ডাবুয়াবাসীর দুঃখ লাঠিছড়া খাল, পুনঃখনন দাবি

আগের সংবাদ

‘মায়া দ্য লস্ট মাদার’র গান ইউটিউবে

পরের সংবাদ

দূষণমুক্ত নগরী গড়তে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা মেয়রের

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ , ৬:৪৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০১৯ , ৭:৩৬ অপরাহ্ণ

দূষণ থেকে নগরীকে পরিত্রাণ দিতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়ী থাকবো বলে স্মরণ করে দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, যারা হবে আগামীর বাংলাদেশ তাদের জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ আমরা রেখে যেতে চাই। তাদের মরতে দিতে চাই না। বর্তমানে ঢাকায় ইনহেলার বিক্রি বেড়েছে। আমাদের বাবা-মায়েরা ইনহেলার ব্যবহার করছেন। যে ব্যবসায় পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়ে, সেই ব্যবসা আমরা করতে দেব না।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘অনিয়ন্ত্রিত দূষণে ঢাকা, নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মেয়র এসব কথা বলেন। বৈঠকের আয়োজন করে সেবাখাত বিটের রিপোর্টারদের সংগঠন ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা)।

বৈঠকের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ডুরার সভাপতি মশিউর রহমান খান। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নগরবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, জনস্বার্থ বিশেষজ্ঞ ড. লেলিন চৌধুরী।

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিরুদ্ধে ২০ ডিসেম্বরের পর থেকে অভিযান শুরু হবে। ভালোবাসা ও বক্তব্য দিয়ে কাজ আদায়ের দিন শেষ, এখন জরিমানা, জরিমানা আর জরিমানার দিন। ঢাকার চারপাশে পাশে ৫৮ ভাগ ইটভাটা আছে জরিপের এমন তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই বাতাস (ধোঁয়া) রাজধানীর ভেতরে ঢুকছে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় এরইমধ্যে নারায়ণগঞ্জের ৪ থেকে ৫ টা ইটভাটা গুড়িয়ে দিয়েছে। এগুলো যথষ্ট নয়।

রাজউক, ওয়াসা, পিডিবি ও সিটি করপোরেশনের ঠিকাদারদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা রাস্তার উন্নয়ন কাজ করছেন, শর্ত মেনে করুন। নইলে শাস্তি দিতে বাধ্য হবো। প্লাস্টিক ও চিপস ব্যবসায়ীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে মেয়র বলেন, ব্যবসার ধরণ পাল্টান। পলিথিন ও বোতলের জন্য নগরীতে জলাবদ্ধতা হবে, এটি হতে দেয়া যাবে না। রাস্তায় কোনো পলিথিন, চিপস বা বোতল পাওয়া গেলে সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করব।

‘ঢাকা এখন মেগাসিটি নয়, গেগাসিটি’ উল্লেখ করে আতিকুল বলেন, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৯ হাজার লোকের বাস। এখানে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, শব্দদূষণ, দৃষ্টিদূষণ সব দূষণ হয়েছে। মেট্রোরেল, সিটি করপোরেশন, বিদ্যুৎতের উন্নয়ন কাজ হচ্ছে। এই চাপের জন্য ঢাকা এখন গেগাসিটি।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ঢাকায় ৭০ ভাগ মানুষ বিষন্নতায় ভোগেন। বিষণ্ণ নগরী উন্নয়নের রোল মডেল হতে পারে না। ঢাকা পরিকল্পনার মধ্যে অনেক কিছু আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। মেয়েরকে নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে এই দূষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

ইকবাল হাবিব বলেন, হাসপাতালসহ নগরবাসী যখন শব্দ দূষণে অতিষ্ঠ, তখন শুধু নীতি নির্ধাকরদের দূষণের বাইরে রাখার প্রয়াস প্রমাণ করে কার হাতে আমরা সমর্পিত হয়েছি। জনবান্ধনহীন কাজ বন্ধের দায়িত্ব মেয়রকে নিতে হবে। বায়ু দূষণ ১২/১৪ গুন হারে অসুস্থ করছে সন্তানদের। এই নগরীতে কে কী ব্যবসা করবে, তা কতটুকু পরিবেশ বান্ধব এটা নিশ্চিত করুন।

আবু নাসের খান বলেন, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, ডেসা, পরিবেশ অধিদপ্তর কেইউ তার সঠিক দায়িত্ব পালন করে না। ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকা বিশ্বের সপ্তম জনবহুল, ঘনত্ব দিয়ে প্রথম। নগরীর উন্নয়ন সংখ্যা তাত্ত্বিক হলেও, গুনগত নয়। লেলিন চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা মরণ ফাঁদ তৈরি করেছি। হৃদরোগের অন্যতম কারণ দূষণ। প্রতিবছর ২ লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এনএম

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়