক নতুন বছরের পথ চলা।

ডিসি