রুহিয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন

আগের সংবাদ

চৌগাছায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

পরের সংবাদ

বাবাকে খুঁজতে খুঁজতেই আমার বড় হওয়া

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ২:২২ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ২:২৭ অপরাহ্ণ

সুরকার আলতাফ মাহমুদ। ক্রাক প্লাটুনের একজন গেরিলা যোদ্ধা। তাছাড়া ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির সুরকার তিনি। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট পাক-হানাদার বাহিনী আলতাফ মাহমুদকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। মেলার সঙ্গে আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদের কথা হয়। নানা বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলে লেখা সাজিয়েছেন শাকিল মাহমুদ

বাবাকে ঘিরে আপনার কোনো স্মৃতি রয়েছে?
সে রকম কোনো স্মৃতি নেই। বাবাকে যখন নিয়ে যাওয়া হয় তখন আমার বয়স মাত্র ৩ বছর। বাবাকে খুঁজতে খুঁজতেই আমার বড় হওয়া। কিন্তু আমার বাবা আলতাফ মাহমুদের থেকে সবচেয়ে বেশি জেনেছি সুরকার, ব্যক্তি আলতাফ মাহমুদকে। বাবাকে নিয়ে আমি যখন কাজ করি মনে হয় বাবা এখনো আমাদের সঙ্গেই আছেন। আমি এখনো মনে করি বাবা বেঁচে আছেন, একদিন ফিরে আসবেন। হ্যাঁ, বাস্তবিক জায়গা থেকে বাবা কখনো আসবে না, কিন্তু প্রতীক্ষাটা আমাদের বুকে গেঁথে আছে।

আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কী কী কাজ করছেন?
শহীদ আলতাফ মাহমুদের নামে একটি ওয়েবসাইট করে আলতাফ মাহমুদসহ সব শহীদ বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করার চেষ্টা করছি। তাছাড়া ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে একই বছরের ৩০ আগস্ট দেশের এমন গুণী ব্যক্তিদের শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক প্রদান করে সম্মান জানাই, যিনি মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছেন বা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ বা বাংলা ভাষা নিয়ে কাজ করেছেন। সম্পূর্ণ পারিবারিকভাবে এবং ক্রাক প্লাটুনের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ ফাউন্ডেশন গঠিত এবং পরিচালিত হয়ে আসছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে কোনো কাজ করা হচ্ছে?
বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে শুধু আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তেমন কাজ হয়নি। স্বাধীনতার পর একটা সময় পর্যন্ত আশা ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু হবে। কিন্তু ১৯৭৫-এর পর সে আশাটা মরে যায়। ফলে ব্যক্তিগতভাবেই আলতাফ মাহমুদ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ছোট করে কাজ শুরু করি।

আলতাফ মাহমুদকে তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে রাষ্ট্র কীভাবে কাজ করতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
আসলে এই কাজটা ব্যক্তিগতভাবে কতটুকু করা সম্ভব? আমরা যে ফাউন্ডেশন করেছি সেখানে অর্থের জন্য বড় করে কোনো কাজ করতে পারছি না। আমার চাওয়া রাষ্ট্র আলতাফ মাহমুদকেসহ সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সমৃদ্ধ আর্কাইভ তৈরি করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরুক। ইতিহাস তো প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে নিয়ে যায়। নতুন প্রজন্ম যদি না-ই জানে মুক্তিযোদ্ধাদের কথা তাহলে ইতিহাস কতটুকু থাকবে?

আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে কোনো ডকুমেন্টরি করা হয়েছে?
কিছু টিভি চ্যানেল ছোট পরিসরে কিছু ডকুমেন্টরি করেছে। অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও করেছে। কিন্তু ওইভাবে বড় পরিসরে তেমন কিছুই করা হয়নি।

শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউন্ডেশন থেকে বড় পরিসরে কিছু করার পরিকল্পনা আছে কী?
বাবার জন্ম ২৩ ডিসেম্বর। এই দিনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি সংগীত উৎসব করার ইচ্ছে আছে। তবে জানি না এটা আমি করে যেতে পারব কিনা!

আলতাফ মাহমুদের সুর করা গান আপনার সংগ্রহে আছে?
হ্যাঁ। আলতাফ মাহমুদের নামে যে ওয়েবসাইটটি আমাদের রয়েছে সেখানে তার সুর করা গানগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আলতাফ মাহমুদের স্মরণে ফাউন্ডেশন ছাড়া আর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কী গড়ে উঠেছে?
৫/৬টা জায়গায় আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতন করা হয়েছে। এটা ওই সব এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে করা হয়েছে। তবে লজ্জার কথা হলো, বরিশালে যে আলতাফ মাহমুদ সংগীত বিদ্যানিকেতন রয়েছে ভূমিদস্যুরা সেটি উচ্ছেদের জন্য সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলেছে! যেখানে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের জন্য আমরা প্রস্তুত, এত বছরেও আমরা শহীদদের জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি সেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু করা হচ্ছে তাও উচ্ছেদের জন্য পাঁয়তারা করা হচ্ছে! আমি এ বিষয়টি নিয়ে খুবই লজ্জিতবোধ করছি।

শহীদ পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা কী?
আগেই বলেছি ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে নিয়ে যায়। এখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ইতিহাসের সমৃদ্ধ আর্কাইভ তৈরি করা হলে নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। আর তারা যখন জানতে পারবে তখন তারাই ঠিক করে নেবে আসলে কি করা উচিত। তাদের কাছে প্রত্যাশা অনেক। তবে জোর করে তা চাপানো যায় না। মুক্তিযুদ্ধকে জানতে জানতে তরুণদের মাঝে আমার প্রত্যাশা প্রতিষ্ঠিত হবে, এটাই চাওয়া।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়