চট্টগ্রামকে ১৫৮ রানের টার্গেট দিল রংপুর

আগের সংবাদ

প্রথম শহীদ পরিবারকে জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

পরের সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা কম কেন?

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ৩:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ৪:২৬ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমার সংখ্যা গুনলে ফলাফল দাঁড়াবে নেহাতই হাতে গোনা কয়েকটা। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে ৫০টির মতো সিনেমা নির্মিত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যেখানে রোজ একেকটি মহাকাব্য রচিত হওয়ার কথা সেখানে মাত্র কয়েকটি সিনেমা নির্মিত হয়েছে! এর কারণ কি? কেন এত অল্প সিনেমা নির্মিত হয়েছে? কেন এত বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে যথেষ্ট সিনেমা নির্মিত হয়নি? জানালেন কয়েকজন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমার নির্মাতা। কথা শুনেছেন শাকিল মাহমুদ|

যুদ্ধের সময়কার প্রতিটা পরিবারের কাহিনী নিয়েই একেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভব
তানভীর মোকাম্মেল

১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল এক মহাকাব্যিক ব্যাপার। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা পরিবারের অভিজ্ঞতার কাহিনী নিয়েই একেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব। সে তুলনায় সংখ্যায় ও মানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ছবি বেশ কম।

আমাদের প্রজন্মের তারেক মাসুদ, মোর্শেদুল ইসলাম বা আমি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যত ছবি তৈরি করেছি বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানসিকভাবে যতটা উদ্বুদ্ধ ছিলাম, বর্তমানের তরুণরা ততটা নয়। তার সহজ কারণ হচ্ছে তারা তো মুক্তিযুদ্ধটা দেখেনি। তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও আবেগটা সে কারণেই তেমন নেই। আরেক কারণ হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে দেশের তরুণদের মধ্যে এক ধরনের বিরাজনীতিকরণ ঘটছে। আমাদের মতো তারা রাজনীতিসচেতন নয়। এসব কারণেই তরুণরা মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা কম তৈরি করছে।

সিনেমা ব্যয়বহুল মাধ্যম। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণে অনেক আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে। এখন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এসব জিনিস সংগ্রহ করা কঠিন। সে কারণেই সবাই অনুদানের জন্য অপেক্ষা করে। তবে সরকারি অনুদান ছাড়াও কিছু ছবি তৈরির উদ্যোগের কথা আমি জানি। বিশেষ করে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নির্মাণের ব্যয় প্রচুর
তৌকির আহমেদ

এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি। বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে এখনো সিনেমা হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও হবে। তবে খুব যে বেশি বা ভালো সিনেমা নির্মিত হয়েছে তা বলব না। এ নিয়ে আরো কাজ করার আছে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের বড় প্রতিবন্ধকতা হলো, এ ধরনের সিনেমা নির্মাণের ব্যয় প্রচুর। একটা সময়কে তুলে ধরতে হতে হয়। একটা সাধারণ সিনেমা নির্মাণ করতে যতটুকু খরচ হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণে সে খরচটা বেড়ে যায়। আমার জয়যাত্রা এবং ফাগুন হাওয়া নির্মাণ করতে গিয়ে আমি সেটা উপলব্ধি করেছি।

সরকারি অনুদানের জন্য আমি দুইবার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু অনুদান পাইনি। জয়যাত্রা এবং ফাগুন হাওয়া দুটো সিনেমাই ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত।
তরুণ প্রজন্ম কেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণ করছে না সেটা আমার জানা নেই। তবে আমি যতটুকু পেরেছি করেছি।

সিনেমা সিনেমাই। অনেক সিনেমা ভালো গল্পে নির্মিত হয়েও বাণিজ্যিকভাবে সফল হচ্ছে আবার কোনোটা সফল হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ বা সাধারণ সিনেমা নিয়ে বাণিজ্যিক-অবাণিজ্যিক কথাটির পক্ষপাতি না আমি।

সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমায় মনোযোগ দিতে হবে
ফাখরুল আরেফিন খান

স্বাধীনতার ৫০ বছরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে প্রায় ৫০টি। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ যাবৎ নির্মিত সিনেমা যথেষ্ট নয়। আমি মনে করি ৫০ বছরে প্রায় ২০০/৩০০ সিনেমা নির্মাণ হওয়ার দরকার ছিল। তবে আমরা একটা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির অধীনে। যার ফলস্বরূপ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা এত অল্পসংখ্যক নির্মিত হয়েছে।

সরকারী অনুদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত প্রযোজকদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা নির্মাণে দিকে মনোযোগ দিতে হবে। বিভিন্ন দেশের মুক্তিযুদ্ধ এমনকি গৃহযুদ্ধ নিয়েও বাণিজ্যিক সিনেমা নির্মিত হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই ধরনের সিনেমা নির্মিত হওয়া উচিত। অবশ্য ইতোমধ্যে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়েছে,তবে সেভাবে প্রকাশ্যে আসছে না বা আস্তে পারছে না।

সিনেমা নির্মিত হয় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে। সে জায়গায় তরুণ প্রজন্মের বর্তমান অভিজ্ঞতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতার তেমন মিল নেই। সেখান থেকে তরুণ প্রজন্ম সিনেমা নির্মাণ করতে এসে প্রাসঙ্গিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরলে ধরবে, না ধরতে চাইলে ধরবে না। আসলে জোর করে তো কিছু হয় না।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়