নতুন ছবির খবরে অবাক শাবনূর

আগের সংবাদ

যশোরে আলোচিত আনসার সদস্য হত্যার রহস্য উদঘাটন

পরের সংবাদ

ভাজা-পোড়া খাবারে হৃদরোগ ও মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ , ৫:০৯ অপরাহ্ণ

অসংক্রামক রোগে দেশে যে পরিমাণ মানুষের মৃত্যু হয় তার ৩০ শতাংশ হয়ে থাকে হৃদরোগে। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। খাদ্যদ্রব্যের মাধ্যমে উচ্চমাত্রায় ট্রান্স ফ্যাট (ট্রান্স ফ্যাটি এসিড) নামক একধরনের চর্বি জাতীয় পদার্থ গ্রহণ হৃদরোগের ঝুঁকির একটি বড় কারণ। ২০২৩ সালের মধ্যে ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিকর এই পদার্থ নিয়ন্ত্রণে পলিসি গ্রহণ ও তা কার্যকর করার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাট এবং হৃদরোগ ঝুঁকি সংক্রান্ত আলোচনা সভা ও অ্যাডভোকেসি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এই তাগিদ দেন। সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সম্মিলিতভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব:) আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত। বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ.এইচ.এম. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশনের মহা-পরিচালক মো. মুয়াজ্জেম হোসাইন, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান, ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ট্রান্সফ্যাটের উৎস মূলত দুটি। প্রথমটি প্রাকৃতিক; গবাদিপশুর অন্ত্রে এটি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়। যার ফলে গরু-ছাগলের মাংস, দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার মাখন, ঘিতে স্বল্পমাত্রায় এই ফ্যাট পাওয়া যায়। দ্বিতীয়টি কৃত্রিম; ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের সঙ্গে হাইড্রোজেন যুক্ত করলে তেল জমে যায় এবং ট্রান্সফ্যাট উৎপন্ন হয়। এই আংশিক হাইড্রোজেনেটেড তেলই শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের প্র্রধান উৎস যা ডালডা বা বনস্পতি ঘি নামে পরিচিত। এতে ২৫-৪৫ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট থাকে। সিঙ্গাড়া, সমুচা, পুরি, বিস্কুট, চানাচুর, চিপসের মতো বেকারি পণ্য তৈরিতে হাইড্রোজেনেটেড তেল ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া অনেক স্ট্রিট ফুড যেগুলো কড়া করে ভাজা হয় সেগুলোতে এবং রান্নার কাজে একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্সফ্যাট উৎপাদিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ট্রান্সফ্যাট গ্রহণের হার ২ শতাংশ বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে ২৩ শতাংশ। আর হৃদরোগজনিত মৃত্যুর হার বাড়ে ৩৪ শতাংশ।

ন/