চৌগাছায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

আগের সংবাদ

গানই যখন প্রেরণার হাতিয়ার

পরের সংবাদ

কমছে মুক্তিযুদ্ধ পটভূমির নাটক নির্মাণ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ , ২:৩৮ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়েও সংস্কৃতি অঙ্গনের যাত্রা ছিল সুদূরপ্রসারী; যা আমাদের নাটক, সিনেমা ও চলচ্চিত্রে বারবার ফুটে উঠেছে। সে সময়ে শহীদুল্লাহ কায়সার ও জহির রায়হানের গল্প থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন তরুণ নাট্যকার বাংলাদেশে টেলিভিশনের জন্য কয়েকশ নাটক নির্মাণ করে আমাদের বাংলাদেশের নাট্যমোদী দর্শকদের প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশ উপস্থাপন করে গেছেন।

সেসব নাট্যকারদের মধ্যে জামিল চৌধুরী, কলিম শরাফি, মুস্তাফা মনোয়ার, মোহাম্মদ জাকারিয়া, গোলাম মুস্তাফা, আবদুল্লাহ আল মামুন, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, সেলিম আল দ্বীন, নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, শিমুল ইউসুফ, মামুনুর রশীদ, আলী যাকের, সারা যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, আতাউর রহমান, আবুল হায়াত, ম. হামিদ, তারিক আনাম খান, এনামুল হক, লাকি ইনাম, হুমায়ুন ফরীদি, রাইসুল ইসলাম আসাদ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, আফজাল হোসেন, সুবর্ণা মুস্তাফা, লিয়াকত আলী লাকি, মান্নান হীরাসহ অনেকের নামই উল্লেখ করার মতো। আর হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত ধারাবাহিক নাটকের ‘তুই রাজাকার’ সংলাপটি বাংলার ঘরে ঘরেই পৌঁছে গিয়েছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার পটভ‚মি নিয়ে যে ধারার নাটক তৈরি হয়েছে সে ধারা কি এখনো বিদ্যমান রয়েছে? কিংবা বর্তমান সময়ের নাটকে আমাদের স্বাধীনতা কীভাবে ফুটে উঠছে? অনেকেই হয়তো একবাক্যে স্বীকার করবেন মুক্তিযুদ্ধের নাটকগুলোতে আর আগের মতো স্বাধীনতার রূপ উঠে আসছে না। কেবলই দুর্বল গল্পের উপস্থাপন। অনেকেই আবার এ কথার বিপক্ষেও মত দেবেন। আসল কথা হচ্ছে, স্বাধীনতার পটভ‚মি আর আগের মতো আমাদের নাটকে ফুটে উঠছে না। এ বিষয়ে নাট্যব্যক্তিত্ব ড. ইনামুল হক বলেন, আজকাল প্রায়ই দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ওপর সিম্বলিক নাটক নির্মাণ করা হচ্ছে; যা আমার কাছে হাস্যকর মনে হয়। দাড়ি-টুপি লাগিয়ে রাজাকার সাজিয়ে, বন্দুক কাঁধে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়ে নাটক বানানো যায়, কিন্তু তা মুক্তিযুদ্ধের নাটক হয় না। সেগুলোকে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা নাটক হিসেবেই মনে করি।

মুক্তিযুদ্ধের দর্শন বা চেতনাহীন নাট্যকর্মী দ্বারা যুদ্ধের নাটক তৈরি করা যায় না। কারণ হচ্ছে, নাটক দিয়ে আমরা মানুষের চেতনায় আঘাত করি। আমরা যদি এসব ঘটনা বিকৃত করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরি, তাহলে তাদের কচি মনে একটি ভুলের প্রলেপ পড়বে, যার প্রভাব পড়বে আমাদের জাতীয় জীবনেও। তিনি আরো বলেন, বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের নাটক আসা উচিত সেভাবে না এসে মানহীন বাস্তবতা বিবর্জিত নাটক তৈরি হচ্ছে, যা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার কাছে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয়।

তাছাড়া একমাত্র মার্চ ও ডিসেম্বর মাস এলেই মুক্তিযুদ্ধের নাটক প্রচার-মঞ্চায়নের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয় নির্মাতারা; যা আমার কাছে পিকুলিয়ার সাইকোলজি বলে মনে হয়। তবে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সিনিয়র নাট্যজনসহ মিডিয়ার ভ‚মিকা একান্ত প্রয়োজন বলেই মনে করেন তিনি। অভিনেতা ও নির্মাতা মামুনুর রশিদ বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকেই নাটকে মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য, আদর্শ ও চেতনা নিয়ে নাটক-সিনেমা নির্মিত হয়ে আসছে। সেই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এখনো। তবে সবকটিই যে এমন তা কিন্তু নয়; কিছু কিছু নির্মাতার তৈরিকৃত নাটক এখনো প্রশংসাযোগ্য। তাদের নাটকে এখনো স্বাধীনতার আসল চিত্র ফুটে উঠছে। এ বিষয়ে আমাদের তরুণ নির্মাতাদের সজাগ থাকার আহ্বান করছি আমি। মেলা প্রতিবেদক

এসআর