১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

আগের সংবাদ

আড়াই লক্ষ টাকার স্বর্ণের বালা ফিরিয়ে দিল তিন শিক্ষার্থী

পরের সংবাদ

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯ , ১২:০৫ অপরাহ্ণ

গুগলের এআই কোয়ান্টাম দল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগিয়ে গেছে। গুগলের সিকামোর প্রসেসর সাড়ে তিন মিনিট সময়ে এমন এক হিসাব করতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রচলিত সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পিউটারের করতে লাগে ১০ হাজার বছর। যদিও এটা নিয়ে খানিক তর্কবির্তক রয়েছে, তবে বলা হচ্ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং বদলে দিচ্ছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি দুনিয়া।

কম্পিউটিংয়ের কারবার : কম্পিউটার মানেই কিন্তু সিলিকন প্রসেসর, র‌্যাম এবং অন্য হার্ডওয়্যার নয়। তথ্যের ওপর নানা অপারেশন চালিয়ে নতুন তথ্য তৈরি করাকেই বলা হয় ‘কম্পিউটিং’। যেমন একাধিক তথ্য একত্র করা বা তথ্যের মধ্যে মিল বা তফাত খুঁজে বের করা এবং অপারেশনের ফলাফল ব্যবহারকারীকে জানাতে বা আউটপুট করতে পারে, সেটাই হচ্ছে কম্পিউটার। এই মডেলটি প্রথম তৈরি করেন অয়ালান টুরিং, যার নামে এ ধরনের মেশিনকে ‘টুরিং মেশিন’ও বলা হয়ে থাকে। বাস্তবিক কম্পিউটার অবশ্য পুরোপুরি টুরিং মেশিন নয়। কারণ টুরিং মেশিনের কোনো তথ্য ইনপুট ও অপারেশনগত সীমাবদ্ধতা নেই; কিন্তু বাস্তব যন্ত্রে তা রয়েছে। বর্তমান সময়ে তথ্য বাইনারি সংখ্যায় পরিণত করে তা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে থাকি। কম্পিউটারে থাকা র‌্যামের ট্রানজিস্টরগুলো অন বা অফ, দুটি অবস্থানে থাকতে পারে। অন ট্রানজিস্টরগুলোকে ধরা হয় বাইনারি ১, আর অফগুলোকে বাইনারি ০। র‌্যামের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে প্রসেসর, যার মধ্যে একই সঙ্গে প্রবেশ করানো হয় তথ্য এবং তথ্যগুলো নিয়ে কী করা হবে সে অপারেশন অ্যালগরিদম। প্রসেসরের আউটপুটে প্রসেস করা তথ্য বেরিয়ে এসে আবারো র‌্যামে জমা হয়।

বাইনারি সিলিকন কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা : বর্তমান কম্পিউটারগুলোর গতি হার্জে কিংবা মিপসেও মাপা হয়। একটি প্রসেসর প্রতি সেকেন্ডে কয়টি অপারেশন করতে পারে, তারই একক এটি। অর্থাৎ কোনো জটিল প্রসেস যদি করতে হয়, তাহলে প্রোগ্রামারদের সেটি ভেঙে ছোট ছোট ধাপ বা অপারেশনে পরিণত করে তারপর সেগুলো একত্র করে একটি চেইন বা অ্যালগরিদমে পরিণত করতে হয়। এ ছাড়া স্টোরেজ থেকে তথ্য র‌্যামে রেখে তারপর সেটি অল্প অল্প করে প্রসেসরের ক্যাশে নিয়ে তার ওপর অপারেশন করে সেটি আবারও র‌্যামে নিয়ে আসা লাগে। পুরো সিস্টেম সেকেন্ডে যত অপারেশন করতে পারে, সেটাই তার গতি। কোয়ান্টাম কম্পিউটার এমন নয়। কিছু বিশেষ বস্তুর কোয়ান্টাম অবস্থানের মাধ্যমে তথ্য সেখানে সংরক্ষণ করা হয়, সেটি বাইনারি হতে হবে তারও কথা নেই। কোয়ান্টাম অবস্থানের সুপারপজিশনের মাধ্যমে তথ্যের একক মাপা হয়, আবার সুপারপজিশন বদলের মাধ্যমে করা হয় তার প্রসেস। আর একেকটি তথ্যের ইউনিটকে বলা হয় ‘কিউবিট’। এই কিউবিট এক ধাক্কায় একাধিক বাইটের সমান তথ্য রাখতে পারে, করতে পারে একাধিক অপারেশন। এখানে প্রয়োজন নেই তথ্য একখানে রেখে তা আরেকখানে নিয়ে গিয়ে প্রসেস করার। কিউবিটগুলো একই সঙ্গে র‌্যাম, প্রসেসর ও আউটপুট।
আর একেকটি কিউবিট একাধিক সিলিকন কম্পিউটারের সমান কাজ করতে পারে এক অপারেশনেই। প্রযুক্তির কম্পিউটার শুরু থেকেই সিলিকন কম্পিউটারের চেয়ে শত শত গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম।

কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সীমাবদ্ধতা : কোয়ান্টাম দুনিয়া আমাদের চেনা জানা দুনিয়ার মতো কাজ করে না। সেটা কী রকম, তার আলোচনা এ পরিসরে সম্ভব নয়। তাই শুধু মনে রাখতে হবে, আমরা সরাসরি কিউবিটগুলো তৈরি করতে এবং সরাসরি রিড-রাইটও করতে পারি না। এমনকি তথ্য ও অ্যালগরিদম প্রবেশ এবং আউটপুটও সরাসরি দেখা যায় না। কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি ও ব্যবহার এখনো কষ্টসাধ্য। আছে কোয়ান্টাম ফিজিকসের সীমাবদ্ধতা। ফলে সব ধরনের প্রসেসিং কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে করাও সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার শুধু বিশেষায়িত কিছু অঙ্কের সমস্যা সমাধান ছাড়া আর কোনো কাজেই সিলিকন কম্পিউটারকে টেক্কা দিতে পারবে না। হ ডটনেট ডেস্ক