ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন বিজয়ের মাসেই

আগের সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

পরের সংবাদ

মেডিকেল বর্জ্যে বাড়ছে স্বাস্থ্য ও মৃত্যুঝুঁকি

সেবিকা দেবনাথ :

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ , ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো নিয়ম মেনে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ করলেও শহরের প্রধান দুটি সরকারি হাসপাতাল তা মানছে না। ফলে খোলা জায়গায়ই পড়ে থাকছে এসব বর্জ্য। এ ছাড়া রাজশাহীতেও নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের মেডিকেল বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়। খোলা জায়গায় এসব বর্জ্য ছড়িয়ে থাকায় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
শুধু নারায়ণগঞ্জ কিংবা রাজশাহীই নয়, মেডিকেল বর্জ্য বড় শহরগুলোর জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিদরা। মেডিকেল বর্জ্য নিয়ে চিন্তায় আছেন খোদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামও। দায়িত্ব নেয়ার পর সব সিটি ও জেলায় আলাদা করে প্ল্যান্ট তৈরিরও চিন্তা করছেন তিনি।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকে জটিল বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে। এই ব্যবস্থাপনাকে সুচারু করতে স্থানীয় সরকার এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রণীত হয় মেডিকেল বর্জ্য নীতিমালা। ২০০৮ সালে আইনের মাধ্যমেই সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাঠামো তৈরি করা হয়। অথচ বেশির ভাগ হাসপাতালেরই নেই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এদিকে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে মেডিকেল বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনে একটি রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপরও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে রাজধানীর প্রায় দেড় হাজার হাসপাতাল ও ক্লিনিক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা প্লান্ট থাকা জরুরি। কিন্তু রাজশাহী ও ঢাকা ছাড়া অন্য কোনো সিটিতে এই প্লান্ট নেই। আর নারায়ণগঞ্জ সিটির মেডিকেল বর্জ্য পোড়ানো হয় ঢাকায়। দেশের বিভিন্ন সিটিতে কী পরিমাণ মেডিকেল বর্জ্য হয় এর কোনো সঠিক তথ্য নেই। তবে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন মেডিকেল বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর, গাজীপুর, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ সিটিতে দৈনিক গড়ে তিন টনের বেশি মেডিকেল বর্জ্য হয়।
সিটি করপোরেশন দুই ভাগ হওয়ার পর মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা কোনো কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। নতুন ডাম্পিং স্টেশন না হওয়ায় মাতুয়াইলে পুরনো ডাম্পিং স্টেশনে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়–য়া জানান, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে একটি সংস্থা বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে তা তেমনভাবে কার্যকর হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট চালুর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে প্রিজম বাংলাদেশ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়, যা বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই। ফলে তারা যত্রতত্র এসব বর্জ্য ফেলছে এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে হুমকিতে ফেলছে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার সাবেক উপদেষ্টা ও পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. এম মোজাহেরুল হক ভোরের কাগজকে বলেন, দেশে স্বাস্থ্য খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আসেনি কাক্সিক্ষত পরিবর্তন। ঢাকার আনাচেকানাচে গড়ে উঠছে বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে, মেডিকেল বর্জ্য জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও মৃত্যু ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্রতিটি মহানগরে এবং জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোকে একটি স্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসার পরামর্শ দেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রতিটি উপজেলায়ই হেল্থ কমপ্লেক্স ও হাসপাতালের বর্জ্যগুলো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বিনষ্ট করার জন্য প্রাইভেট-পাবলিকের সম্বন্বয়ে একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা দরকার। মেডিকেল বর্জ্য একদিকে যেমন বিপজ্জনক রোগের জীবাণু ছড়ায়, অন্যদিকে এসব বর্জ্য ধীরে ধীরে মাটি ও পানির সঙ্গে মিশে জৈবখাদ্য চক্রের মাধ্যমে মানুষের দেহে ফিরে আসে, যা খুবই ভয়াবহ।

এসআর
বিষয়: